এলাকায় যাচ্ছেন না বেশির ভাগ মন্ত্রী,এমপি ও নেতা

(Last Updated On: July 31, 2020)

যুগান্তরঃ করোনাভাইরাস ও ভয়াবহ বন্যায় দেশের সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। রাজনীতিবিদসহ সবার মনেই বিষাদের ছায়া।

এ সংকটকালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের মতো এবারও অনেকটা ভিন্নমাত্রায় ঈদ উদযাপন করবেন রাজনীতিবিদরা।

প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, মাঠের বিরোধী দল বিএনপি, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বেশির ভাগ সিনিয়র নেতা রাজধানীতে ঈদ করবেন।

নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা না হলেও ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের খোঁজখবর রাখছেন নেতারা। ঈদের দিন তারা ডিজিটালে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

করোনা ও বন্যায় অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে দলগুলোর হাইকমান্ড। কিন্তু সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন খুব একটা নেই। বেশির ভাগ নেতা নিজ এলাকায় যাননি।

নির্বাচনের আগের ঈদে যেভাবে তৃণমূলে নেতাদের ঢল নামে এবার চিরচেনা সেই দৃশ্য নেই। তবে কিছুসংখ্যক নেতা এ মহামারীর সময়েও নেতাকর্মীদের পাশে থাকছেন। তবে তাদের সংখ্যা খুবই সীমিত। করোনা ও বন্যার দুর্যোগকালে কেউ কেউ ঢাকা থেকেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

ঢাকা থেকে নিজ এলাকায় ত্রাণ ও ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। তবে যারা ঈদে এলাকায় যাচ্ছেন না তাদের কেউ কেউ ঈদের পর নিজ এলাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো যে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করত এবার তা হচ্ছে না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ করবেন রাজধানী ঢাকায় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে।

প্রতি বছর ঈদের দিন আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিদেশি কূটনীতিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে রোজার ঈদের মতো এবার ঈদুল আজহার দিনেও প্রধানমন্ত্রীর কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি রাখা হয়নি।

যদিও ইতোমধ্যে তিনি অডিও ও ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মাথায় রেখে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও আহ্বান জানিয়েছেন।

গণভবন সূত্রে জানা গেছে, ঈদে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকলেও ফোনে ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।

দুই বছর কারাগারের থাকার পর ২৫ মার্চ মুক্তি পেয়ে বর্তমানে গুলশানের বাসায় আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি তেমন দেখা-সাক্ষাৎ করছেন না।

গত ঈদের দিন সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এবারও তাদের সময় দিতে পারেন তিনি। এছাড়া ঈদের দিন কোনো অনুষ্ঠান থাকছে না। পরিবারের সদস্য এবং বিদেশে থাকা ছেলে ও নাতনিদের সঙ্গে টেলিফোনে ঈদের শুভেচ্ছা জানাবেন তিনি।

আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল : করোনাভাইরাস সংকটে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের প্রায় সবাই এবারের ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন রাজধানী ঢাকায়। তবে দু’একজন এলাকায়ও গেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী শারীরিকভাবে অসুস্থ। বেশ কয়েক বছরের মতো এবারও তিনি ঢাকাতেই ঈদ করবেন।

দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং ১৪ দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় ঈদ করবেন।

উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদও রাজধানীতেই ঈদ করবেন। ঈদের দিন বনানীর বাসায় কাটাবেন তিনি। তবে ঈদের আগে ও পরে নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন আওয়ামী লীগের এই দুই সিনিয়র নেতা। ঈদের দিনও অনলাইনে এলাকার মানুষ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন তারা।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রোজার ঈদের মতো কোরবানির ঈদও করবেন ঢাকায়।

রাজধানীর সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে ঈদের দিন নেতাকর্মী এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, কাজী জাফর উল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমানও রাজধানী ঢাকাতেই ঈদ করবেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে মাহবুবউল আলম হানিফ বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কানাডায় ঈদ করবেন।

আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ঈদ করবেন ঢাকায়।

প্রতি বছর নিজ এলাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ঈদ করলেও এবার রাজধানী ঢাকাতেই থাকছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তবে ঈদের পর নিজ এলাকায় যাবেন তিনি। ঈদের আগেও কয়েকবার এলাকায় যান।

আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমও ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন ঢাকায়। সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন ঈদ করবেন রাজধানীর ধানমণ্ডির নিজ নিজ বাসভবনে।

এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও মির্জা আজম ঈদ করবেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়।

দলটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু ঈদ করবেন ঢাকায়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ঈদের দিন ঢাকায় থাকছেন।

এছাড়া ১৪ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার ঈদ করবেন ঢাকায়।

জাতীয় পার্টি-জেপি সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এবং বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ঈদের দিন থাকছেন ঢাকাতেই।

বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত কয়েক বছরের মতো এবারও স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে লন্ডনে ঈদ উদযাপন করবেন।

তারেক রহমানের ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমানের স্ত্রী ও মেয়ে এবার লন্ডনে ঈদ করছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদ করলেও করোনার কারণে তিনি ঢাকাতেই থাকছেন। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঈদ করবেন ঢাকায়।

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে ঈদ করবেন। এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে শওকত মাহমুদ, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, মোহাম্মদ শাজাহান ঢাকায় ঈদ করবেন।

ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ঈদ করবেন। ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় অবস্থান করে অসহায় মানুষদের কয়েক দফা ত্রাণ দিয়েছেন। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন ঢাকার বাসায় ঈদ করবেন।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ ঢাকায় ঈদ করবেন।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম গোপালগঞ্জে নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। এছাড়া বিএনপির অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারাও করোনার কারণে ঈদের দিন ঢাকাতেই থাকছেন।

এদিকে ২০ দলের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) একাংশের সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, অপর অংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ঈদে থাকছেন ঢাকাতেই।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকাতেই ঈদ করবেন

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.