ইতালির মিলানে শোক দিবস পালন

(Last Updated On: August 16, 2019)

 জালাল হাওলাদার, মিলান, ইতালিঃ  জাতীয় শোক দিবস পালন ১৫ আগস্ট পালন করেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল মিলান ।  সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে কনস্যুলেট কর্তৃক আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, মোনাজাত, এক মিনিট নিরবতা পালন, বিশেষ প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন এবং আলোচনা সভা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কনসাল জেনারেল ইকবাল আহমেদ কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবাসী বাঙ্গালীদের নিয়ে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অতঃপর কনস্যুলেট-এর কর্মকর্তাগণ কর্তৃক মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ই আগস্ট এর সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে কোরানখানি ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং তাঁর সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। কনসাল জেনারেল তাঁর বক্তব্যে এ দিনের ঘটনা পরম্পরা এবং বাঙ্গালী জাতির জীবনে এ বিয়োগান্তক ঘটনার সুদূর প্রসারী নেতিবাচক প্রভাবের দিক তুলে ধরে বলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের মধ্যে যারা এখনো বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রবাসীদেরও নিজেদের অবস্থানে থেকে ভূমিকা পালনের চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, তাঁর সমগ্র সত্তা জুড়ে ছিল বাংলা ও বাংলাদেশ। সে কারণেই তাঁর নৈমিত্তিক উচ্চারণ ছিল “সোনার বাংলা” এবং তাই জাতীয় সঙ্গীত হিসেবেও “আমার সোনার বাংলা” এই গানটি নির্বাচন করেন। তাঁর নির্মম হত্যাকান্ডের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়লেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশকে উন্নয়নের অনন্য মাত্রায় অধিষ্ঠিত করেছেন। কনসাল জেনারেল সরকার কর্তৃক গৃহীত নানা উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য প্রবাসীদের উদাত্ত আহবান জানান এবং বলেন এতেই বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ সার্থকতা পাবে। আলোচনা পর্ব শেষে আগত অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে সভা সমাপ্ত করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.