Exif_JPEG_420

লাকসামে মুক্তিযোদ্ধার সমাধির পাশে টয়লেট নির্মাণ

(Last Updated On: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯)

সেলিম চৌধুরী হীরা, লাকসামে বীরমুক্তিযোদ্ধা, কলেজ প্রতিষ্ঠাতার সমাধির ও শহীদ মিনারের পাশে টয়লেট নিমার্ণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বীরমুক্তিযোদ্ধা ও ফেনীর ফুলগাজি সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর বশির আহমেদ নিজ এলাকায় বাংলাদেশ রুরাল এসোসিয়েশন ফর ডেভেলমেন্ট (ব্রাড) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গঠন করেন। ব্রাড এর অর্থায়নে ১৯৯৪ সালে ১০৬ শতক ভূমিদানের মাধ্যমে ব্রাড মডেল কলেজ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কলেজটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ব্রাডের পরিচালনায় শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি ও এমপিও ভুক্তি লাভ করে। এমপিওভুক্তির পর তৎকালিন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাবশালী মহল প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে লাকসাম মডেল কলেজের নামে রূপান্ত করে। প্রতিষ্ঠাতা বশির আহমেদ কলেজের নাম পরিবর্তন ও কমিটি গঠনের বিষয়ে হাইকোর্টে দুটি রিট পিটিশন দায়ের পর আবেদনকারীর পক্ষে বিজ্ঞ আদালত রায় ঘোষণা করে। হাইকোর্টে রায় ঘোষণার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিহিংসাবশত প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলা চলাকালীন তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তার মৃত্যুর পর কলেজের পাশে তার লাশটি সমাহিত করার জন্য পরিবারের নিকট অছিয়ত করেন। অছিয়ত অনুযায়ী ওই মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ কলেজের পাশে সমাহিত করতে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ বাধা প্রদান করে। এসময় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবারের দাবীর মুখে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কলেজের পাশে মরদেহ সমাধিস্থ করা হয়। গত কয়েক দিন আগে প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে কলেজ কর্তৃপক্ষ মুক্তিযোদ্ধার সমাধি ও শহীদ মিনারের পাশে একটি টয়লেট নির্মান করে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।
মুক্তিযোদ্ধা ও কলেজ প্রতিষ্ঠাতা বশির আহমেদের স্ত্রী খোদেজা বেগম জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে নাম পরিবর্তন ও আমার স্বামীর নাম মুছে ফেলেছে এবং প্রতিহিংসা বশত আমার স্বামীর কবরের পাশে টয়লেট নির্মাণ করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করেছে। আমি তার প্রতিকার চাই।
যুদ্ধকালীন প্লাটোন কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন ননী জানায়, মুক্তিযোদ্ধার সমাধির পাশে টয়লেট নির্মান করা দৃষ্টিকটু। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে।
কলেজ অধ্যক্ষ আবু তাহের বলেন, কোন প্রতিহিংসাবশত নয়, কলেজের প্রয়োজনে এ টয়লেটটি করা হয়েছে। তার আগে মুক্তিযোদ্ধার কবরের পাশেই শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নামাজ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেজর (অবঃ) হাবিবুর রহমান মজুমদার বলেন, এটা একটা মিথ্যা অভিযোগ, আপনারা (সাংবাদিক) সরেজমিনে দেখে যেতে পারেন। কবরের পাশে শিক্ষার্থীদের নামাজ রুম তারপর টয়লেট। এ ঘটনা শুনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাও পরিদর্শন করে গেছেন। সাংঘর্ষিক কিছু তাকলে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ করতেন।
লাকসাম উপজেলা র্নিবাহী অফিসার এ.কে.এম সাইফুল আলম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ আমি পাইনি। আগে আমার দপ্তরে অভিযোগ আসুক, তারপরে বিষয়টি দেখবো।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.