দুর্নীতির আখড়া ইতালির মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস

(Last Updated On: November 2, 2020)

ইতালি প্রতিনিধি :  ইতালির মিলানে  কনসাল জেনারেল ইকবাল আহম্মেদের ক্ষমতার দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছেন দেশটির উত্তর অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

প্রবাসীদের অভিযোগ, মিলানে কনস্যুলেট জেনারেল ইকবাল আহম্মেদ যোগদানের পর থেকেই অফিসের কয়েক কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজশে সে অফিসটাকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। সখ্যতা গড়ে তুলেছেন জামাত-বিএনপির লোকদের সাথে। মিলানের এক বিএনপি নেত্রী সাংবাদিকের সাথে অফিসের অনেকেরই সখ্যতা রয়েছে।এর আগে ওই  সাংবাদিককে কনস্যুলেট অফিসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছিলেন আগের কনসাল জেনারেল।

ইকবাল আহম্মেদ যোগদানের পরেই ওই নারী সাংবাদিককে প্রায়ই কনস্যুলেট অফিসে দেখা যায়। মূলত ওই নারী সাংবাদিকের মাধ্যামেই জামায়াত – বিএনপির কাছে ইকবাল আহম্মেদ পাচার করছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

সহকারী কনস্যুলেট (শ্রম ) মোহাম্মদ রফিকুল  করিমের বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগ।  প্রবাসীদের অভিযোগ মূলত তিনিই ক্ষমতার অপব্যবহার করে কনস্যুলেট অফিসটাকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন।

স্ত্রী ফারজানা করিম বেসিক ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। তাকে ট্রেনিংয়ের কথা বলে ইতালিতে এনে তার সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। তিনি স্থানীয় সরকারী স্কুল বাদ দিয়ে নিজের ছেলে মেয়েকে পড়াচ্ছেন শ্রীলংকানদের দ্বারা পরিচালিত ( ব্লোম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল) একটি বেসরকারি স্কুলে। এই স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে শতভাগ এবং দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে অর্ধেক টিউশন ফি দিতে হবে। কিন্তু তিনি সরকারি কোষাগার থেকে দুজনের জন্যই পাঁচ বছর ধরে শতভাগ টিউশন ফি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও শতকরা ৮৫ ভাগ টিউশন ফি সরকার থেকে এবং বাকী ১৫ ভাগ নিজ থেকে বহন করার কথা থাকলেও শতভাগ টিউশন ফি তিনি সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করেছেন।

মোহাম্মদ রফিকুল করিমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ রয়েছে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি করে জামায়াত বিএনপির রাজত্ব করছেন কনস্যুলেট অফিসে। আর তাকে এই কাজে সহযোগিতা করছেন জাকির হোসেন (ক্লিনার) এবং হাবিবুর রহমান ( সিকিউরিটি গার্ড )।  তাদের তীক্ষ্ণ দূরদর্শিতায় গত ১৫ আগস্টে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান পর্যন্ত হয়নি মিলান কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে।

জাকির হোসেন (ক্লিনার) এর বিরুদ্ধে রয়েছে সরাসরি জামায়াত বিএনপির সাথে সম্পৃক্তা। জাকিরের মাধ্যমেই জামায়াত-বিএনপি মিলান কন্সুলেন্ট জেনারেলসহ বাংলাদেশ সরকারের গোপনীয় অনেক তথ্য পেয়ে থাকেন।

মূলত মোহাম্মদ রফিকুল করিমের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় ক্লিনার পোস্টে চাকরি করেও অফিসে কাজ করছে কাউন্টারে অফিস সহকারী হিসেবে। অন্যদিকে অফিসে ক্লিনার থাকার পরেও পাবলিকের জন্য ব্যবহৃত বাথরুমটি অধিকাংশ সময়ই ব্যবহারের অনুপোয়োগী দেখা য়ায়।

আরেক জন হাবিবুর রহমান (সিকিউরিটি গার্ড) পোস্টে কনস্যুলেট অফিসে চাকরি করলেও কনস্যুলেট জেনারেল ইকবাল আহম্মেদের বদৌলতে তিনিও কাউন্টারে কাজ করছেন অফিস সহকারীর পদ মর্যাদায়।

মূলত এই সিন্ডিকেটটাই মিলান কনস্যুলেট অফিসকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। এদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলেই আটকে দেয়া হচ্ছে পাসপোর্ট এবং মামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। তেমনি একটা ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচিত হচ্ছে।

ইতালিতে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল মিলান অফিসের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় এক প্রবাসী সাংবাদিকের পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতালি থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশি দেশপ্রিয় নিউজ পত্রিকার সম্পাদক সোহেল মজুমদার শিপন এ অভিযোগ করেন।

জানা যায়, চলতি বছরের ২১ আগস্ট ‘দুর্নীতির আখড়া ইতালির মিলান বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস’ শিরোনামে  অনলাইন দেশপ্রিয় নিউজ পোর্টালে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন সোহেল মজুমদার শিপন। এরপর থেকেই স্থানীয় কনস্যুলেট অফিসের কর্মকর্তারা তাকে প্রতিবেদনটি মুছে দিতে বলেন। কিন্তু শিপন এতে রাজি না হওয়ায় নবায়নের জন্য জমা দেয়া তার নিজের ও দুই সন্তানের পাসপোর্ট আটকে দেয় মিলান জেনারেল কনস্যুলেট অফিস।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সোহেল বলেন, ‘গত আগস্টে আমি ও আমার পরিবারের সবাই পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আবেদন করি। পরে কিছুদিন পূর্বে কনস্যুলেট অফিসের ফেসবুক পেইজে পাসপোর্ট ডেলিভারি লিস্টে আমার স্ত্রীর পাসপোর্ট নাম্বার দেখতে পাই। কিন্তু আমার নিজের ও আমার দুই সন্তানের পাসপোর্ট ওই তালিকায় আসেনি। পরে আমি এ বিষয়ে জানার জন্য কনসাল জেনারেল ইকবাল আহমেদকে মেইল করলেও তিনি কোন উত্তর দেননি। পরে বহুবার ফোনে করেও কনস্যুলেট অফিস থেকে আমি কোন উত্তর পাইনি।

তিনি আরও বলেন, ‘কনস্যুলেট অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও যখন আমি কোন উত্তর পাইনি তখন আমি অন্য মাধ্যমে জানতে পারি যে আমার সংবাদ প্রকাশের জন্যই নাকি আমার পাসপোর্ট আকটে রেখেছে কনস্যুলেট অফিস।

এ বিষয়ে কনসাল জেনারেল ইকবাল আহমেদের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে ইতালিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবাহান সিকদার বলেন, রোম দূতাবাস বা মিলান কনস্যুলেট অফিসে এমন কোন ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করবো।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.