অপশক্তির  ষড়যন্ত্র রুখতে হবে

(Last Updated On: মে ৩১, ২০১৯)

এম এ কাশেম: ধর্ম পালন করে একজন খাঁটি মানুষ হওয়ার চেষ্টা করা প্রত্যেকের উচিৎ কিন্তু  বক ধার্মিক সেজে জঙ্গিবাদী হওয়া বা জঙ্গিবাদকে যেকোন ভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় সহযোগিতা করে দেশ-জাতি-সমাজ (সেটা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের হউক না কেন)  অস্থিতিশীল করা, প্রকারান্তরে ধর্মের সাথে প্রতারণা করা।

ধর্মীয় লেবাসে দেশের বিরুদ্ধে জনমত গড়তে গোষ্ঠীবদ্ধভাবে সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নানা প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দেখা যায়।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপে আসা বাংলাদেশিদের একটি অংশ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উগ্রবাদ প্রচারণায় ব্যস্ত। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি দেশের মৌলিক স্তম্ভগুলো আঘাত করে প্রচারণা চালাচ্ছে তারা। এই সব গোষ্টীর বড় অংশটির ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল ঘেঁটে ভয়ানক উগ্র-মানসিকতার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। আবার আরেকটি বড় অংশ নীরবে সেসব উগ্রবাদী পোস্টে লাইক দিয়ে কিংবা কমেন্ট করে তাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

ইউরোপে জামায়াত শিবিরের বহু নেতা কর্মী রয়েছে। তারাই নানা কৌশলে  কমিউনিটিতে ষড়যন্ত্রের বীজ বুনছে। তারা নিজেদের দল ভারী করার জন্য সামাজিক কর্মকান্ডের নামে ধর্মের নানা অনুষঙ্গ ব্যবহার করে প্রবাসী নতুন প্রজন্মকে  কাছে টানার চেষ্টা করছে। যেমন ফুলকুড়ির মাধ্যমে দেশে এ কাজটি তারা করতো। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংহতি বাড়ানোর জন্য প্রতি সপ্তাহেই ‘গেট টুগেদার’-এর আয়োজন করে। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রায়ই ঘুরে বেড়ায়। তেমনি ফ্রান্সের প্যারিসেও  বিশেষ করে যেখানে উগ্র-মৌলবাদী মতাদর্শীর প্রভাব বেশি, সেখানে গেট টুগেদার একটি নৈমিত্তিক ঘটনা। রমজান মাসে ইফতার মাহফিলের নামে তহবিল সংগ্রহের কাজও তারা করছে। তহবিলের একটি অংশ চলে যাচ্ছে দেশের জঙ্গীদের হাতে। অনেকেরই ধারণা, ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মীদের এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য যুক্তরাজ্য ভিত্তিক জামায়াত থেকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। প্যারিসে একটি ধর্মীয় সেন্টার ও বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপকর্মগুলো যৌথ ভাবে পরিচালনা করা হয়। ফ্রান্স থেকে পরিচালিত বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপ,পেইজ ইতিমধ্যে সচেতন মহলের নজরে এসেছে। এই সব গ্রুপ,পেইজ থেকে প্রকাশ্যে ও গোপনীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রের নামে বিষোদগার করে বিদেশিদের কাছে জামায়াত-বিএনপি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তাদের কর্মকাণ্ড দেখে বিদেশিরা বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পাচ্ছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যে উগ্রবাদের চাষাবাদ হচ্ছে তাতে মুষ্টিমেয় চিহ্নিত কিছু লোক ইন্ধন জোগাচ্ছে সে বিষয়ে সম্যক ধারণা ফ্রান্স বাংলাদেশ দূতাবাসের আছে বলে মনে হয় না!

ইসলামিক, খৃস্টান, ইহুদি,  হিন্দু, বৌদ্ধ গোঁড়া মৌলবাদী, জঙ্গি/টেররিস্ট ইত্যাদির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। কোন ধর্মই চরমপন্থা কিংবা অসহিষ্ণুতা প্রশ্রয় দেয়না। বিশেষত কিছু উগ্রবাদী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ তাদের নিজেদের সুবিধার জন্য ধর্মকে নিজেদের মত করে ব্যবহার করে। তাদেরকে এখনই চিহ্নিত করে দেশ ও বিদেশের সরকারের উর্ধতন মহলের নজরে আনতে হবে। দেশের বিরুদ্ধে প্রচারণা রুখতে সম্মিলিত ভাবে আমাদের কে কাজ করতে হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উম্মোচন করতে হবে। সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।

জয় হোক মানবতার।

 

এম এ কাশেম।

প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সিনিয়র সহসভাপতি  ফ্রান্স আওয়ামী লীগ।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.