বি চৌধুরীর পদত্যাগ, নেত্রীর নিরাপত্তায় সুধাসদনে নির্ঘুম এক রাত

(Last Updated On: June 21, 2020)

সোহেল মজুমদার শিপনঃ অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বাধ্যহয়ে পদত্যাগ,  জননেত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার জন্য সুধা সদনে পার হয়েছে নির্ঘুম এক রাত । সেদিন ছিল ২০০২ সালের ২০ জুন আমি ঢাকার ফকিরাপুলে সেই সময়ের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব জাকির হোসেন মারুফ ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম । উনার সাথে সাংগঠনিক আলাপ শেষে তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার পথে মাররু ভাই বললেন চল সুধাসদনের দিকে যাই । আমরা বেবী ট্রেক্সী করে ধানমন্ডির সুধাসদন এলাকায় যাই । প্রথমে আমরা মহানগর কমিউনিটি সেন্টারের উপরের ৪র্থ তলায়  সিআরএ অফিসে যাই।

সেই সময়ের  আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেখানে সাবের হোসেন চৌধুরী , যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দেওয়ান সফিউল টুটুল ,  আজকের বিদ্যুৎ ও জালানী প্রতিমন্ত্রী নাসিবুল ইসলাম বিপু , প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী প্রয়াত মাহাবুবুল হক শাকিলসহ অনেকের সাথে দেখা হয়।

টুটুল ভাই টেবিল চেয়ার নিয়ে বিশ্বকাপের জন্য কলাম লিখছেন । সন্ধ্যার দিকে সাবের ভাই উনার রুম থেকে বের আসলেন,উনি চারদিকে ফোন করছেন, বেশ টেনশনে আছেন , বললেন দেশের অবস্থা ভালো না , বিএনপি- জামাত সরকার একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে জোড় করে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ  করাতে বাধ্য করেছেন ।  দেশে কি হচ্ছে বা হবে বলা যাচ্ছে না , সবই ধুয়াশার মত। মারুফ বললেন সুধাসদনে চল যাই । আমরা সেখানে যাওয়ার পর সারা দেশের হাজার হাজার নেতাকর্মীর দেখা মিলে। আমাদের কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির অনেকের দেখা পাই সেখানে , তখন আমি সেই কমিটির সদস্য। সুধাসদনের বাহিরেও শঙ্কা ও আতংক কি হচ্ছে দেশে ,রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ , কেউ বলছেন দেশে সামরিক শাসন জারী হচ্ছে ,নানান  জল্পনা কল্পনা। রাজধানী ঢাকার রাস্তায় বাড়তি নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে । সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত যতই বড় হচ্ছে সুধাসদন ভিতর বাহির থেকে অনেকেই চলে যাচ্ছেন তাড়াতাড়ি । মারুফ ভাই বললেন নেত্রীর নিরাপত্তার জন্য এই স্থান ত্যাগ করা যাবে না। পুলিশের বাড়তি টহলে গ্রেফতার এড়াতে আমরা সুধাসনের নিচতলায় অবস্থান নেই । সেই সময়ে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মারুফা আক্তার পপি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক সাইফুজ্জামান শিখর , সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন আমাদেরকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন

। ছাত্রলীগের সেই সময় আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল হাজারী( বর্তমানে সাংসদ), যুগ্ন সম্পাদক মাজহার আনাম, সদস্য মৃধা মোহাম্মদ শাহজাহান কচি ভাইসহ অনেক সিনিয়র ভাইকে সেদিন আমরা সেদিন নেত্রীর নিরাপত্তার জন্য নির্ঘুম রাত কাটান।  মাঝে মধ্যে বাহিরে পুলিশের টহল  কমে গেলে লেগের পাড়ে এসে সোহেল হাজারী ভাইয়ের সাথে মারুফের নানা কথার মাঝে আমিও যোগ দেই। আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি সুধাসদনের দিকে কেউ আসলে আমরা প্রতিহত করবো মানবপ্রাচির দিয়ে, জীবন যাক সমস্যা নেই , যদিও আমাদের হাতে তেমন কিছুই ছিলনা । রাত যতই গভীর হয় ততই নেতাকর্মীদের সংখ্যা কমতে থাকে। পপি আপা, শিখর , মারুফসহ ৪০/৫০ জন রাত পার করি । আল্লাহর রহমতে সেদিন ঢাকার পরিবেশের তেমন পরিবর্তন হয়নি । সকালে নেত্রীর এপিএস ড. আওলাদ ও অন্যরা আমাদের জন্য সকালের নাস্তার ব্যবস্থা করেন ।নাস্তা খেয়ে মাজহার ভাইয়ের পথ দেখানো পথে সুধাসদনের অপর পাশ দিয়ে বের হয়ে আসি।

সোহেল মজুমদার শিপন, সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ দেশপ্রিয় নিউজ

সাবেক সহসভাপতি কুমিল্লা (দঃ) জেলা ছাত্রলীগ।

প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক , আমরা ক”জন মুজিব সেনা, কুমিল্লা জেলা ।

 

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.