ব্রেক্সিটে তিন মাস বিলম্ব চেয়ে ইইউ’কে মে’র চিঠি

(Last Updated On: মার্চ ২১, ২০১৯)

ব্রেক্সিটের সময় তিন মাস বাড়ানোর অনুরোধ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ইউরোপিয় ইউনিয়নকে (ইইউ) চিঠি পাঠিয়েছেন।

পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আগামী ২৯ মার্চ ইইউ’র সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া (ব্রেক্সিট) চূড়ান্ত করার কথা ছিল। কিন্তু দেশটি এখনো কোনো ব্রেক্সিট চুক্তিতে উপনীত হতে পারেনি।

মে সর্বশেষ দুই দফা তার খসড়া ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে পার্লামেন্টে হাজির হলেও তা বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর তৃতীয় আরেকটি ভোট কার পরিকল্পনাও ব্যর্থ হওয়ার পর মে ইইউ এর কাছে এ সময় চাইলেন।

বিবিসি জানায়, ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের কাছে বুধবার লেখা চিঠিতে মে ব্রেক্সিট চুক্তিতে পার্লামেন্টের অনুমোদন পেতে তার আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন। তিনি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছেন।

তবে ইইউ বলেছে, তারা সময় ২৩ মে’র বেশি নাও বাড়াতে পারে। ব্রেক্সিটে যে কোনোরকম বিলম্বের ক্ষেত্রে ইইউ’র ২৭ টি সদস্যদেশই একমত হতে হবে।

চিঠিতে মে লেখেন, তিনি ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে এ সপ্তাহে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউসস অব কমন্সে ভোট করতে চাইলেও স্পিকারের বাধার কারণে তা পারেননি। কিন্তু চুক্তিটি আবার ভোটের জন্য কমন্সে তোলার ইচ্ছা তার আছে। চুক্তিটি পাস হলে তা অনুমোদন করতে পার্লামেন্টের আরো কিছু সময় দরকার হবে।

মে পার্লামেন্টে এমপি দেরকে বলেছেন, ৩০ জুনের পর সময় বাড়লেও এমনকী তখন পর্যন্তও যদি চুক্তিতে পৌঁছা না যায় তবুও চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট হবে না।

মে বরাবরই ২৯ মার্চেই ব্রেক্সিট সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়ে আসলেও সুশৃঙ্খলভাবে ব্রেক্সিটের জন্য বিকল্প হিসাবে ব্রেক্সিট চুক্তি নিশ্চিত করাটাই তার ইচ্ছা। কিন্তু তা এখনো না হওয়াতেই তার এ দেরীর অনুরোধ।

তবে বেশি দেরীও তিনি করতে চান না। তার কারণ, আগামী মে মাসে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট নির্বাচন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মে ওই নির্বাচনে যুক্তরাজ্যের অংশ নেওয়া এড়াতে চাইছেন।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আগামী ৩০ জুনের পর আর দেরি করতে চাই না।”সেক্ষেত্রে ৩০ জুনের মধ্যে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারলে মে পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট করে ব্রেক্সিটের সময় তিন মাস বাড়ানোর অনুরোধকে স্বাগত জানিয়েছে জার্মানি। বুধবার বার্লিনের মুখপাত্র স্টেফেন সেইবার্ট বলেন, আমরা আবারো মনে করিয়ে দিতে চাই ‘চুক্তিহীন ব্রেক্সিট কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে না’।

স্পেনও সময় বাড়ানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত হবে ২৯ মার্চের পরে।

যদিও হাতে পাওয়া নথিপত্রের ভিক্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইউরোপীয় কমিশন মে’র তিন মাস সময় বাড়ানোর অনুরোধে সড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেপ বোরেল রয়টার্সকে বলেছেন, “জানেন তো, ইউরোপে আমরা সব সময় শেষ সময়ে একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারি।

“আগামী সপ্তাহে আমাদের সামনে এরকম আরো একটি উপলক্ষ্য তৈরি হতে যাচ্ছে, যেখানে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে হবে।”

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.