সর্বশেষ সংবাদ

মনিটরিং হচ্ছে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মকাণ্ড

(Last Updated On: মে ১২, ২০১৯)

উপদেষ্টা কালের কণ্ঠ:  বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মকাণ্ড মনিটরিং হচ্ছে। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিয়মিত তদারকির বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মনিটর করছে সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড। উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে এবং নিয়মিত তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

প্রথম চার মাসে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সম্পর্কে জমা পড়েছে অনেক তথ্য। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ছাড়াও অনেকের ব্যক্তিগত অনেক চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। কোন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর হয়ে কে কে তদবির করেন সব তথ্য সংস্থাগুলোর মাধ্যমে জানতে পেরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদেশে বসে কোন মন্ত্রীর পরিবারের কোন সদস্য তদবিরের সঙ্গে যুক্ত তাও নজরে এসেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঘোষিত আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়। ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী ওই ইশতেহারে উল্লেখ ছিল মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে। সরকার গঠনের শুরুতেই আওয়ামী লীগের পুরনো ও বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হলে চমক সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপেক্ষাকৃত তরুণদের নিয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভার সদস্যদের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে দৃঢ় সঙ্কল্প ব্যক্ত করেন।

গত ২১ জানুয়ারি টানা তৃতীয় মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে আপনারা সম্পদ বাড়াতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আমার মনিটরিংয়ের বাইরে কেউ থাকবেন না। আমি প্রতিমুহূর্তে মনিটর করব। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকতেও বলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধানমন্ত্রীর একজন জানান, এ সরকারের শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটর করছে। তারা প্রতি এক মাস পর পর কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন সংগ্রহ করছে এসব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার কাছ থেকে, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়মিত অবহিত করা হয়। সাধারণত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

মন্ত্রণালয়ের কাজ তদারকি করে থাকে। নতুন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও এ কাজটি শুরু করেছে। এর বাইরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সব কর্মকাণ্ডের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কুইক ফলোআপের ওপর জোর দিচ্ছেন। মন্ত্রিসভায় যত সিদ্ধান্ত হয়, বা বিদেশ সফরে সরকারপ্রধানের সঙ্গে যে আলোচনা হয় তার দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা কুইক ফলোআপ করা হচ্ছে।’

এদিকে সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার আগের বছরের তুলনায় কম দেখা গেছে। গত ৮ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক হয় পাঁচটি। এসব বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ৩৬টি এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয় ২৪টি (৬৬.৬৭ শতাংশ)। গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছিল সাতটি। সেসব বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ৬৩টি, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছিল ৪৩টি (৬৮.২৫ শতাংশ)। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার গত বছরের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ কম।

সূত্র জানায়, ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরে অবৈধ স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই কর্ণধারের (মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী) বিরোধ প্রকাশ্যে আসায় ক্ষুব্ধ সরকারের হাইকমান্ড। এ কারণে এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড গতিহীন হয়ে পড়ায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.