সর্বশেষ সংবাদ

আট টুকরা হাড় জোড়া দিয়েছেন চিকিৎসকরা : ইউএনও ওয়াহিদা খানম শংকামুক্ত

(Last Updated On: September 4, 2020)

আমাদের সময়ঃ  নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে অস্ত্রোপচার শুরু হয় রাত ৯টায়, ২০ সদস্যের মেডিক্যাল টিমে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা. রাজিউল হক। দু’ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা জানান, অপারেশন সাকসেসফুল। ইউএনও শংকামুক্ত।

এরপর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অধ্যাপক ডা. জাহেদ হোসেন। তিনি বলেন, আঘাত ছিলো ৯টি স্থানে। মাথার খুলির একটি হাড় ভেঙ্গে মস্তিস্কে ঢুকে গিয়েছিলো, সেটি বের করা হয়েছে। আরও সাত-আটটি হাড় কেটে গিয়েছিলো, সেগুলো জোড়া দেয়া হয়েছে। নাকের নিচে ও চোখের নিচেও আঘাত ছিলো।

তিনি বলেন, ৭২ ঘণ্টার আগে রোগীর অবস্থা সম্পর্কে স্পেসিফিক আর কোনও মন্তব্য করা যাবে না। জ্ঞান ফিরলে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হবে। শনিবার অফিস টাইমে তার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানানো হবে।

মুখোশ ও পিপিই পরে ওয়াহিদার ওপর হামলা চালায় দু’জন, নৈশপ্রহরী আটক

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলায় দু’জন অংশ নিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের একজনের পরনে ছিল মুখোশ, একজনের পিপিই। তবে তারা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে— এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে, হামলার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নৈশপ্রহরী পলাশকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইমাম আবু জাফর।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার ওয়াদুদ ভুইয়া ও পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য এসব তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, ঘোড়াঘাট ইউএনও’র বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এই হামলায় অংশ নেয় দু’জন। এদের মধ্যে একজন ছিল মুখোশ পরিহিত, আরেকজন পিপিই (পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট) পরিহিত। রাতে তারা এক এক করে বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ঘটনার পর একই সঙ্গে বের হয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, সহজে যেন তাদের চেনা না যায়, সেজন্য তারা এমন ব্যবস্থা নেয়।

পুলিশ বলছে, ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, সিসিটিভি ফুটেজ ধরেই হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক বিভাগ ছাড়াও র‌্যাব ও অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সদস্যরাও তদন্তে কাজ করছেন।

এদিকে, স্থানীয়রা বলছেন, অন্যান্য উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ক্যাম্পাস ও থানা প্রায় কাছাকাছি অবস্থান হলেও ঘোড়াঘাট উপজেলার চিত্র ভিন্ন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ক্যাম্পাস ওসমানপুরে। আর ঘোড়াঘাট থানা সেখান থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। এই সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতিকারীরা নির্বিঘ্নে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ওসমানপুরে উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে ইউএনও’র বাড়ির পেছনের পাশটা সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকে সবসময়। বাড়িতে কেবল একজন নৈশপ্রহরী ছিলেন। এর বাইরে তেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই এখানে। থানার অবস্থান পাঁচ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় নিরাপদ ভেবেই দুষ্কৃতিকারীরা এ ঘটনা ঘটানোর সাহস পেয়েছেন বলে মনে করছেন তারা।

সুত্র- ঢাকা টাইমস ও সারা বাংলা

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.