রাজনীতির নেতৃত্ব কেন জানি মনে হয় মরিচিকায় নির্ভর

(Last Updated On: October 4, 2020)

ফুয়াদ বিন দামালঃ দিন দিন আমরা নেহাতই ছোট পরিসরের দিকে চলে যাচ্ছি।রাজনীতির নেতৃত্ব কেন জানি মনে হয় মরিচিকায় নির্ভর যার থেকে আগামীর প্রজন্ম হয়তো বিশুদ্ধ কিছুই পাবে না।

কিছু দিন আগে দেখলাম কোন এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা কে উদযাপন পরিষদে রুপান্তরিত হেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোপের মুখে উদযাপন আহবায়ক কমিটি পরিহার তথা ক্ষমা প্রার্থনায় নতুন ব্যানার করেছেন।এখন দেখি এই অপসংস্কৃতি চতুর্দিকে সয়লাব।বঙ্গবন্ধু কে গবেষনা না করে তৈরী হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ বা ফাউন্ডেশন।আজও কি তারা বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ কে ধারন করতে পেরেছে প্রশ্ন থেকে যায়।

প্রবাসে আওয়ামী রাজনীতিতে আমার ছাত্ররাজনীতির ২য় পরিচয়।প্রবাস হতেই যে আওয়ামী লীগের ৭৫ পরবর্তী ভিত্তি প্রস্তর সেই আওয়ামী লীগ এখন বিলীন প্রায়।প্রবাসে যেখানে আওয়ামী লীগের গ্রুপিং থাকে সেখানে তৈরী করা হয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ বা ফাউন্ডেশন নামে কতিপয় মুখ পুঁজির সংগঠন।যাতে আশ্রয় করে নেয় দলছুট বহুজনই।যাদের নূন্যতম রাজনৈতিক পরিচয় নেই অথবা সুসময়ের পাখি বা বিএনপি-জামাতের আত্মীয় স্বজন ও ব্যবসায়িক পার্টনার।দুর্দিনে দুঃসময়ে যাদের অবদান যাদের রক্ত ঘাম মেধা শ্রম ও অর্থ আশ্রয়ের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বহু নেতার দুর্দিনের সময় কেঁটেছে তাদের করা হয়েছে আত্মসম্মানে নিঃসঙ্গ।বিএনপি-জামাত কে আপন করে দলের দুর্দিনের লোকেদের করা হয়েছে পর।

অত্যন্ত দুঃখজনক এখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী তে যদি স্মরন সভা না করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয় তাহলে সেসব সাংগঠনিক নেতৃত্বের উপর প্রশ্ন থেকে যায়।

ইউরোপ আওয়ামী লীগের নজরুল ভাইয়ের সাথে আমার ব্যাক্তিগত কোন পরিচয় নেই তথা আমার ব্যাক্তিগত রাজনৈতিক আক্রশও নেই তবে খুব দুঃখজনক যে উনি সিনিয়র নেতৃত্বে থাকার পরও এমন একটি ব্যানারে বক্তব্য দিচ্ছেন যা হৃদয়ে রক্তক্ষরন হয়।নজরুল ভাই ইউরোপ আওয়ামী লীগের দলের দুর্দিনের কান্ডারি আর সে জন্যই জননেত্রী শেখ হাসিনা উনাকে সভাপতি করেছেন।শ্রদ্ধাভাজন নেতৃবৃন্দ থেকে আমরা আরও দায়িত্বশীল ও রাজনৈতিক সম্ভাষন কামনা করি না হয় প্রজন্ম ভুল বার্তা নিবে।

মহান জাতীয় শোক দিবসে কখনও ই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন হতে পারে না।বরং সেখানে জাতির জনকের জীবনীর উপর আলোকপাত উনার পরিবারের ত্যাগ ও খুনীদের প্রজন্মের কাছে বারংবার পরিচয় করিয়ে দিয়ে আগামীর প্রজন্মকে সোচ্চার রাখাই হতে হবে জাতীয় শোক দিবসের দৃঢ়তার শপথ।

অত্যন্ত পীড়াদায়ক এমন অসচেতনতা তথা দায়িত্বহীনতা।

ছবিগুলো ফেইসবুকে পেলাম যা নিয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করছেন।

আমরা আরও দায়িত্বশীলতা সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের থেকে কামনা করি।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

ফুয়াদ বিন দামালঃ সাবেক সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ , রাশিয়া শাখা ।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.