প্রবাসীদের কোনো ঠিকানা নেই….

(Last Updated On: March 15, 2020)

পলাশ রহমানঃ প্রবাসীদের কোনো ঠিকানা নেই। প্রবাসীরা জিপসি। দেশে গেলে হয় প্রবাসী, বিদেশে এলে অভিবাসী। আসলে প্রবাসীদের কোনো ঠিকানা নেই। বন্ধন নেই। প্রবাসীরা হলো টাকার কল। টিপ দিলে টাকা পড়বে, এর বাইরে প্রবাসীদের কোনো কাজ নেই, ব্যাবহার নেই। আলাদা করে ভাবার কিছু নেই।
ঢাকার হাজি ক্যাম্পে যে জঘন্য ঘটানা ঘটেছে তা না ঘটালেও চলতো। কুড়ি বাইশ ঘন্টা জার্নি করে প্রবাসীরা দেশে গিয়েছে। তারা সবাই ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত। পরীক্ষার জন্য বা কোয়ারেনটায়েন করার জন্য হাজি ক্যাম্পে নেয়া হয়েছে খুব ভালো কথা, সেখানে তাদের জন্য ঘুমানোর ব্যাবস্থা করা হয়নি কেনো? খাবারের ব্যাবস্থা করা হয়নি কেনো? চারপাশে ময়লা আবর্জনা থকথক করছিলো কেনো? এমন কী বসার জায়গা পর্যন্ত ছিল না, কেনো?
কোনো প্রবাসী তো বলেনি কোয়ারেনটায়েন করবে না। তাদের সাথে যে অমানবিক পশুর মতো আচারণ করা হয়েছে তারা সে টুকুর প্রতিবাদ করেছে মাত্র। এতেই তোমাদের সহ্য হচ্ছে না? ফেসবুক ভরে ফেলেছ প্রবাসীদের গালমন্দ করে। সত্যিই তোমরা পারোও।
আমি নিশ্চিৎ করে বলতে পারি- সোস্যালমিডিয়ায় প্রবাসীদের যারা গালমন্দ করেছে তারা সবাই কোনো না কোনো ভাবে প্রবাসীদের দারা সুবিধা ভোগি। সো গলা উচু করার আগে একবার ভেবে দেখা দরকার ছিল।
বাংলাদেশে একমাত্র প্রবাসীরাই উঁচু গলায় কথা বলতে পারে। প্রবাসীদের জন্য সরকারের কোনো ইনভেষ্ট নেই। কোনো খরচ নেই। সহযোগিতা নেই। বরং প্রতি পদে পদে নির্যাতন, হয়রানি করা হয়। এয়ারপোর্টে নির্যাতন করা হয়। পাসপোর্ট অফিসে নির্যাতন করা হয়। দূতাবাসে নির্যাতন করা হয়। সামান্য সার্টিফিকেট প্রদান বা পাসপোর্ট নবায়নের জন্য গাদাগাদা অর্থ নেয়া হয়। খারাপ ব্যাবহার করা হয়। এর পরেও প্রবাসীরা টু-শব্দ করে না। কলুর বলদের মতো টাকার যোগান দিয়ে যায়।
একমাত্র প্রবাসীরাই গলা তুলে বলতে পারে- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লার রিকশাওয়ালা, নাপিতরা (কোনো পেশাকে ছোট করা উদ্দেশ্য নয়) পর্যন্ত প্রবাসীদের কাছ থেকে সরাসরি সুবিধা ভোগ করে, করেছে।
এই মুহুর্তে যে প্রবাসীরা দেশে গেছেন, যাচ্ছেন তারা প্রায় সবাই বাধ্য হয়ে যাচ্ছেন। মাসের শেষে তারা যখন মোটা অংকের টাকা দেশে পাঠিয়েছেন তখন কিন্তু কেউ জানতে চায়নি, সে খেয়েছে কীনা? তার কিছু লাগবে কীনা? নিজের খরচ রেখেছে কীনা?
ঢাকায় প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যাবস্থায় কোয়ারেনটায়েন করা যেতো। হয়তো বাড়তি কিছু টাকা খরচ হতো, কিন্তু তাতে খুব বেশি ক্ষতি হতো না। তাদের মানষিক ভাবে, সামাজিক ভাবে, পারিবারিক ভাবে এবং রাষ্ট্রীয় ভাবে অপদস্ত করা কোনো ভাবেই ঠিক হয়নি, হচ্ছে না।

মানুষ হন। মানবিক হন। দেশে করোনা প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়ান। প্রয়োজনে প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগান এবং ঢাকায় যথাযথ ভাবে কোয়ারেনটায়ের ব্যাবস্থা করেন।

লেখক ঃ পলাশ রহমান , প্রডিউচার, রেডিও বেইজ, ইতালি

 

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.