সর্বশেষ সংবাদ

মাদ্রাসাশিক্ষকের ওয়্যারড্রবে শিশুর লাশ!

(Last Updated On: January 3, 2020)

আমাদের সময় : মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়া নিয়ে সন্দেহ এবং এর জের ধরে শাসনের বদলা নিতে মাদ্রাসা প্রধানের শিশু সন্তানকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

গত বুধবার মো. আদিল (৪) নামের ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের মরাশ জামিয়াতুল হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. জোনায়েদ আহমেদের ওয়্যারড্রব থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন আদিলের বাবা ও মরাশ জামিয়াতুল হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি জোবায়ের আহমেদ।

মামলার দুই আসামি ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মো. জোনায়েদ আহমেদ ও মোয়াজ্জিন খায়রুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ। আদিলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত আদিলের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ধলাসিয়া এলাকায়। আসামি জোনায়েদ হাবিগঞ্জের রাখাইন উপজেলার তেগুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। মোয়াজ্জিন খায়রুল ইসলাম একই এলাকার জফু মিয়ার ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের গাজীপুর কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মরাশ জামিয়াতুল হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি জোবায়ের আহমেদ জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর মাদ্রাসার মসজিদের মোয়াজ্জিন খায়রুল ইসলামের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। তিনি এ ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষক জোনায়েদ আহমেদকে সন্দেহ করেন। খায়রুলের নালিশে জোনায়েদকে ডেকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষক।

জোবায়ের আহমেদ আরও জানান, গতকাল বিকেলে তার ছেলে আদিল মাদ্রাসার পাশে মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তিনি ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে মসজিদে মাইকিং করেন। এ ছাড়া আত্মীয়-স্বজনসহ গ্রামের কয়েকজনকে নিয়ে পুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু আদিলকে কোথাও পাননি তিনি।

খোঁজাঁখুজির একপর্যায়ে জোনায়েদ ও খায়রুলকে সন্তানের কথা জিজ্ঞেস করেন মুফতি জোবায়ের। দুজনের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে এলাকাবাসীসহ দুজনকে আটক করেন তিনি। এ সময় আদিলকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন জোনায়েদ। পরে তার ঘরের ওয়্যারড্রব খুলে আদিলের মরদেহ পাওয়া যায়।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সন্তান হত্যার ঘটনায় মাদ্রসার প্রধান শিক্ষক মুফতি জোবায়ের একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পঙ্কজ দত্ত জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদিলের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়া নিয়ে সন্দেহ এবং এর জের ধরে শাসনের বদলা নিতেই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের সন্তানকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন জোনায়েদ।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.