সর্বশেষ সংবাদ

প্রবাসীদের জন্য কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী: নবনিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত

(Last Updated On: September 3, 2020)

সৌদি আরবে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, প্রবাসীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদানের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সৌদি আরবে বসবাসরত অভিবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্যে জাবেদ পাটোয়ারী এ কথা বলেন।বক্তব্যের শুরুতে তিনি সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা জানান এবং নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। স্মরণ করেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে শহীদ হওয়া জাতির পিত ও তার পরিবারকে। এসময় অন্যান নেতাদেরও স্মরণ করেন জাবেদ পাটোয়ারী।

এসময় তিনি ধন্যবাদ জানান, দুই পবিত্র মসজিদের হেফজতকারী সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মহানুভবতাকে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে, যার জন্য বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক আজ এক নতুনমাত্রায় উপনীত হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে সৌদি আরবে এখন প্রায় ২২ লাখের অধিক বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ ব্যবস্থা হয়েছে।

নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষিতে কোনও প্রবাসী সৌদিতে মারা গেলে তার পরিবার ৩ লাখ টাকা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া, প্রবাসী কল্যাণ কার্ডের মাধ্যমে দেশে ঋণ প্রাপ্তি, কোনও প্রবাসী অক্ষম হয়ে পড়লে আর্থিক সুবিধা প্রধান ও প্রবাসীদের সন্তানদের দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে সহায়তা করা হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণের লক্ষে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গঠনের রূপকল্প ঘোষণা করেছেন। আসুন আমরা সবাই মিলে এক যোগে সুখী, সমৃদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা নির্মাণে আত্মনিয়োগ করি। আমাদের কষ্টর্জিত অর্থ বৈধ পথে বাংলাদেশে প্রেরণ করি।

রাষ্ট্রদূত সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারি বলেন, বর্তমান বিশ্ব করোনাভাইরাস নামক এক মহামারির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের বিশাল জনগোষ্ঠী এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। এই মহামারির কারণে আপনাদের ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে আমি অবহিত আছি। আমি জানি, কত কষ্ট করে আপনারা আপনাদের উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। আমি উপলব্ধি করি, কীভাবে আপনারা দূর এই মরূর দেশে থেকে পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোঁটানোর জন্য দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। আপনাদের পরিশ্রমই আজ বাংলাদেশের উন্নয়নে অন্যতম চালিকাশক্তি। যে স্বপ্ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ নির্মাণে আত্মনিয়োগ করেছেন, আপনারাও সেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অন্যতম অংশীদার। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সুখে দু:খে সব সময় আপনাদের পাশে থেকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছে।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছেন আপনারা। আপনাদের কাজ, নিষ্ঠা, শ্রম, ধর্মীয়, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ সৌদি আরবের সাথে আমাদের সম্পর্ককে দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনগণের জীবনবোধ, একাগ্রতা নির্ভরতাই প্রায় ২২ লাখেরও অধিক বাংলাদেশিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে সৌদি আরব আজ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শ্রমবাজার হিসেবে স্বীকৃত। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বাংলাদেশের প্রেরিত ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্সের মধ্যে আপনাদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলার। এছাড়াও সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও অত্যন্ত নিবিড়। মুসলমানদের পবিত্র স্থান মক্কা-মদিনা সৌদি আরবে অবস্থিত হওয়ার কারণে দু’দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। প্রতি বছর প্রায় লক্ষাধিক বাংলাদেশি হজ পালন ও কয়েক লাখ বাংলাদেশি ওমরাহ পালন সেই সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের দূতাবাস এই করোনাকালীন সময়ও সীমিত সম্পদ নিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়াবার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দূতাবাস প্রায় ১৪ হাজার বাংলাদেশিকে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। প্রবাসীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিভিন্ন করিগরি প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এসএসসি, এইচএসসিসহ অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দেশে ফেরত যাওয়া অভিবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য ৭০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করেছেন। যে ফান্ড থেকে প্রবাসীরা স্বল্প সুদে সহজেই ঋণ নিদে পারবেন। সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত প্রবাসীদের দৌড়গোড়ায় দূতাবাসের কনস্যুলার সেবা সহজেই পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রবাসী সেবা কেন্দ্র ইডিসি খোলা হয়েছে। যেখানে প্রবাসীরা সহজেই পাসপোর্ট নবায়নসহ অন্যান্য সব কনস্যুলার সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সৌদি সরকারের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে যদিও দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নির্ধারিত কনস্যুলার ট্যুর আপাতত স্থগিত রয়েছে, তবে তা সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে খুব শিগগিরই শুরু করা যাবে বলে আমি আশা করি। সেবা প্রদান সহজিকরণ ও স্বচ্ছতা আনয়নে দূতাবাস সর্বদা তৎপর রয়েছে।

সৌদি আরবে করোনাভাইরাসের বিস্তার কিছুটা কমলেও এখনও শেষ হয়ে যায়নি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত সকল প্রবাসী ভাই ও বোনদেরকে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধানসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আহ্বান জানান। বলেন, সৌদি সরকারের সকল আইন ও নির্দেশনা মেনে চলবেন। আমি প্রত্যাশা করি আপনারা সৌদি আরবে এমন কোনও কাজ করবেন না, যাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এই বাংলাদেশ আমার; এই বাংলাদেশ আপনার; এই বাংলাদেশ আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের। আসুন বিদেশের মাটিতে আমাদের লাল সবুজের পতাকাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে এক যোগে কাজ করি। এক্ষেত্রে আপনাদের যে কোনও পরামর্শ, মতামত, অভিযোগ আমাকে জানানোর জন্য অনুরোধ করছি। আপনাদের যে কোনও গঠনমূলক পরামর্শ আমরা সাদরে গ্রহণ করবো। সবার জন্য রইলো আন্তরিক শুভ কামনা।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী গত ২৬ আগস্ট সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে তার ক্রেডেনশিয়ালের কপি জমা দেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে এই কপি গ্রহণ করেন ডিপুটি মিনিস্টার ফর প্রটোকলস। ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ক্রেডেনশিয়ালের কপি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে তার কূটনৈতিক যাত্রা শুরু করেন।

স্বপ্নের বাংলাদেশ ।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.