অর্থ মন্ত্রীর ৩ সহদরই আ. লীগ সভাপতি, এপিএস সা: সম্পাদক

(Last Updated On: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯)

অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল(লোটাস কামাল) কুমিল্লা নিজে কুমিল্লা জেলা দক্ষিন আওয়ামী লীগের সভাপতি , তার বড় ভাই আব্দুল হামিদ সদ্য গঠিত লালমাই উপজেলা সভাপতি আর ছোট ভাই গোলাম সারওয়ার একই সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি , সদর দক্ষিন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদ্যঘোষিত সদর দক্ষিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ।

বড় ভাই আবদুল হামিদ কুমিল্লা দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যও পদেও রয়েছেন ।

 

গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত সদর দক্ষিন উপজেলা আওয়ামী লীগের হঠাৎ করে হওয়া এই সম্মেলনে কেন্দ্রিয় কোন নেতাতো ছিলেন না খোদ  জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি লোটাস কামাল ও সাধারন সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবকেও দেখা যায়নি। অথচ জেলার অন্য সকল উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এক ঝাক কেন্দ্রিয় নেতাদের দেখা গেছে ।

অন্য দিকে লালমাই ও নাঙ্গলকোট উপজেলায় সম্মেলন ছাড়াই পকেট কমিটি দেওয়া হয়েছে !

সদর দক্ষিন উপজেলা ভাগ হয়ে লালমাই উপজেলা হলে ভোটার তালিকায় ঠিকানা পরিবর্তন করে সদর দক্ষিনের ভোটার হয়ে ছোট ভাই গোলাম সারোয়ার ৩য় বারের মত এখানে চেয়ারম্যান হন । অথচ এই অঞ্চলে অনেক ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতা রয়েছেন। কেউ ভয়ে এখানে মুখ খোলার সাহস করে না ।

কুমিল্লা সদর দক্ষিন , লালমাই ও নাঙ্গলকোট উপজেলার বিভিন্ন কমিটির বিভিন্ন পদে বিএনপি- জামাত ঘরোনার লোকজনের আবস্থান বেশ । ইতিপূর্বে  সম্মেলন ব্যতীত ঘোষিত নাঙ্গলকোট কমিটিতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক নুরুল উল্লাহকে যুগ্ন সাধারন সম্পাদক করা হয়েছে ।

অর্থমন্ত্রীর এ পি এস রতন কুমার সিংহ লালমাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, আর বড় ভাই আব্দুল হামিদের ছেলে কামরুল ইসলাম শাহিন প্রস্তাবিত জেলা আওয়ামী যুব লীগের সভাপতি ।

লোটাস কামালের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য জেলা আওয়ামী লীগে অনেক জাঁদরেল নেতা দলীয় রাজনীতি থেকে ছিঁটকে পড়েছেন । তিনি নিয়ম করলেন মহানগরের কোন লোক জেলা কমিটিতে থাকতে পারবে না তাই তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের দু প্রভাবশালী যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ আফজল খান ও সফিকুল ইসলাম সিকদার সহ অনেক দুর্নিনের ত্যাগী নেতাকর্মী পদ বঞ্চিত হয়ে ক্ষোভে দিনাদিনপাত করছেন । অথচ নারায়নগঞ্জের সিটি মেয়ের সেলিনা হায়াত আইভী মহানগরের বাসিন্দা হয়েও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দ্বায়িত্বে আছেন । আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র একই ব্যক্তি দলীয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারবে না অথচ অর্থমন্ত্রী দলীয় ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছোট ভাই কে একই সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বানিয়ে দলের গঠনতন্ত্রের প্রতি বৃদ্ধা আংঙ্গুলী প্রদর্শন করেন । দলীয় কর্মীরা লোটাস কামালের এমন হেন কর্মে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ।জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হলেও জেলা কমিটির নেতাদের কঠিন বিপদেও কাছে পাওয়া যায়না লোটাস কামালকে ।

১৯৯৪ সালের ৩১ অক্টোবর এই এলাকার সেই সময়ের জনপ্রিয় নেতা অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার মারা যাওয়ার পর রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৯৬ সালে এমপি নির্বাচিত হন লোটাস কামাল

২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারালে লোটাস কামাল জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়ে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.