সর্বশেষ সংবাদ

বোয়ালমারীতে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নিয়ে সাংবাদিক ফিরোজের মন্তব্যে তোলপাড়

(Last Updated On: September 19, 2020)

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীতে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নিয়ে  সিনিয়র সাংবাদিক,কবি কাজী হাসান ফিরোজের করা মন্তব্য নিয়ে  তোলপাড় ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

প্রকৃত ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, যাচাই-বাছাই কমিটি নিয়ে এটা তার সাহসী প্রতিবাদ বলেও অনেকে কমেন্টস করেছে। স্থানীয় সাপ্তাহিক চন্দনা সম্পাদক কাজী হাসান ফিরোজের লেখাটি  হুবহু তুলে ধরা হলো:

বোয়ালমারীর সচেতন মহল মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অধ্যাপক আঃ রশীদ সাহেবের একটা সাক্ষাৎকার নিন। ওনার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই গ্রুপে ক’জন আসল মুক্তিযোদ্ধা আছে? ডাক্তার আব্দুল জলিল মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য, উনিইতো মুক্তিযোদ্ধা না। টোকন মিয়া এদেশে আসে সেপ্টেম্বর / অক্টোবর মাসে। তিনি কোনো যুদ্ধ করেননি। তার মেধা খাটিয়েছেন রাণী ছিনতাইয়ে। রাজাকে বন্দুকের নলের মুখে বিতাড়িত করে সেই রাজপ্রাসাদে করেছেন রাত্রী যাপন। কোথায় কে যুদ্ধ করেছেন সে খবরতো তার জানার কথা না। এখোন তিনি মনগড়া ইতিহাস লিখছেন। যারা মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে ভাতা ভোগ করছেন, তারাও কাপুরুষ। নাহলে তার লেখার প্রতিবাদ তারা করতেন।
মিয়া সাদেকুর রহমানের নাম মুক্তিযুদ্ধের দলিলের প্রথম সংস্করণে দেখেছি। কিন্তু টোকন মিয়ার বিচারে তিনি মুক্তিযোদ্ধা না। কাজী মুজিবুর রহমান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একাত্তর এবং পঁচাত্তরে আওয়ামীলীগ সংগঠিত করেছেন। একাত্তরে মৃত্যু ভয় মাথার নিয়ে যুবকদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সংগঠিত করেছেন। বোয়ালমারী থানা সহ বিভিন্ন ঘাটিতে আক্রমণে স্বশরীরে অংশগ্রহন করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা না, মুক্তিযোদ্ধা তিনি, যিনি অন্যের স্ত্রীর সাথে যুদ্ধকালীন অবৈধ রাত্রিযাপন করেছেন। অন্যের স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়েছেন। ওপেন চ্যালেঞ্জ, কেউ পারলে আমার এ লেখার প্রতিবাদ করুক।

যারা প্রত্যক্ষভাবে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত তারা রশীদ কাকাকে ( অধ্যাপক আব্দুর রশীদ) জিজ্ঞেস করবেন, “আপনি গতবার যাচাই-বাছাই কালে অসুস্থ ছিলেন, যে কারণে তৈরি তালিকায় সই করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এবারতো আল্লাহর ইচ্ছায় সুস্থ আছেন। আপনার স্বাক্ষর ছাড়াতো কোনো অমুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত হতে পারবেনা। ”
নবাব উদ্দিন আহমেদ টোকন এর মতো ১০০ % মিথ্যের আশ্রয় নিবেননা। এখোনো তিনি অধিক রাত পর্যন্ত ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর সংগ্রামে লিপ্ত। এস, এম, বাদশা, বজলু, কমরেড বাদশাহ , দাউদ মোল্যা, তোতা ঠাকুর সহ অসংখ্য অমুক্তিযোদ্ধা টোকন মিয়ার কারখানায় মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকাভূক্ত হয়েছে। পাইপ লাইনে আছে আয়েজ ফকির, সলেমান শেখ, আবুল কাসেম জালাল উদ্দীন , এর মধ্যে একজন জ্ঞান পাপীও আছেন।

আমি মরহুম কাজী মুজিবুর রহমানের সন্তান হিসাবে তাঁর একটি আদর্শ ধারণ করবো। বঙ্গবন্ধু নৃশংসভাবে হত্যা হবার পর রাতের অন্ধকারে বোয়ালমারী থানার এপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে ছুটে বেড়িছেন। খুব কম সংখ্যক লোক তাঁর সাথে ছিলো। আমি এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত হলে যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যদের কুশপুত্তলিকা বানিয়ে সারাদেশে ঘুরে-ঘুরে জুতাপেটা করবো। এর গায়ে লিখে দেবো, ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা কর্তৃক ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত করার প্রতিবাদে। এরা যাচাই-বাছাই কমিটির নিজেরাই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং ঘুষখোর সদস্য ।

– কাজী হাসান ফিরোজ,সম্পাদক সাপ্তাহিক চন্দনা।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.