সর্বশেষ সংবাদ

ইতালিতে সিজনাল জব ভিসায় বাংলাদেশের কালো তালিকাভুক্তি আর কতকাল?

(Last Updated On: July 5, 2020)

২০০৮ থেকে ২০১২ পাঁচ বছরে যে ১৮ হাজার বাংলাদেশি মৌসুমি কাজের কন্ট্রাক্টে (সিজনাল জব ভিসায়) বৈধভাবে ইতালি এসেছিলেন তারা কেউই বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে বা ব্যবস্থাপনায় এদেশে আসেননি। হয় তারা ইতালি কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানকারী দালালের মাধ্যমে নয়তো ইতালিতে আগে থেকেই বসবাসরত পরিচিতজন কিংবা এলাকার লোকজনকে ম্যানেজ করে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পরিশোধ (ক্যাশ পেমেন্ট) সাপেক্ষে ঢাকাস্থ ইতালিয়ান দূতাবাস থেকে জেনুইন ভিসাপ্রাপ্ত হয়ে আকাশপথে সরাসরি ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন।

উক্ত ১৮ হাজার বাংলাদেশি যেহেতু ইতালিতে থেকে যাবার জন্য কিংবা ইতালিকে ট্রানজিট কান্ট্রি হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের অন্য কোন দেশে পাড়ি জমাবার উদ্দেশ্যেই তখন ১০-১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন জায়গা জমি বিক্রি করে কিংবা ধারকর্জ করে, ফলে যৌক্তিক কারণেই তারা ইতালির রাষ্ট্রীয় আইন মেনে সিজন শেষে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশে ফিরে যাননি কিংবা ফিরে যাবার প্রয়োজন অনুভব করেননি। অথচ ফিরে যাবেন এই শর্তে ১৮ হাজার লোক ভিসা পেলেও মাত্র ৫০-৬০ জন দেশে ফেরেন তখন।

বাংলাদেশিদের নেক্কারজনক পলায়ন প্রবণতার কারণে ইতালিয়ান সরকারও যা করার তাই করেছে। তারাও যৌক্তিক কারণেই ২০১৩ সালে প্রথম বারের মতো কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাক লিস্টেড) করে বাংলাদেশকে, যা আজ অবধি বহাল আছে। চলতি বছর করোনা মহামারির কারণে পৃথিবীর কোন দেশ হতেই সিজনাল শ্রমিক ইতালিতে না এলেও আগামী বছর থেকে যথারীতি শ্রমিকরা আসবে মৌসুমী কাজের নিমিত্তে। অন্যান্য দেশের লোকজন যথাসময়ে আসবে এবং আইন মেনে সিজন শেষে ফিরেও যাবে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশিরা? সুদিন ফেরাতে আমাদের কি কিছুই করার নেই?

কালো তালিকাভুক্ত থাকার চলমান কলংক থেকে আমাদের মুক্তির উপায় কি? কেনই বা অসম্ভব? চলতি গ্রীষ্মে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে পেশাদার কূটনীতিক মো. শামীম আহসান নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন, যাঁর টাইট এডমিনিস্ট্রেশন ও ক্যারিশমাটিক ডিপ্লোম্যাসিতে দূতাবাসের ভেতরে বাইরে পাল্টে যেতে পারে অনেক কিছুই। মৌসুমি কাজের জন্য বাংলাদেশের কোটা ফিরিয়ে আনতে নয়া রাষ্ট্রদূত যদি এদেশের একাধিক মন্ত্রণালয়কে কনভিন্স করতে পারেন তবে টানেলের শেষ প্রান্তের আলোটি দৃশ্যমান হবার ক্ষেত্র প্রস্তুত হলেও হতে পারে।

সিজনাল জব ভিসা ইস্যুতে যদি শেষ পর্যন্ত বরফ গলতে শুরু করে সেক্ষেত্রে কেমন পলিসি অবলম্বন করবে বাংলাদেশ? কী ফর্মূলায় বাংলাদেশিরা আসবে ইতালিতে মৌসুমি কাজের ভিসায়? সিজন শেষে প্রতি বছর যথাসময়ে তারা ফেরত যাবে কি? ফেরত যেতে বাধ্য করার রোডম্যাপ কেমন হতে পারে বা হওয়া উচিত? পুরনো কায়দায় দালাল বা পরিচিতজন ম্যানেজ করে ১০-১৫ লাখ টাকায় না এসে যদি নতুন কোন বিশেষ চুক্তির আওতায় সরকারিভাবেও সিজনাল শ্রমিক ইতালিতে আসার রাস্তা খুলে যায় সেক্ষেত্রেও কি ২০০৮-২০১২ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটবে?

অন্ধকার পেরিয়ে সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো যদি সিজনাল শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে পাঠানো হয় সেক্ষেত্রে আসার পর তাদের পাসপোর্ট কি রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসে জমা থাকবে? এটা কি আদৌ সম্ভব? ইতালি জুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার সুবাদে নবাগত বাংলাদেশিরা চাইলেই কিন্তু যে কোন সময় পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ওয়ান-টু’র মধ্যে ইউরোপের অন্য কোন সুবিধাজনক দেশে গিয়ে ভিন্ন নাম জন্মতারিখে রাজনৈতিক আশ্রয়ের (পলিটিকাল এসাইলাম) আবেদন করতে পারবে।

এসাইলাম কেইস টিকলে জাতিসংঘের পাসপোর্টে বৈধভাবে ভারতে গিয়ে সেখান থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও ঘুরে আসতে পারবেন তারা। কয়েক বছর কেইস টিকিয়ে রাখলে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব হাতছানি দেবে ইতালি থেকে পালিয়ে যাওয়া ঐ বাংলাদেশিকে। বিগত বছরগুলোতে এরকমই তো হয়ে এসেছে। কিন্তু এই কলংক আর কতকাল? বাংলাদেশিরা সিজন শেষে যাতে নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরে যেতে পারেন বা বাধ্য থাকেন তার জন্য বিশেষ কোন ফর্মূলা কারো জানা থাকলে অনুগ্রহ পূর্বক nasim.europe@yahoo.com এই মেইলে পাঠাতে পারেন। এতে অবশ্যই উপকৃত হবে বাংলাদেশ।

মাঈনুল ইসলাম নাসিম, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.