ইতালি প্রবাসী স্বামীর ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, একাধিক পরকীয়ার পর ভারতীয়কে বিয়ে

(Last Updated On: January 6, 2020)

কুমিল্লায় ইতালি প্রবাসী পুত্রবধূর বিরুদ্ধে একাধিক পরকীয়া, ৩৫ লাখ টাকা  অর্থ আত্মসাৎ, ভারতীয়কে বিয়ে,ছয় বছরের শিশুকে হত্যাচেষ্টাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ তুলে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন শ^শুর। জেলার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের দক্ষিণ রাচিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মুসলেম উদ্দিন তার ছেলে রনি উদ্দিনের স্ত্রী লিজাউদ্দিন (২৩), তার বাবা আবুল কালাম (৫০) এবং মা হোসনেআরা (৪৫) এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা একই উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের সাহেব নগর গ্রামের বাসিন্দা।

ইতালী থেকে মোঃ মুসলেম উদ্দিনের পুত্র রনি উদ্দিন ফোনে জানায়, অভিযুক্ত তার স্ত্রী লিজাউদ্দিন তিন থেকে চারটি ছেলের সাথে পরকীয়ায় আসক্ত। সে আমার সাথে ইতালি গিয়ে অন্য পুরুষের সাথে অবৈধ মেলামেশা ও পরকীয়ায়সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়াও আমাকে কোন প্রকার তালাক না দিয়ে পর পর দুইটি বিয়ে করেছেন। সম্পত্তি ক্রয়ের কথা বলে আমার কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তার বাবা আবুল কালাম ও মা হোসনেআরার যোগসাজশে।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগে রনি উদ্দিনের পিতা ও লিজা উদ্দিনের শ্বশুর মুসলেম উদ্দিন জানান, ২০১১ সালের ২৮ জুলাই অভিযুক্ত দূর্গাপুর ইউপির সাহেব নগর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে আবুল কালামের মেয়ের সাথে পারিবারিকভাবে আমার ছেলে রনি উদ্দিনের বিয়ে হয়। ইতালি প্রবাসী রনি উদ্দিন বিয়ের পর স্ত্রীকের রেখে পূণরায় ইতালিতের চলে যান। ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর রনি উদ্দিন স্ত্রী লিজাউদ্দিনকেও ইতালিতে নিয়ে যান। প্রবাস দাম্পত্য জীবনে সোহান উদ্দিন নামে তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। সন্তান জন্মের পর বছর খানিক তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবে অতিক্রম করে। এর মধ্যেই স্ত্রী লিজাউদ্দিন তার কর্মস্থলের দেওয়ান সোহাগ নামে এক কলিকের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরকীয়া নিয়ে রনি ও লিজার মধ্যে কিলহ ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর লিজা ছেলে সোহানকে স্বামীর কাছে রেখে পরকীয়া প্রেমিকের ইতালিস্থ বাসায় থেকে চাকুরি করতেন।

পরবর্তীতে পরকীয়া প্রেমিকা দেওয়ান সোহাগ লিজাকে রেখে বাংলাদেশে এসে অপর একটি মেয়েকে বিয়ে করে ইতালিতে নিয়ে যায় এবং লিজাকে বাসা থেকে বের করে দেয়। এরপর থেকে লিজা আমার ছেলে রনির বিরুদ্ধে ইতালি কোর্টে নানা রকম মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানির শুরু করে।

এরমধ্যেই গত ২০ ডিসেম্বর লিজা বাংলাদেশে এসে আরেক পুরাতন প্রেমিক ভারতীয় নাগরিক  নুরুল আমিনকে বিয়ে করেছে।

ভারতীয় নাগরিক সৌদি প্রবাসী নুরুল আমিন ২০ দিনের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন।

এই অবৈধ বিয়ের সাথে পরকীয়ায় আসক্ত অভিযুক্ত লিজা উদ্দিনের বাবা আবুল কালাম ও মা হোসনেআরা জড়িত। লিজা পরপর দুইটি বিয়ে করলেও আমার ছেলে রনিকে কোন প্রকার ডিভোর্স লেটার বা তালাক নামা দেয়নি। আমরা ব্যক্তিগতভাবে পাঁচথুবি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বললে তিনি জানান,এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এমনকি আমাদের ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের লিখিত ভাবেও ডির্ভোসের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

মুসলেম উদ্দিন আরও জানান, ইতালি থাকা অবস্থায় বাবার এলাকায় সম্পত্তি ক্রয়ের কথা বলে লিজা ৩৫ লাখ আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন ভাবে আমার ছেলে রনিউদ্দিনের কাছ থেকে লিজাউদ্দিন লাখ লাখ টাকা গোপন করিয়াছে। তাছাড়াও লিজা ইতালিতে গিয়ে বিভিন্ন প্রবাসী ছেলেদের সাথে অবৈধ ও অনৈতিক সম্পর্ক করে প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ করে সম্পদের মালিক হয়েছে। ইতালি তার আয়ের সাথে ব্যাংক ডিপোজিটের বিশাল ব্যবধান রয়েছে।
তিনি জানান, লিজা তার ছেলের শিশু সন্তানকে বহুবার অমানুষিকভাবে মারপিট করেছে। যা পৃথিবীতে নজিরবিহীন। শিশুটিকে প্রচন্ড মারপিটসহ মাথার চুল উপড়ে ফেলা, পায়খানার রাস্তায় আঘাতে রক্তক্ষরণসহ হিংসাত্মকমূলক কর্মকা- করেছে। এছাড়াও তৃতীয় বিয়ের পর ইতালি গিয়ে আমার ছেলে ও নাতিকে আরও ব্যাপকভাবে হয়রানি করবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে।
আমি প্রশাসনের নিকট এর বিচার দাবি করছি। এই রকম অপরাধ কর্মকা- ও হয়রানি করে মানুষ কিভাবে প্রকাশ্যে চলতে পারে। তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্তদের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, মুসলেম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি এই ধরনের একটি অভিযোগ করেছেন। আমরা অভিযোগ আমলে নিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।

সূত্র – কুমিল্লার জমিন।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.