সর্বশেষ সংবাদ
Saudi Arabia map

সৌদি প্রবাসীদের জটিলতা নিরসনের পথে

(Last Updated On: September 24, 2020)

আমাদের সময় : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সৌদিমুখী বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে রশি টানাটানির জেরে দেশে এসে করোনা পরিস্থিতিতে আটকেপড়া ৩০ হাজার সৌদি প্রবাসীর কর্মস্থলে প্রত্যাবর্তন এবং ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই জটিলতা অনেকটাই নিরসনের পথে। প্রবাসীকর্মীরা সীমিত আকারে দেশটিতে ফিরতে শুরু করেছেন। গত মঙ্গলবার সৌদি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে ২৫২ প্রবাসী সৌদি ফিরে গেছেন। আজ বৃহস্পতিবারও সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট প্রবাসীদের নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনারও অনুমতি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সৌদিতে কর্মরত যেসব বাংলাদেশি ছুটিতে দেশে এসে বৈশ্বিক মহামারীর কারণে আটকে পড়েছেন এবং এখন কর্মস্থলে ফিরে যেতে চান, তাদের আকামার মেয়াদ আরও ২৪ দিন বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া যাদের ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যেই ফুরিয়ে যাবে, তারা আগামী রবিবার থেকে নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত
করেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি।
ফ্লাইট নিয়ে জটিলতা নিরসন এবং ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধির পর দ্বিপক্ষীয় অন্যান্য ইস্যু নিয়েও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দুদেশ। আগামী রবিবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফায়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এ ভার্চুয়াল বৈঠকে বসবেন বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এর মধ্যেই সৌদির কর্মস্থলে ফিরে যেতে টিকিটের প্রত্যাশায় গতকাল পঞ্চম দিনের মতো রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন রেমিট্যান্সযোদ্ধারা। একপর্যায়ে তারা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘেরাও করেন। পরে প্রবাসীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। জানা গেছে, বৈঠকে প্রবাসীদের কাছে আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় চেয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে আটকেপড়া প্রবাসীদের কীভাবে সৌদি আরবে তাদের কর্মস্থলে ফেরত পাঠানো যায়, আমরা তা নিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সরকার এ ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। এ সময় প্রবাসীদের ধৈর্যধারণের আহ্বান জানান তিনি।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা প্রতিনিধি দলের সদস্য মহিউদ্দিন আশিক আমাদের সময়কে বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আমরা তিনটি দাবি তুলে ধরেছি। প্রথমত, বাংলাদেশে থাকতেই আকামার মেয়াদ বাড়াতে হবে; দ্বিতীয়ত, অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে আমরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছি। তাই ভিসার মেয়াদ বাড়াতে হবে এবং তৃতীয়ত, টিকিটের যা দাম তা-ই দেওয়া হবে। বাড়তি টাকা দেওয়া হবে না। আকামার মেয়াদ বাড়াতে গেলে তিন থেকে চার লাখ টাকা দিতে হয় সৌদি সরকারকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের এ বাড়তি টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। সৌদি আরবে গিয়ে উপার্জন করে স্থায়ী আকামা করব। তাই আপাতত তিন মাসের সময় বাড়িয়ে দিতে হবে, যেন আমরা কর্মস্থলে যোগ দিতে পারি।
জানা গেছে, দেশে এসে করোনার কারণে আটকে পড়ায় যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, রবিবার থেকে তাদের ভিসার আবেদন নেওয়া শুরু করবে ঢাকার সৌদি দূতাবাস। করোনার কারণে ভিসার আবেদন নেওয়া বন্ধ রেখেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কায় থাকা বাংলাদেশিদের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে সৌদি আরব। গতকাল বুধবার সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের আকামা আরও ২৪ দিন বৈধ থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও বর্ধিতকরণ করা হবে। সৌদি সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকেও অবতরণের অনুমতি দিয়েছে, যা বাংলাদেশিদের সুষ্ঠুভাবে ফিরতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ সরকার সৌদির সব এয়ারলাইন্সকেও এখানে অবতরণ এবং বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর আগে শ্রমিকরা যেন তাদের কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারেন, সে জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের আকামার মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়েছিল। সর্বশেষ, বর্ধিতকরণের এ মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিসে শনিবার থেকেই টিকিটের জন্য ঘুরছেন প্রবাসীরা। তাদের অভিযোগÑ লাইনে দাঁড়ালেও টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। রিটার্ন টিকিট থাকার পরও অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা রি-ইস্যু করতে নিচ্ছে এয়ারলাইন্সটি। একই সঙ্গে টিকিট বিক্রি করছে ৯৫ হাজার টাকায়। প্রবাসীদের অভিযোগÑ অল্প কিছু টিকিট এয়ারলাইন্সের অফিসে রেখে বাকি সব টিকিট ট্রাভেল এজেন্সি উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে।
১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর অনুমতি দেয় সৌদি সরকার। সৌদি এয়ারলাইন্সকে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেওয়া হলেও বাংলাদেশ বিমানকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। আর এতে বিপাকে পড়েন প্রবাসীরা। অধিকাংশ প্রবাসীর ফিরতি টিকিট সৌদি এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ বিমানে করা আছে।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.