র‌্যাব হেডকোয়ার্টারসহ সরকারের ১৭ প্রকল্পের কাজ শামীমের হাতে

(Last Updated On: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯)

জধানীর নিকেতনে যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের অফিসে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব হেড কোয়ার্টার,সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল,পঙ্গু হাসপাতাল, সচিবালয়সহ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজের একটি তালিকা পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তার মালিকানাধীন জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের নামে তিনি এসব কাজ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া ওই অফিস থেকে নগদ টাকা ও স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজসহ অস্ত্র ও মদের বোতল পাওয়া গেছে।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে জি কে শামীমের নিকেতনের ডি ব্লকের ৫ নম্বর রোডের ১৪৪ নম্বর বাসায় অভিযান চালান র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এর আগে নিকেতনে এই যুবলীগ নেতার ১১৩ নম্বর বাসা থেকে তাকে ডেকে আনা হয়।

চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ থাকা রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত শামীম। আজ বিকেল ৪টায় অভিযান শেষে শামীমসহ ৮ জনকে আটক করার কথা জানায় র‍্যাব।

অভিযানে এক কোটি ৮০ লাখ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) পাওয়া যায়, যার মধ্যে তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি ও ২৫ কোটি টাকা তার নামে।

শামীমের নিজ কোম্পানির নামে তালিকায় থাকা প্রক্ল্পগুলোর তথ্য র‌্যাবকে সরবরাহ করে অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা। দিদার নামে শামীমের একজন পিএসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানায়, পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকার র‌্যাব হেডকোয়ার্টার, ৪০০ কোটি টাকায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও ৪০০ কোটি টাকায় পঙ্গু হাসপাতালের মত বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কাজ পেয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া ১৫০ কোটি টাকার সচিবালয় কেবিনেট ভবন, ৪০০ কোটি টাকার এনবিআর, ২০০ কোটি টাকার মহাখালী ডাইজেস্টিভ এবং বেইলি রোডে ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে তার হাতে।

পাশাপাশি ২০-২৫ কোটি টাকার অ্যাজমা, ২০-২৫ কোটি টাকার ক্যানসার, ২০-২৫ কোটি টাকার সেবা মহাবিদ্যালয়, ১০০ কোটি টাকার নিউরোসাইন্স, ১০০ কোটি টাকার বিজ্ঞান জাদুঘর, ১২ কোটি টাকার পিএসসি, ৩০-৬০ কোটি টাকার র‌্যাব ফোর্স, ৬৫ কোটি টাকার এনজিও ফাউন্ডেশন এবং মিরপুর-৬ তে ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ রয়েছে এই তালিকায়।

সূত্র – আমাদের সময় ।

কে এই শামীম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের তিন ছেলের মধ্যে শামীম দ্বিতীয়।

কয়েক বছর আগেও বাসাবো কদমতলার একটি বাড়িতে থাকতেন শামীম। এখন থাকেন বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসে নিজের ফ্ল্যাটে। আর নিকেতনে ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর ভবনটি তিনি তার জি কে বিল্ডার্স অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন।

এর বাইরে বাসাবো, ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি বাড়ি এবং বিভিন্ন স্থানে শামীমের নামে প্লট ও জমি থাকার তথ্য এসেছে গণমাধ্যমের খবরে। ঢাকা চেম্বারের সদস্যদের তালিকাতেও তার নাম রয়েছে।

শামীমের চলাফেরার সময় শটগানধারী ছয় দেহরক্ষীর ‘প্রটেকশন’ নিয়ে শুক্রবার সকালেই কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এরকম কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, গণপূর্ত ভবনের ‘বেশিরভাগ ঠিকাদারি কাজই’ জিকে শামীম নিয়ন্ত্রণ করেন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেও তিনি ছিলেন গণপূর্তের ‘ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি’।

গণমাধ্যমের খবরে শামীমকে যুবদলের সাবেক এবং বর্তমানে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। জি কে বিল্ডার্সের অফিসে সাজানো বিভিন্ন ছবি ও সম্মাননা স্মারকে তার পরিচয় লেখা হয়েছে ‘নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ‍যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক’ ।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যুবলীগে জি কে শামীমের কোনো পদ নেই। সে নিজেই নিজেকে সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বলে বেড়াতো। এ নিয়ে যুবলীগে কয়েকবার আলোচনাও হয়েছে।”

বাবলু বলেন, “জি কে শামীম এক সময় যুবদলের সাবেক সহ সম্পাদক ছিল। এখন সে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বলে শুনেছি।”

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, “জি কে শামীম নামে আমাদের কোনো সহ সভাপতি বা সদস্যও নাই।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জিজ্ঞাসায় যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “কে এই জিকে শামীম? যুবলীগের কোনো পদে সে আছে? আমি যুবলীগের চেয়ারম্যান আমি তো তাকে নেতা বানাইনি। যুবলীগের কমিটির কোথাও তো তার নাম নেই। তাহলে আপনারা কেন বলছেন জি কে শামীম যুবলীগের নেতা?

আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া রাতে ২০১৭ সালে ঘোষিত কমিটির তালিকা দিয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে জি কে শামীম নামে কারও অস্তিত্বই নেই।

শামীমের দলীয় পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ২০১৭ সালের কমিটি করার সময় দলের ভেতর থেকেই সহ সভাপতি পদে শামীমের নাম প্রস্তাব করেছিলেন একজন। তবে শামীমের বিএনপি সংশ্লিষ্টতার তথ্যের কারণে সেই প্রস্তাব আর ধোপে টেকেনি। স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় এ নিয়ে তখন খবরও ছাপা হয়েছিল।

শামীমের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলম অভিযান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, দলীয় পরিচয় দল থেকেই নিশ্চিত করা হবে। আর শামীম ঠিকাদারী ব্যবসার আড়ালে অবৈধ কিছু করেছেন কি না- সেটা তারা দেখবেন।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.