সর্বশেষ সংবাদ

সৌদি প্রবাসীদের অসহায়ত্বের সুযোগে ফ্লাইটের টিকিট সিন্ডিকেটে

(Last Updated On: October 5, 2020)

করোনাভাইরাস মহামারিতে ছুটিতে এসে দেশে আটকা পড়ছেন অনেক সৌদি প্রবাসী। দেশটির সরকার বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করলেও বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইটের টিকিট পেতে বিপত্তিতে সৌদি প্রবাসীরা। কাজে ফিরে যেতে হণ্যে হয়ে ফ্লাইটের টিকিট খুঁজছেন প্রবাসীরা। রিটার্ন টিকিট থাকলেও রি-ইস্যু করতে না পেরে কেউ কেউ নতুন টিকিট কেটে যেতেও রাজি। এমন সংকটময় পরিস্তিতিতেও সক্রিয় টিকিট সিন্ডিকেট। এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা ও ট্রাভেল এজেন্সির যোগসাজশে চলছে টিকিট বাণিজ্য। এয়ারলাইন্স বিনা খরচে রিটার্ন টিকিট রি-ইস্যু করার কথা বললেও এজেন্সিগুলো নিচ্ছে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। নতুন টিকিটে নেওয়া হচ্ছে এয়ারলাইন্স নির্ধারিত টাকার চেয়েও অতিরিক্ত।

বাংলাদেশে থেকে সরাসরি সৌদি আরবে ফ্লাইট পরিচালনা করে সৌদি অ্যাবিয়ান এয়ারলাইন্স ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ দুটি এয়ারলাইন্সেই সবচেয়ে বেশি যাতায়াত করেন প্রবাসীরা। সৌদি আরব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট প্রবেশের অনুমতি দিলে ঢাকা থেকে ফ্লাইট শুরু করে এ দুটি এয়ারলাইন্স। তবে চাপ সামলাতে যারা রিটার্ন টিকিট নিয়ে দেশে এসেছিলেন তাদের টিকিট রি-ইস্যু করে দিচ্ছে এয়ারলাইন্স দুটি। রিটার্ন টিকিট রি-ইস্যু করতে কোন চার্জ নিচ্ছে না সৌদি এয়ারলাইন্স ও বিমান। নতুন করে কোন টিকিট বিক্রিও শুরু করেনি এ দুটি এয়ারলাইন্স।

টিকিটের জন্য রাত-দিন এয়ারলাইন্সগুলোর অফিসের সামনে অপেক্ষা করে কাটছে সৌদি প্রবাসীদের। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে তারা সব চেয়ে বেশি উৎকণ্ঠায়। কাজে ফিরতে টিকিট রি-ইস্যুর আশা ছেড়ে নতুন টিকিট কিনতেও রাজী। তাদের এই অসহায়ত্বকেই কাজে লাগচ্ছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। ঢাকায় বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি সৌদি আরব ফিরতে চাওয়ার প্রবাসীদের টার্গেট করে প্রচারণা চালাচ্ছে। মোটা অংকের টাকা নিয়ে সৌদি প্রবাসীদের টিকিট রি-শিডিউল করছে তারা। ট্রাভেল এজেন্সি আর বিমানের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এই কর্মকাণ্ড চলছে। নজরদারি এড়াতে অনলাইনে ফেইসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপে এজেন্সিগুলোর তৎপরতা। শুধু ঢাকাতেই নয়, ঢাকার বাইরের থেকেও কয়েকটি এজেন্সিও এই কাজে যুক্ত।

যাত্রী পরিচয়ে শনিবার রাজাধানীর পল্টনে বিজনেস ওয়ার্ল্ড ২৪ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে গেলে প্রতিষ্ঠানটির একাউন্টস ও রিজারভেশন অফিসার মাহমুদুর রহমান জানান, বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকিট রি-ইস্যু করেন তারা। মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা রি-ইস্যু করতে ৩৮ হাজার টাকা নিচ্ছি। এ টাকার বড় অংশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাকে দিতে হয়। টিকিটের জন্য যাত্রীর রিটার্ন টিকিটের কপি, পাসপোর্টের কপি, ভিসার কাগজ দিতে হবে। বিমানে যারা আছেন, তাদের মাধ্যমে আমরা কাজটা করি। আমরা নিজেরা করতে পারি না। একটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজটা হচ্ছে, তারা তো (বিমান কর্মকর্তা) ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

৪৫ হাজার টাকায় সৌদি এয়ারলাইন্স ও বিমানে টিকিট রি ইস্যু করতে অফার করছে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে অবস্থিত ফ্লাই ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল সার্ভিস। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আলম বলেন, টিকিট রি-ইস্যুর জন্য ৫ হাজার টাকা অ্যাডভান্স পেমেন্ট করতে হবে। বাকি টাকা রি-ইস্যুর পর দিতে হবে। আমরা এখন সৌদিতে থেকে করিয়ে নিচ্ছি। সাউদিয়ার টিকিট ৩ ঘন্টা আর বিমানের টিকিট ১ দিনের মধ্যে রি-ইস্যু করা দেওয়া যাচ্ছে।

ঢাকা সৌদি রুটে ৭-৩০ অক্টোবরের নতুন টিকিটি অফার করছে বেস্ট ক্লাব ট্রাভেল পয়েন্ট। এই এজেন্সিটি নতুন চালু হওয়া জাজিরা এয়ারওয়েজে ৯০ হাজার, এমরিটসে ১ লাখ ৫ হাজার, সৌদি এয়ারলাইন্সে ১ লাখ ২৮ হাজার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনন্সে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইটের টিকিটের অফার করছে। অন্যদিকে যাদের রিটার্ন টিকিট আছে সেটি রি-ইস্যু করতে ২০ হাজার টাকা নিচ্ছে এ এজেন্সি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ হাসান বলেন, আমি বিমানের ১টা টিকিট রি-ইস্যু করতে পারছি। একটা ছেলের মাধ্যমে করি, যে বিমান অফিস থেকে করিয়ে আনে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক বলেন, প্রায় সব এজেন্সি এখন সৌদির টিকিট রি-ইস্যুও টাকা দিয়ে করছে। মূলত বড় এজেন্সির সঙ্গে এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের কন্ট্রাক্ট হয়। আর ছোট ছোট এজেন্সিগুলো বড় এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেয়। ঢাকার বাইরে থেকেও অনেকেই কাজ করে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, যাদের কাছে বিমানের সৌদি ফ্লাইটের টিকিট আছে তাদের টিকিট আমরা রি-ইস্যু করে দিচ্ছি। রি-ইস্যু করার দায়িত্ব কোনও এজন্সিকে দেওয়া হয়নি। বিমানের নিজস্ব সেলস সেন্টারগুলো থেকে যে কোনও যাত্রী নিজেই বিনা খরচে করে নিতে পারবেন। কেউ যদি টাকা নিয়ে এসব করে তা পুরোপুরি অবৈধ। আমরা এদের সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

তবে এ বিষয়ে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কাওরান বাজারে এয়ারলাইন্সটির ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করা হলে কোন কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলা ট্রিবিউন..

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.