ভয়ঙ্কর প্রতারক এক শিকদার লিটন!

(Last Updated On: June 27, 2020)

 নিজস্ব প্রতিবেদক: `কী করেনি শিকদার লিটন? এমন কোনো অপরাধ নেই যার সঙ্গে জড়িত নয় সে। চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রায় ডজনখানেক মামলার আসামি সে। তারপরও দিব্যি বহাল তবিয়তে আছে ভয়ঙ্কর এই প্রতারক!’ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চর আজমপুর গ্রামের এক বাসিন্দা একই গ্রামের সিদ্দিক শিকদারের ছেলে শিকদার লিটন সম্পর্কে এই মন্তব্য করেন।

আলফাডাঙ্গার মানুষের কাছে শিকদার লিটন এক আতঙ্কের নাম। শুধু ফরিদপুরই নয়, খুলনা ও পাবনা জেলাতেও বিস্তৃত তার অপরাধের জাল। তার বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় সাতটির মতো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা টের পেয়ে বারবারই গা ঢাকা দিয়ে বেড়িয়েছে ঘন ঘন পেশাবদলকারী শিকদার লিটন। এসব অভিযোগ স্থানীয়দের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলফাডাঙ্গার এক বাসিন্দা বলেন, ‘শিকদার লিটনের মতো চাঁদাবাজ, প্রতারক ফরিদপুর ও খুলনা অঞ্চলে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। হেন অপকর্ম নেই যার সঙ্গে গোপনের তার যোগাযোগ নেই।

ফরিদপুর ও খুলনা অঞ্চলের আন্ডারগ্রাউন্ড অপরাধ চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ-সম্পর্কের কথা প্রায়ই লোকমুখে শোনা যায়। বিশেষ করে খুলনার চরমপন্থীদের সঙ্গে তার আঁতাতের কথা অনেকেই জানে।’ স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, মানুষকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে শিকদার লিটন। একবার তার হাতে টাকা গেলে সেই টাকা কেউ ফেরত পেয়েছেন এমন নজির নেই। চাকরি দূরের কথা, টাকা চাইতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এসব অপরাধের দায়ে একাধিক মামলাও আছে তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফরিদপুর খুলনা ও পাবনা জেলায় শিকদার লিটনের বিরুদ্ধে প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ। মামলা নং-২৪। চাঁদাদাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অপরাধে এ মামলা করা হয়েছে। এছাড়া পাবনা জেলার আটঘরিয়ায় একটি সি.আর মামলার আসামিও সে। মামলার নং-৪৯/১৪। এই মামলাটি করা হয়েছে প্রতারণার অভিযোগে। পাবনার আমিনপুর থানাতেও করা প্রাণনাশের একটি মামলার আসামি তিনি। ২০১৪ সালের ১৮ মে মামলাটি করা হয়। দুস্কর্মের অভিযোগে ২০১৬ সালের ৯ মে তা বিরুদ্ধে একটি মামলা হয় আলফাডাঙ্গা থানায়। একের পর এক মামলার আসামি হলেও দিনকে দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে শিকদার লিটন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শনিবার আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, ‘শিকদার লিটনের বিরুদ্ধে পাঁচ থেকে সাতটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। আমরা তাকে খুঁজছি। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ন আত্মগোপনে রয়েছেন। আমরা তথ্য পেয়েছি তিনি মাঝে মধ্যে ফেসবুক লাইভে এসে বিভিন্ন কথা বার্তা বলেন। তাকে পাওয়া মাত্রই গ্রেপ্তার করা হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.