নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ব্রেক্সিট : বরিস জনসন

(Last Updated On: জুলাই ২৬, ২০১৯)

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বেঁধে দেওয়ার সময়ের মধ্যে সম্ভব হলে আরো আগেই ব্রেক্সিট নিশ্চিত করতে চান ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে তিনি এ অঙ্গীকার করেন। অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন।

জনসন গত মঙ্গলবার কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান নির্বাচিত হন। পরদিন বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কাছে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হস্তান্তর করেন টেরেসা মে। আর মন্ত্রিসভায় রদবদল শেষে গতকাল জনসন সভার প্রথম বৈঠক সেরে ফেলেন।

বৈঠকে নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, দেশের ইতিহাসের এক ঘটনাবহুল মুহূর্তে আমাদের সামনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ আছে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে অথবা আরো আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের জন্য আমরা সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ। কোনো যদি নয়, কোনো কিন্তু নয়।’

ব্রেক্সিটপন্থীদের জন্য জনসনের এ অঙ্গীকার আশাজাগানিয়া হলেও মন্ত্রিসভায় এত দ্রুত বড় ধরনের রদবদলে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম এমন অভিযোগও করছে, ভিন্নমত পোষণকারী ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে গডফাদার স্টাইলে প্রতিশোধ নিচ্ছেন জনসন।

আমাদের লন্ডন প্রতিনিধি জানান, নতুন প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভায় এরই মধ্যে ১৭ জন নতুন মুখ নিয়োগ দিয়েছেন। তাঁরা সবাই কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী। তাঁদের মধ্যে তিনজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত।

বিদায় নেওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন হলেন পররাষ্ট্র দপ্তরের জেরেমি হান্ট। সদ্য সাবেক এ মন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁকে অন্য দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। হান্টের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ডমিনিক রাব। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রীতি প্যাটেল। অর্থমন্ত্রী হয়েছেন সাবেক ব্যাংকার সাজিদ জাভিদ।

সাংবাদিকতার মাধ্যমে পেশাজীবন শুরু করে শেষমেষ দেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব অর্জন করা জনসন অঙ্গীকার করেছেন, ইইউর সঙ্গে চুক্তি হোক বা না হোক, তিনি ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ওই জোট থেকে ব্রিটেনকে বের করে আনবেন। এর আগে দুবার ইইউর বেঁধে দেওয়া সময় অনুসারে ব্রেক্সিট কার্যকরে ব্যর্থ হন তাঁর পূর্বসূরি টেরেসা মে। কারণ মে চেয়েছিলেন অর্থনীতি, বাণিজ্যসহ নানা বিতর্কিত ইস্যুতে ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনের চুক্তি হোক। সেটা করতে না পারায় ব্রেক্সিটও কার্যকর করতে পারেননি তিনি। কিন্তু জনসন ব্যর্থ হতে চান না। ইইউর সঙ্গে কোনো বোঝাপড়া না হলেও তিনি এবার ব্রেক্সিট কার্যকর করে দেখাতে চান। তাঁর যুক্তি, ব্রিটেন কোনো চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় জোট ছাড়ার পথে এগোলে তখন ইইউ নেতারা নমনীয় হবেন এবং ব্রিটেনের জন্য আরো সুবিধাজনক চুক্তিতে তাঁরা রাজি হবেন।

ব্রেক্সিটের ব্যাপারে জনসন কঠোর হলেও চুক্তি ছাড়া ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে আগ্রহী নন অনেকেই। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাডকার। তাঁর যুক্তি, ইইউর সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকর করা হলে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আয়ারল্যান্ড। তাই গত বুধবার তিনি খোলাখুলি বলেছেন, জনসনের আপোষ করা দরকার।

সব বিতর্ক আর বাধা পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট নিশ্চিত করতে পারলেই জনসন পার পেয়ে যাবেন, তা কিন্তু নয়। তাঁর সামনে আছে ইরান, চীনসহ আরো অনেক ইস্যু, যেগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে তাঁকে একই সঙ্গে ভাবতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ও। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.