এক নজরে পরশ ও নিখিল

(Last Updated On: November 24, 2019)
৭ম কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্বে এসেছে যুবলীগে। শেখ ফজলে শামস পরশ চেয়ারম্যান ও মাইনুল হাসান খান নিখিল সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন। সঙ্গত কারণেই এদের পরিচয় জানার আগ্রহ থাকে সবার। কে বা কারা তারা, যাদের ওপর অর্পিত হলো এতবড় দায়িত্ব?
 
শনিবার কংগ্রেসের মাধ্যমে আসা এ নেতৃত্বে চেয়ারম্যান নতুন হলেও সাধারণ সম্পাদক নতুন কেউ নন।
 
তবে চেয়ারম্যান এতদিন রাজনীতির দৃশ্যপটে না থাকলেও তিনি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। সাধারণ সম্পাদক অবশ্য পুরনো, তিনি ওয়ার্ড পর্যায় থেকে যুবলীগ করে এসেছেন। সবশেষ সংগঠনটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ছিলেন তিনি।
 
কে শেখ ফজলে শামস পরশ?
 
শেখ ফজলুল হক মণির জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ ফজলে শামস পরশ। এতদিন দৃশ্যপটে না থাকলেও এখন শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে রাজনীতি করবেন বলে জানিয়েছেন।
 
’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বাবা শেখ মণি হত্যার পর ধানমণ্ডি সরকারি বালক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ঢাকা কলেজের থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছোট ভাই তাপসকে নিয়ে পরশের বেড়ে ওঠার গল্প চোখ ভিজে আসার মতো।
 
পরশ যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। পেশাগত জীবনে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। রাজনীতি ছেড়ে অধ্যাপনায় ব্যস্ত ছিলেন পরশ। যদিও তার ছোটভাই শেখ ফজলে নূর তাপস আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। ঢাকার তিনবারের সংসদ সদস্যও।
 
দায়িত্ব পাওয়ার পর এতদিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকার কারণ উল্লেখ করে যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান পরশ বলেন, ‘আমি রাজনীতি থেকে অনেক দূরে ছিলাম। কারণ যে মানুষ এই জাতির জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাকে যখন নির্মমভাবে হত্যা করতে পারল, আশাহত হওয়াটাই স্বাভাবিক।’
 
তিনি বলন, ‘রাজনীতি আমার ও ভাই শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছ থেকে বলতে গেলে সবকিছুই নিয়েছে। তারপরও বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ এবং বঙ্গবন্ধু কন্যার দেশের প্রতি উদার ভালোবাসা দেখে আমি সাহস পাই। তাই আমাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তা সততার সঙ্গে পালন করব।’
 
পরশ বলেন, ‘যুবলীগের সভাপতি হিসেবে নয়, একজন কর্মী হিসেবে আপনাদের পাশে থেকে কাজ করব। এখন থেকে একটাই পরিচয়, আমরা সবাই বঙ্গবন্ধু কন্যার সাধারণ কর্মী।’
 
মাইনুল হাসান খান নিখিল
 
নতুন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের জন্ম চাঁদপুরের মতলব থানার হরিনা গ্রামে। বাড়ি চাঁদপুর হলেও বেড়ে ওঠা ঢাকায়, রাজনীতিও করেছেন ঢাকা উত্তরে। তার পরিবারও আওয়ামী লীগের রাজনীতি সঙ্গে যুক্ত। বাবা চাঁদপুরের দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
 
নিখিল ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে ১৯৮৭ সালে তিনি যুবলীগে যোগ দেন। তৎকালীন ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের একটি আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। সেই সময় যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ২০০১ সালের দিকে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১২ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
 
দায়িত্ব পাওয়ার পর নিখিল বলেন,‘সততায় শক্তি মানবতায় মুক্তি’ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজে লাগাবো। নেত্রী যে বিশ্বাস আস্থা নিয়ে পবিত্র দায়িত্বটুকু এ পরিবেশে আমাকে দিয়েছেন। এই বিশ্বাস আস্থা জীবন দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করবো- ইনশআল্লাহ।
 
তিনি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়তে যে সোনার ছেলে চেয়েছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই সোনার ছেলের অনুসন্ধানে নামবো আমরা।’
 
নতুন দায়িত্ব পাওয়া চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে শেখ মণির প্রতিষ্ঠা করা এ যুবলীগের ইমেজ ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
 
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল থেকে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসে প্রথম অধিবেশন হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।
 
যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস আয়োজন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাংগঠনিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, স্বগত বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শোক প্রস্তাব পাঠ করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন।
 
পরে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংগঠনটির দ্বিতীয় অধিবেশন হয়। এতে শেখ ফজলে শামস পরশ চেয়ারম্যান ও মাইনুল হাসান খান নিখিল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
 
প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলাম ফজলে শামস পরশের নাম প্রস্তাব করেছেন চেয়ারম্যান পদে। সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ এতে সমর্থন করেন। এ পদে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন পরশ।
 
পরে সাধারণ সম্পাদক পদে মাইনুল হাসান খান নিখিল, বেলাল হোসেন, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, সুব্রত পাল, মঞ্জুরুল আলম শাহীন, বদিউল আলমের নাম প্রস্তাব করা হয়। সমঝোতার ভিত্তিতে সাধারণ সম্পাদক পদে নিখিলকে মনোনীত করা হয়। পরে এদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সূত্র – পরিবর্তন ।
Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.