‘বাঙ্গরাবাজার প্রেসক্লাবেরর পাল্টা কমিটি: নাশকতা মামলার আসামী আহবায়ক, এমপি উপদেষ্টা

(Last Updated On: November 19, 2019)

কুমিল্লা প্রতিনিধি, স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে মুরাদনগরের বাঙ্গরা থানা এলাকা কেন্দ্রিক নবগঠিত ‘বাঙ্গরাবাজার প্রেসক্লাব’ এর বিরুদ্ধে এমপি ও প্রশাসনের হস্থক্ষেপে আরেকটি পাল্টা প্রেসক্লাব গঠনের পায়তারা করা হচ্ছে। কমিটির প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে স্থানী সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনকে।

উক্ত কমিটিতে বিগত দিনের জ্বালাও-পোড়াও ও নাশকতা মামলার আসামী এম.কে.আই জাবেদকে আহবায়ক করা হয়েছে। যে কিনা একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন কায়কোবাদ এর একনিষ্ঠ কর্মী এবং বিগত ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনীত হয়ে শ্রীকাইল ইউনিয়নে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন!

গত ১৬ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার বিকেলে মুরদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার পাশের একটি কমিউনিটি নসেন্টারে এই পাল্টা আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাস, বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মিজানুর রহমান ও মুরাদনগর থানার ওসি মনজুর আলম উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের এই তিন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে গঠিত পাল্টা কমিটির আহবায়ক করা হয় এম.কে.আই জাবেদকে এবং সদস্য সচীব করাহয় মুরাদ নামে এক ফুচকা বিক্রেতাকে। যার বাড়ি দেবীদ্বারে এবং কোম্পানীগঞ্জ বাজারে সে ফুচকা বিক্রি করে।

এছাড়াও ওই কমিটির অধিকাংশেরই নিজনিজ প্রতিষ্ঠানের পদ-পদবীতে গাফলা রয়েছে। আর শিক্ষাগত যোগ্যতারতো কোনো বালাই নেই।
এ নিয়ে ওই দিনই সমালোচনার ঝড় উঠে গোটা উপজেলাসহ সাড়া জেলায়। সেই সাথে সোস্যাল মিডিয়াতেও সমালোচনার ঝড় উঠে।

সবার প্রশ্ন প্রশাসনের লোকজন কি করে প্রেসক্লাব তৈরী করে! এমনকি পাল্টা পাল্টি প্রেসক্লাব! তা’ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির বিপক্ষে বিতর্কিত লোকদের নিয়ে! এমন নানান প্রশ্ন।
সবার প্রশ্ন একটাই স্থানী সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন কি করে এমনি একটি বিতর্কিত প্রেসক্লাব কমিটির প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছেন।

সোস্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্ট থেকে জানা যায়, আহবায়ক এম.কে.আই জাবেদ বিগত দিনের জ্বালাও-পোড়াও ও নাশকতা মামলার আসামী। সে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এর একনিষ্ঠ কর্মী এবং বিগত ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনীত হয়ে শ্রীকাইল ইউনিয়নে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলো! বাঙ্গরা বাজার থানায় তার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

শুধু তাই নয়, ফেসবুক পোস্টগুলো বিশ্লষণ করলে দেখা যায়, ওই পাল্টা কমিটির আরেক হোতা দেবীদ্বারের আবুল খায়ের। এই খায়েরও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন কায়কোবাদ এর একনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত কর্মী! এখন বর্তমান এমপির ছত্রছায়ায় থেকে আখের ঘুচাচ্ছে এবং স্বাধীনতার বিপক্ষে নানাবিধ নীলনকশায় ব্যস্ত আছে! যিনি সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এর হয়ে, সাংবাদিকতার খোলশে আবৃত থেকে, সব সময় থানায় বসে থেকে অনিয়মের পাহাড় আর টাকার পাহাড় গড়েছেন! স্থানীয় সংবাদকর্মী হয়েও বিলাসবহুল গাড়ীতে চড়ে! অথচ একসময় সে নিজেই একজন সামান্য চালক ছিলো।

সোস্যাল মিডিয়ার হিসেব মতেই দেখা যায় যে, মাছরাঙা টিভির জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলমকে সাথে নিয়ে নতুন এই থানা কেন্দ্রিক কিছু সাংবাদিক এবং সাংবাদিকবান্ধব তরুণ গেলো ৬মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে, ২০ সেপ্টম্বর এখানে ‘বাঙ্গরাবাজার প্রেসক্লাব’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটায়। তারা সংগঠনের নামে ফেসবুকে একটি গ্রুপ ও ম্যাসেঞ্জার গ্রুপও চালু করেন। যারা নিয়মিত নিজেদের মধ্যে সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলেন।

গত ১৫ নভেম্বর শুক্রবার রাতে তাদের কমিটির সভাপতি ইমরুল ও সাধারণ সম্পাদ আজাদ এর নাম ঘোষণা করলে, পরদিন শনিবার তড়িঘরি করে ওই পাল্টা কমিটি গঠন করা হয় এবং বিকেলে সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, দুই ওসি, ইউএনও তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

জানা যায়, বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মিজানুর রহমান নিজেই লোকজনকে আমন্ত্রণ করেছিলেন পল্টা কমিটি গঠনের মিটিংয়ে!

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.