আমার ভোটাধিকার হরণ দিবস

(Last Updated On: মার্চ ১৭, ২০১৯)

মোবারক হোসেন, ১৫ মার্চ। আমার ভোটাধিকারহরণ দিবস।২০১৪ সালের এই দিনে বুড়িচং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দিন ভোট শুরুর পুর্বেই আমাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার ভোটাধিকার হরন করে। দিবসটি উপলক্ষে আমি ও আমার পরিবার ঘরোয়া আড্ডায় মিলিত হই। ৫ম শ্রেনি পড়ুয়া আমার ছেলে সাইফুল্লাহ রাইয়ান আমাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া নেতাকে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে। আড্ডায় উপস্হিত ছিলেন আমার মা রাজিয়া খাতুন,স্ত্রী তাসলিমা আকতার,ছেলে সাইফুল্লাহ রাইয়ান,তাহসিন রাহমান।

আড্ডায়  ডাকসু ভিপি হিসেবে নুরুল হক নুরু সহ সকল নির্বাচিতদের শুভেচ্ছা জানানো হয়। পাশাপাশি নির্বাচনে কিছু অনিয়মের বিঢয়গুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্হা নেয়ার দাবী জানানো হয়। ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার ও ভিসিকে অভিনন্দন জানানো হয়।

আড্ডার পর বুড়িচং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ৫৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭ টি কেন্দ্র দখলের পরও বিজয়ী চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাই।এবং রাত ১০ টা পর্যন্ত আড্ডা দেই।

ভোট দিতে না পারার লজ্জায় গত ৫বছর ( আমার চাচার মৃত্যু ও ছোট ভাইয়ের বিয়ে ছাড়া) বাড়ীতে আর যাওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য নির্বাচনের দিন সকাল ৭টায় আমি দিতে আঞ্জাপুর মোরশেদা বেগম স্কুল  কেন্দ্রের সামনে অবস্হান করি। এমন সময় এক প্রার্থী এসে আমার সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্ট ও সমর্থকদের কেন্দ্র মারধর করে বের করে দেয়।পরবর্তিতে আমাকে প্রাথী অস্ত্র তাক করে ধমকাতে থাকে। আমি ভয়ে ও লজ্জায় অশ্রুসিক্ত নয়নে স্হান ত্যাগ করি। আর আমার চোখে অস্রু দেখে আমার ছেলে সাইফুল্লাহ রাইয়ান( তখন ১ম শ্রেনির ছাত্র) ও স্তী কান্নায় ভেংগে পড়ে। আমি ফোন করি মিজান চেয়ারম্যানকে,তিনি বললেন বিজয় আমার হবে যা ইচ্ছা করুক। আপনি নিরাপদে থাকুন।

আমি আবেগতাড়িত হয়ে ভয়ে লুকিয়ে আমরা কুমিল্লায় চলে আসি।  তারপর থেকে আমার সন্তানের অনুরোধে আমার বাড়ী যাওয়া হয়নি। ভোটও আর দেয়া হয়নি।

তবে ডাকসু নির্বাচনের ভোটের পর আমি আশাবাদী হয়ে উঠেছি। হয়তো ভোট দিতে পারবো। নুরুর সাহস আমাকে সাহসী করে তুলছে। ঢাবিয়ানরাদের মাঝে আমি সাহস দেখি।

আপনারা ভাল থাকুন

সুস্হ থাকুন।

ভাল থাকুন আমার গ্রামবাসী।

মোবারক হোসেন, গণমাধ্যম কর্মী।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.