লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ ইসলাম পাপুল

পাপুল আ. লীগ বা মহাজোটের প্রার্থী ছিলনা, এমপি হওয়ার প্রকৃত কারন

(Last Updated On: June 14, 2020)

এডভোকেট আনিসুর রহমান মিঠু: বহুল আলোচিত-সমালোচিত এমপি পাপুল লক্ষ্মীপুরে যে আসনে নির্বাচিত হয়েছিলো সেই আসনটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মহাজোটের অংশীদার জাতীয় পার্টিকে কে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জাতীয় পার্টি তাদের এক নেতাকে (জনাব নোমান) ওই আসনে মনোনয়ন দেয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পাপুল সহ বেশ কয়েকজন নেতা এ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

মহা জোটের অন্যান্য শরিকদের মধ্যে কিছু আসন বন্টনের অংশ হিসেবে এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে দেওয়া হয়েছিল। এই আসনটি জাতীয় পার্টি কে দেয়ার পেছনেও দলের কিছু নির্বাচনী কৌশল ছিল l

দলীয়ভাবে আসনটি জাতীয় পার্টিকে দেয়ার পর একমাত্র পাপুল ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কোনো ব্যক্তি ওই নির্বাচনে আর প্রার্থী থাকেনি l

কিন্তু দুঃখজনকভাবে নির্বাচনের প্রায় ১৫/১৬ দিন আগে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জনাব নোমান স্বতন্ত্র প্রার্থী পাপুলকে সমর্থন করে নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেন এবং তাঁর নেতা কর্মীদের নির্দেশ দেন পাপুল কে সমর্থন করার জন্য।

এই প্রেক্ষাপটে লক্ষীপুরের বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে অবহিত করেন যে, লক্ষীপুরের ঐ আসনে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে বিএনপি প্রার্থী খুব সহজেই এ আসনে জয়ী হবে ।

মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির নেতা নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দিয়েছেন l আর নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ওই আসনে নতুন করে প্রার্থী দেয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই l

নতুন ভাবে প্রার্থী দেয়ার সুযোগ থাকলে সে আসনে আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় নেতা হারুন সাহেব আসতে পারতেন ।

তারা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে জানান যে, মাঠ আওযামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই। মহাজোটের প্রার্থী অর্থাৎ জাতীয় পার্টির প্রার্থী পাপুলকে সমর্থন করে নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে চলে গেছেন এবং আওয়ামী লীগের আর কোনো প্রার্থী নেই

তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপি’র প্রার্থীকে হারানোর জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষে পাপুল কে সমর্থন ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এই বক্তব্যটি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে অত্যন্ত যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের আর কোনো প্রার্থী না থাকায় এবং বিএনপি যাতে এ আসনে জয় লাভ করতে না পারে, সর্বোপরি, সংখ্যা তত্ত্বের হিসেবে এ আসনটি যাতে বিএনপির বিপক্ষে তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে দেখানো যায় –

সে কারণে সেদিন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তটি আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই নেয়া হয়েছিল l

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমন্বয়ক ড۔ সেলিম মাহমুদের স্বাক্ষরেই নির্বাচন কমিশন সহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ষ্ঠানে সকল পত্র প্রেরন করা হতো l

লক্ষীপুরের নিবার্চন সংক্রান্ত এ চিঠি টি ড.সেলিম মাহমুদের ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে কিংবা ড.সেলিম মাহমদের উদ্যোগে প্রেরণ করা হয়নি l

যথাযথ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই এবং আদিষ্ট হয়ে তিনি ওই পত্রে স্বাক্ষর করে এটি প্রেরণ করেছিলেন, যা ওই পত্রেই পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে l

‘ এ পত্রের মাধ্যমে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি ‘ কিংবা দলীয় স্বার্থ পরিপন্থী কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি ।

ওই সময়ে এই উদ্যোগ নেয়া ছাড়া আর অন্য কোনো বিকল্প ছিল না l আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয় এই উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আসনটি বিএনপি’র নিয়ন্ত্রণে চলে যেত l

আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গৃহীত এই পদক্ষেপ নিয়ে . কেউ কেউ ড. সেলিম মাহমুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছেন।

মনে রাখা দরকার ড, সেলিম মাহমুদ একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব । তিনি হঠাৎ করে আসা কোন হাইব্রীড না ।

নেত্রীর নির্দেশে ছাত্রলীগের গঠণতন্ত্র সংশোধন করে আইন সম্পাদক পদ সৃষ্টি করে তাঁকে সে পদ দেয়া হয়েছিল ।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে ড. সেলিম মাহমুদকে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ যায়গায় , না বুঝে আনা হয়েছে এমনটি নিশ্চয়ই নয় ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে পরিক্ষিত লোক ছাড়া কেউ দায়িত্ব পাওয়ার কোন যৌক্তিক কোন কারন নেই.

লেখক : এডভোকেট আনিসুর রহমান মিঠু।

সাবেক সাধারন সম্পাদক, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগ।

 

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.