ময়মনসিংহ সদরের ইউএনও শেখ হাফিজুর রহমান সজল।

বৃদ্ধার জীবন বাঁচাতে রোজা রেখে অফিসেই রক্ত দিলেন ইউএনও সজল

(Last Updated On: May 12, 2020)

আমাদের সময়ঃ  ছয় বছর ধরে কিডনীর রোগে ভুগছেন সৈয়দা জামিমা আক্তার (৮০)। হঠাৎ ডায়ালাসিস করতে ও-পজিটিভ রক্ত প্রয়োজন হওয়ায় আলী ইউসুফ নামে তার এক বন্ধুকে ফোন দিয়ে জানান জামিমা আক্তারের ছেলে মঈন। আলী ইউসুফ তখন ময়মনসিংহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ হাফিজুর রহমান সজলের অফিসে বসা ছিলেন।

গতকাল রোববার দুপুরে মোবাইলে দুই বন্ধুর কথোপকথন শুনে ইউএনও শেখ হাফিজুর রহমান সজল জানান, অন্য কোথাও রক্তের ডোনার না পেলে তিনিই বিশ্ব মা দিবসে বৃদ্ধা মায়ের প্রাণ বাঁচাতে রক্ত দিবেন।

আলী ইউসুফ বলেন, ‘একে করোনা দুর্যোগ তারপর আবার রোজা। এই অল্প সময়ে ডোনার খুঁজে না পেয়ে আজ সোমবার দুপুরে তাকে (ইউএনও) ফোন দিয়ে বললাম, “স্যার দুপুরে রোগীর ডায়ালোসিস করবে রক্তটা দুপুরেই দরকার। একথা শুনেই তিনি বললেন, “ঠিক আছে ব্যবস্থা করুন দুপুরেই রক্ত দিব।” কিন্তু আপনিতো রোজা রেখেছেন!’

এমন কথার জবাবে ইউএনও সজল বলেন, ‘তাতে কি? কোনো সমস্যা হবে না এখনই দিব। তবে আমাকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। আমি অফিসের কাজে  সদর উপজেলার অষ্টাধর ইউনিয়নে যাব।’

আলী ইউসুফ জানান, কথামতো আজ সোমবার দুপুরেই রোজা রেখে রক্ত দিলেন ইউএনও শেখ হাফিজুর রহমান সজল।

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যে বৃদ্ধার জীবন বাঁচাতে অফিসে রোজা রেখে রক্ত দেওয়ার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। শত শত লোক শেখ হাফিজুর রহমান সজলকে ইউএনওকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ হাফিজুর রহমান সজল জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে পড়াকালীন ২০০১ সালে ধর্ষণের শিকার এক ছাত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে তাকে প্রথম রক্ত দেন তিনি। কর্ম জীবনে ব্যস্ততার মধ্যেও এ পর্যন্ত ২৫ বার রক্ত দিয়েছেন তিনি।

ইউএনও সজলের রক্তদান সম্পর্কে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজু রহমান প্রতিক্রিয়ায় জানান, পবিত্র মাহে রমজানের মধ্যে নানা ব্যস্ততর মধ্যেও ইউএনও সজল একজন বৃদ্ধার জীবন বাঁচাতে রক্ত দিয়ে যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে তা সমাজে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রশাসনিক পর্যায়ে অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ইউএনও সজলের সমাজের অন্যরাও যেন এই মানবিক আবেদনে সারা দিয়ে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানান বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজু রহমান।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.