ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির পরিবারই ‘রাষ্ট্রহীন’

(Last Updated On: September 2, 2019)

যুগান্তর: আসামের নাগরিক তালিকা হালনাগাদ করা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। আসামের স্থানীয় ছাত্র ও রাজনৈতিক দল ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি দাবি করে আসছিল, আসামকে বিদেশিমুক্ত করতে নাগরিক তালিকা চূড়ান্ত করা দরকার।

শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সেই বিজেপি ও স্থানীয় সংগঠনগুলো এনআরসির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তালিকায় স্থান হয়নি সাবেক রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক, কারগিল যুদ্ধে অংশ নেয়া সেনা কর্মকর্তা এবং বিজেপি নেতাদের স্ত্রীদের। খবর এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডের।

সাবেক রাষ্ট্রপতির পরিবার : আসামের চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জিতে নাম ওঠেনি ভারতের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আহমেদের স্বজনদের। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন।

ফখরুদ্দিনের নাম থাকলেও তার ছোট ভাই এহতারামুদ্দিনসহ পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম নেই। এহতারামুদ্দিন ও ফখরুদ্দিনের বাবা জালনুল আলি আহমেদ ছিলেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক, যিনি সেনাবাহিনী থেকে কর্নেল হিসেবে অবসর নিয়েছিলেন।

আসামের প্রথম চিকিৎসক ছিলেন জালনুল। খসড়া তালিকাও তাদের নাম ছিল না। এহতারামুদ্দিনের ছেলে জিয়াউদ্দিন আলি আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা যথাযথ নথিপত্র পেশ করলেও চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি তাদের।

কারগিল যুদ্ধের সেনা : ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জুনিয়র কমিশনড অফিসার (জেসিও) মোহাম্মদ সানাউল্লাহ আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় স্থান পাননি। এই সেনা কর্মকর্তার তিন সন্তান, দুই মেয়ে ও এক ছেলের নাম তালিকায় নেই। কিন্তু তালিকায় স্ত্রীর নাম রয়েছে। ১৯৮৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কারগিল যুদ্ধে অংশ নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদকও পেয়েছেন।

বিধায়ক অনন্ত কুমার মালো : আসামের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের বিধায়ক অনন্ত কুমার মালোর নাম তালিকায় নেই। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি ভারতীয় আর আমার বাপ-দাদারাও। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমি জানি না কেন আমি, আমার সন্তান ও নাতির নাম এনআরসি তালিকায় আসল না।’

সাবেক বিধায়ক ও কংগ্রেস নেতা : সাবেক বিধায়ক ও কংগ্রেস নেতা আতাউর রহমান ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নাম নেই তালিকায়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গভীর চক্রান্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

আতাউর জানান, ১৯৪৬ সালে তার পিতা জমি কিনেছিলেন, সেই দলিল রয়েছে। তাকে টার্গেট করে এনআরসি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়াতে তার পরিবারের সবার নাম ছিল।

আসামের একমাত্র নারী মুখ্যমন্ত্রী : সাবেক নারী মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দা আনোয়ারা তৈমুরের নামও আসেনি। গত বছরের জুলাইয়ের খসড়া তালিকাতেও তার নাম ছিল না। ওই সময় অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী তৈমুর জানিয়েছিলেন, তিনি দেশে ফিরে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

তালিকায় নেই স্থানীয় বিজেপি নেতা : অনেক বিজেপি নেতা ও তাদের স্ত্রীর নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। বাদ পড়েছে শিলচরের বিধায়ক দিলীপ পালের স্ত্রী অর্চনা পালের নাম। তালিকায় নাম নেই কাটিগড়া মণ্ডল বিজেপি সভানেত্রী ববিতা পাল, যুবমোর্চা সভাপতি বিশালাক্ষ (বাবলা) দেবের স্ত্রী প্রতিমা দেব, জেলা বিজেপির কার্যকরী সদস্য নির্মলেন্দু চক্রবর্তীর স্ত্রী অলি ভট্টাচার্যের।

পশ্চিম কাটিগড়ার সিআরপিএফ জওয়ান কাশ্মীর সীমান্তে কর্মরত সুমন দাস, তার বাবা সমর দাস ও সন্তানের নাম নেই তালিকায়।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.