তনু হত্যার দুই সন্দেহভাজন এখন আর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে নেই

(Last Updated On: আগস্ট ২৯, ২০১৯)

ডয়চে ভেলে; কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার তিন বছরে কেউ গ্রেপ্তার না হলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশা করছেন যেকোনো সময় কিছু একটা পেয়ে যাবেন৷

আর এই মামলায় প্রধান দুই সন্দেহভাজন কুমিল্লা ক্যান্টমেন্টের সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদ এরইমধ্যে বদলি হয়ে গেছেন৷
২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়৷ রাত ১১টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকেই তার লাশ উদ্ধার করা হয়৷ তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের অফিস সহায়ক৷ তিনি সপরিবারে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসায়ই থাকেন৷
মামলার এজহারে তখন কাউকে আসামি করা না হলেও তনুর বাবা ডয়চে ভেলেকে জানান,‘‘আমরা দু’জনকে সন্দেহ করি বলে সিআইডিকে বার বার জানিয়েছি৷ আমি মনে করি তারা এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জানেন৷ তারা হলেন সার্জেন্ট জাহিদ এবং সিপাহি জাহিদ৷ সার্জেন্ট জাহিদের বাসায়ই সর্বশেষ আমার মেয়ে ছিলো৷ তার ছেলেকে পড়াতে গিয়েছিল৷ এরপর থেকে আমার মেয়ে নিখোঁজ এবং রাতে লাশ পাওয়া যায়৷ তাহলে আমরা আর কার কথা বলব! সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় যাওয়ার আগে সে  সিপাহি জাহিদের বাসায় পড়াতে যায়৷’

তিনি সন্দেহের আরো কারণ হিসেবে বলেন,‘‘আমার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর ওই দু’জন কোনো খোঁজ নেয়নি৷ এমনকি লাশ পাওয়ার পরও তারা আসেনি৷ তারা আমাদের সাথে আর দেখাও করেনি৷’’
তিনি অভিযোগ করেন,‘‘গত এক বছর ধরে সিআইডি মামলার ব্যাপারে আমাদের সাথে কোনো কথা বলেনি৷ এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করেনি৷ আর ওই দু’জন সন্দেহভাজন এখন আর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে নেই তারা ঢাকায় বদলি হয়ে গেছেন৷ তাদের জিজ্ঞাসাবদ করা হয়েছে কিনা আমি জানিনা৷ তবে আমাদের পরিবারের আত্মীয়- স্বজনসহ ১০-১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে৷’’
অবশ্য মামলার তদন্ত সংস্থা কুমিল্লা সিআইডি বলছে, তারা এপর্যন্ত সামরিক বেসামরিক মিলিয়ে প্রায় দুইশ’ লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে৷ আর সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদকে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে৷ জিজ্ঞাসাবাদ এখনো চলছে ৷
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এডিশনাল এসপি জালালউদ্দিন আহমেদ বলেন,‘‘যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি তাদের মধ্যে প্রায় একশ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য রয়েছে ৷ তবে কোনো ক্লু পেয়েছি কিনা তা এখনো বলা যাবেনা৷ আমরা ডিএনএ রিপের্টের জন্য অপেক্ষা করছি৷ আমার যেসব আলামত জব্দ করেছি তার কিছু ফরেনসিক রিপোর্টও আমরা এখনো পাইনি৷ তার(তনু) মোবাইল ফোন থেকে আমরা প্রায় সাড়ে চার হাজার কললিস্টের তথ্য সংগ্রহের জন্য পাঠিয়েছি৷ এগুলো করতে সময় লাগে৷ আমরা যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি তাদের আবার শর্টলিষ্ট করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷’’

সার্জেন্ট জাহিদ এবং সিপাহি জাহিদকে কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন,‘‘নিহত হওয়ার আগে এই দুই জনের বাসায়ই তনু সর্বশেষ গিয়েছেন৷ সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা বা সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ছিলো৷ এখান থেকেই সে নিখোঁজ হয়৷ আর সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় যাওয়ার আগে সে সিপাহি জাহিদের বাসায় যায়৷ দু’টি বাসা মুখোমুখি৷ সিপাহি জাহিদের বাসায় পড়িয়ে সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় যায়৷ সেখান থেকে সন্ধ্যায় বের হওয়ার পর তনুর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি৷ এরপর রাত ১১টার দিকে তার লাশ পাওয়া যায়৷’’
সার্জেন্ট জাহিদ এবং সিপাহি জাহিদ ঢাকায় বদলি হয়ে হয়ে গেছেন বলে জানান তিনি৷
ওই দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সন্দেহ করার মত কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কিনা তারা জড়িত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘‘সেটা এভাবে টেলিফোনে বলা যাবে না৷ আমরা আশা ছেড়ে দেইনি৷ যেকোনো সময় একটা কিছু পেয়ে যাব ইনশাল্লাহ৷’’
এদিকে তনু হত্যার বিচার দাবিতে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলো কুমিল্লার গণজাগরণ মঞ্চ৷ এর আহ্বায়ক খায়রুল আনাম রায়হান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘সিআইডির কাছে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে গেলে তারা আমাদের সাথে দেখা করেন না৷ আর তারা যাদের ডিএনএ টেস্টের কথা বলছেন তাদের মধ্যে কুমিল্লার কয়েকজন থিয়েটার কর্মীও আছেন যারা তনুর সাথে কাজ করত৷ এদিক সংস্থাটি তনুর পরিবারের সদস্যদের বার বার জিজ্ঞাসাবাদ করে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে৷’’
এদিকে কাদের ডিএনএ টেস্ট করা হচ্ছে সে তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে সিআইডি৷

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.