সর্বশেষ সংবাদ

দুর্নীতির আখড়া ইতালির মিলান বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস

(Last Updated On: August 21, 2020)

দুর্নীতির আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে ইতালির মিলান বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল অফিস।  অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একে অপরের যোগসাজশে কনস্যুলেট অফিসকে পরিণত করেছে দুর্নীতির আখড়ায়।

প্রবাসীদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া এই অফিসে কোন সেবাই তারা পাচ্ছেন না। এমনকি কনসুলেট অফিসের দুর্নীতি  বিষয়ে রোম দূতাবাসে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি তারা।

প্রবাসীরা বলছেন, বর্তমান কনস্যুলেট জেনারেল ইকবাল আহম্মেদ যোগদানের পর থেকেই অফিসের কয়েক কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগ সাজসে অফিসটাকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। কনস্যুলেট জেনারেল নিজ ক্ষমতা বলে ২০১৫ সালে ট্রান্সলেটর নিয়োগ প্রাপ্ত ভানেসা রোমিও কে গত এক বছর ধরে বাসায় বসিয়ে রেখে পুরো বেতন দিচ্ছেন। এ কারনে একদিকে যেমন অফিসে জনবলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে অন্যদিকে অপচয় হচ্ছে সরকারী অর্থ।

সহকারী কনস্যুলেট (শ্রম ) মোহাম্মদ রফিকুল  করিমের বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগ।  প্রবাসীদের অভিযো মূলত তিনিই ক্ষমতার অপব্যবহার করে কনস্যুলেট অফিসটাকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। স্ত্রী ফারজানা করিম বেসিক ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। তাকে ট্রেনিংয়ের কথা বলে ইতালিতে এনে তার সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন।

তিনি স্থানীয় সরকারী স্কুল বাদ দিয়ে নিজের ছেলে মেয়েকে পড়াচ্ছেন শ্রীলংকানদের দ্বারা পরিচালিত ( ব্লোম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল) একটি বেসরকারী স্কুলে। এই স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে শতভাগ এবং দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে অর্ধেক টিউশন ফি দিতে হবে। কিন্তু তিনি সরকারী কোষাগার থেকে দুজনের জন্যই পাঁচ বছর ধরে শতভাগ টিউশন ফি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও শতকরা ৮৫ ভাগ টিউশন ফি সরকার থেকে এবং বাকী ১৫ ভাগ নিজ থেকে বহন করার কথা থাকলেও শতভাগ টিউশন ফি তিনি সরকারী কোষাগার থেকে খরচ করেছেন।

মোহাম্মদ রফিকুল করিমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ রয়েছে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি করে জামাত বিএনপির রাজত্ব করছেন কনস্যুলেট অফিসে। আর তাকে এই কাজে সহযোগিতা করছেন জাকির হোসেন (ক্লিনার) এবং হাবিবুর রহমান ( সিকিউরিটি গার্ড )।  তাদের তীক্ষ্ণ দূরদর্শিতায় গত ১৫ আগস্টে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান পর্যন্ত হয়নি মিলান কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে।

জাকির হোসেন (ক্লিনার) এর বিরুদ্ধে রয়েছে সরাসরি জামাত বিএনপির সাথে সম্পৃক্তা। জাকিরের মাধ্যমেই জামাত-বিএনপি মিলান কন্সুলেন্ট জেনারেলসহ বাংলাদেশ সরকারের গোপনীয় অনেক তথ্য পেয়ে থাকে।  মূলত মোহাম্মদ রফিকুল করিমের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় ক্লিনার পোস্টে চাকরি করেও অফিসে মূলত কাজ করছে কাউন্টারে অফিস সহকারী হিসাবে। আরেক জন হাবিবুর রহমান ( সিকিউরিটি গার্ড )পোস্টে কনস্যুলেট অফিসে চাকরি করেলেও কনস্যুলেট জেনারেল ইকবাল আহম্মেদের বদৌলতে তিনিও কাউন্টারে কাজ করছেন অফিস সহকারীর পদ মর্যাদায়।

মূলত এই সিন্ডিকেটটাই মিলান কনস্যুলেট অফিসকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে টাকা ছাড়া এই অফিসে কোন কাজই করা সম্ভব হয় না। এই প্রতিনিধির কাছে অনেকেই অভিযোগ করেন অনেক বার এদের বিরুদ্ধে রোম দূতাবাসে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি।

এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের  হাত থেকে মুক্তিপেতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন প্রবাসীরা।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.