ঝাড়ফুঁকের নামে তরুণীকে দেড় বছর ধরে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ‘ব্লাউজ মোল্লা’

(Last Updated On: March 12, 2020)

আমাদের সময়ঃ সিলেটের বিশ্বনাথে ঝাড়-ফুঁকের কথা বলে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কমরুদ্দিন (৫০) ওরফে ‘ব্লাউজ মোল্লা’ নামের এক কবিরাজের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাকে গ্রেপ্তার করে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরী ও তরুণীদের বাসায় আটকে রেখে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করতেন ওই কবিরাজ। এই কাজে তাকে সহায়তা করতেন স্ত্রী সুমি বেগম। অবশেষে এক তরুণীর পরিবারের অভিযোগে ওই কবিরাজকে স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জানা যায়, চিকিৎসার নামে ১৭ মাস ধরে আটকে রেখে ১৯ বছরের তরুণীকে ধর্ষণ করেন ওই কবিরাজ। ওই তরুণীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার হওয়া ওই কবিরাজ এলাকায় ‘ব্লাউজ মোল্লা’ নামে পরিচিত।

চিকিৎসার নামে আটকে রেখে ধর্ষণ করার অভিযোগ পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা-মা বৃহস্পতিবার রাতেই উপজেলার পুরান বাজার এলাকায় অবস্থিত কবিরাজের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তালাবন্দী অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে করা হয়। এরপর ওই তরুণীর মা কবিরাজ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া কবিরাজের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার পুরান বাজারের (শরীষপুর) এলাকার আছদ্দর আলী ম্যানশনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন। ওই ব্যক্তি সে বাসায় ‘সিফা তদবিরালয়’ নামে একটি কবিরাজি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। কবিরাজি করার নামে সে মূলত কিশোরী ও তরুণীদেরকে নিজ বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ করতেন। আর এসব কাজে সহযোগিতা করতেন তার স্ত্রী।

ভুক্তভোগী তরুণীর মা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, নানা রকম রোগব্যাধিতে আক্রান্ত তার বড় মেয়েকে সুস্থ করতে চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৭ মাস আগে কবিরাজ কমরুদ্দিনের কাছে নিয়ে যান। এ সময় কবিরাজ তাকে জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে তার মেয়েকে তিন মাসের জন্য তার কাছে রেখে যেতে হবে এবং চিকিৎসার জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। তার কথামতো তরুণীর মা টাকা পরিশোধ করে মেয়েকে সুস্থ করার জন্য রেখে যান।

ভুক্তভোগী তরুণীর মা আরও জানান, তিন মাস পর মেয়েকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যে সিফা তদবিরালয়ে যাওয়ার পরই ঘটে বিপত্তি। এ সময় কবিরাজ তার মেয়েকে ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং উল্টো তাকে নানা রকমের হুমকি-ধামকি ও ভয়-ভীতি দেখান। এভাবে প্রায় দেড় বছর ধরেই সিফা তদবিরালয়ে মধ্যে তালাবন্দী করে আটকে রেখেছে তার মেয়েকে (নির্যাতিতা তরুণীকে)। আর মেয়েকে হারিয়ে ফেলতে পারেন এমন ভয় থেকে এ ব্যাপারে তিনি কাউকে কিছু বলার সাহস পাননি।

পুলিশ জানায়, উদ্ধারের পর তরুণী জানিয়েছে কবিরাজ কামরুদ্দিন চিকিৎসার নামে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাকে দিনরাত ঘরের ভেতর তালা দিয়ে আটকে রাখত। কোথাও বের হতে দিত না। সম্প্রতি কমরুদ্দিন ভুয়া বিয়ের কাগজ তৈরি করে তাকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম মুসা। তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের অপকর্মের সাথে আপোষ করবে না থানা পুলিশ। অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আসতে হবেই।’

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.