তৃনমূল পর্যায়ে মর্যাদাবান জনপ্রতিনিধি খুবই কম

(Last Updated On: May 24, 2020)

এডভোকেট আনিসুর রহমান মিঠু: বিপদ সংকেত, যথাযথ গুরুত্ব দেয়া উচিৎ এখনই  , ভুখা মানুষের ত্রাণ লুটের খবর বিপদ সংকেত।
জনপ্রতিনিধিদের অসততা নিরন্ন ভুখা মানুষকে , অ-সহিষ্ণু করে তুলছে !! বিষয়টি হালকা ভাবে নেয়ার সুযোগ নেই ।

আমার ধারনা ছিল জনপ্রতিনিধিরা মোটামুটি সচ্ছল হয়ে গেছেন ইতিমধ্যে । তারা অন্তত আর রিলিফ চুরি করার পর্যায়ে নাই। তাদের এখন গাড়ী বাড়ি টাকা পয়সা যথেষ্ট হয়েছে !!

করোনা আমলে বিশ্বময় মানুষ যখন আতংকিত , সেই কঠিন দুঃসময়েও কেউ কেউ গরীবের আহার চুরি করবে ভাবাই যায়না ।

চোরেরা জনপ্রতিনিধি কেন হয় ? কিভাবে হয় ? কার প্রশ্রয় ও সহযোগীতায় হয় ? বড় নেতারা কেন তাদের এগিয়ে এনে ক্ষমতায়ীত করেন ?? তারা দলের জন্য এতো প্রয়োজনীয় কেন ?

বড় নেতারা সাধারণত তাদের পরিবারের লোকদের নেতা বানায়ে চায় ! যে সকল যায়গায় পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়না সেখানে তারা –

সাবেক ছিনতাইকারী , মাদকসেবী অথবা ব্যবসায়ী , চোরাকারবারি , চাঁদাবাজ , মাস্তান এবং স্বল্প শিক্ষিত লোক খুজে এনে বসায় !!

( যাতে ভবিষ্যতে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের সামনে প্রতিবন্ধকতা না থাকে!! )

অযোগ্য অথর্বদের কাছ থেকে সহজেই জিন্দাবাদ পাওয়া যায় , তাই বিবেকহীন অযোগ্য কর্মীরাই নেতাদের প্রথম পছন্দ !!

এ চিত্র বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায় ! উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি /সাধারণ সম্পাদক যারা এমপির আত্মীয় নন , তাদের এমপির আত্মীয়দের চাকরের সাথে সুসম্পর্ক রেখে রাজনীতি করতে হচ্ছে !!

আমার ধারনা নেত্রীর বিশেষ একটি ভুল ধারনা আছে বা সবাই মিলে নেত্রীকে একটি ধারনা দিয়েছেন যে , মন্ত্রী বাদ দিয়ে দিলে সরকারের ব্যর্থতা প্রমানিত হয় !!

তাই তিনি অযোগ্য , অকর্মণ্য , দুর্নীতিপরায়ণ মন্ত্রীকেও বাতিল করতে চাননা !! তবে পরের বার তাকে আর মন্ত্রী বানান না ।

ভাগ্য ভালো যে রিলিফ চোর ধরার ক্ষেত্রে তিনি এমন ধারনা পোষণ করছেন না । তিনি আন্তরিকতার সাথেই চোরদের গ্রেফতার করাতে চাচ্ছেন ।

তিনি পরিস্কার বলেছেন , চোরের কোন দল নাই , চোর হচ্ছে চোর , রিলিফ চোরদের কোন রকম ছাড় দেয়া হবেনা ।

তবে স্থানীয় নেতারা তাদের সাধ্যমত চোরদের আগলে রাখছেন । বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই চোরেরা ধরাও পরছেনা , সংবাদও হচ্ছেনা !!

নেত্রী যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছিলেন , তা যদি চলমান থাকতো , রাঘব বোয়াল , লুটেরা , ঘুষখোর , টেন্ডারবাজ , কালোবাজারিরা যদি ধরা পরতে থাকতো , তাহলে আজ আর কেউ রিলিফ চুরির কথা ভাবতোনা ।

কয়েকজন নেতাকে পদচ্যুত করা আর কয়েকজন কে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে , শুদ্ধি অভিযান সমাপ্ত না হয়ে গেলে , রাজনীতির গুনগত পরিবর্তন আসতোই ।

আজ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরন্ন ক্ষুধার্ত মানুষেরা রিলিফ কেড়ে নিতে শুরু করেছে । লক ডাউন প্রলম্বিত হলে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে ।

করোনায় মৃত্যু মানুষ মেনে নেবে , কিন্তু পেটের ক্ষুধায় শিশু সন্তানের বা বৃদ্ধ বাবা মায়ের মৃত্যু মানুষ সহ্য করবেনা ।অতি খুদার্ত মানুষে বিবেক বিবেচনা থাকেনা !

সরকারী সকল ত্রাণ তৎপরতা সেনাবাহিনীর মাধ্যমেই হওয়া উচিৎ । কারন তৃনমূল পর্যায়ে মর্যাদাবান জনপ্রতিনিধি খুবই কম .

লেখক : এডভোকেট আনিসুর রহমান মিঠু।

সাবেক সাধারন সম্পাদক, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগ।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.