নাপিত স্বামীকে নিয়েই সুখী ছিলেন গাইনি ডাক্তার!

(Last Updated On: December 23, 2020)

রংপুর নগরীর সেনপাড়া এলাকার এক গাইনি চিকিৎসক অপহৃত হওয়ার ২১ মাস পর ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে তাকে উদ্ধার করেছে সিআইডি পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে অপহরণকারীকে। মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) নগরীর কেরানী পাড়া এলাকায় অবস্থিত সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ খবর জানান রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির পুলিশ সুপার জানান, গত বছরের মার্চ মাসে রংপুরে গাইনি চিকিৎসক ডা. আয়েশা ছিদ্দিকা মিতুকে (৩৪) অপহরণের অভিযোগে তার বাবা ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর রংপুরের কোতোয়ালি থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, নগরীর আলমনগর কলোনির ‘নাপিত’ রফিকুল ইসলাম ওরফে বাপ্পি তার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় দীর্ঘদিন পুলিশ চেষ্টা করেও অপহৃত চিকিৎসক মিতুকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। সিআইডি পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই ইউনুছ এরপর দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে ডা. মিতুকে সোমবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার চাঁনমিয়া হাউজিং এর একটি বাসা থেকে উদ্ধার করেন ও অপহরণকারী বাপ্পিকে গ্রেফতার করেন।

সিআইডির পুলিশ সুপার জানান, গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মিতু এর আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বাপ্পির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার আগের স্বামীর ঘরে একটি পুত্র সন্তান এবং বাপ্পির ঘরেও একটি সন্তান রয়েছে। তারা অনেক দিন আগেই বিয়ে করে সংসার করে আসছিলেন বলে সিআইডিকে জানিয়েছেন। যেহেতু অপহরণ মামলা হয়েছে সে কারণে তাদের উদ্ধার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সিআইডি পুলিশ সুপার জানান, আমরা জানতে পেরেছি, চিকিৎসক মিতুর সঙ্গে ৮/৯ বছর ধরে বাপ্পির প্রেমের সম্পর্ক। এর আগেও একবার তারা পালিয়ে গিয়েছিলেন। অনেক বুঝিয়ে মিতুকে বাড়িতে আনা হলেও আবারও তারা পালিয়ে যান। অপহৃত বাপ্পি পেশায় ‘নাপিত’ হলেও তিনি মিতুর বাবার ব্যবসায় ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতেন। দুজনে ঢাকায় চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ ২১ মাস ধরে গাইনি চিকিৎসক রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চেম্বার দিয়ে সেখানে রোগী দেখতেন। সেখানে যা রোজগার হতো তাই দিয়ে বাসা ভাড়াসহ তাদের সংসার খরচ চলতো বলে মিতু জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়াও ডা. মিতু জানিয়েছেন, বাপ্পির সঙ্গে ২১ মাসের বিবাহিত জীবনে তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়েছে, তারা সুখেই আছেন। বরং তার বাবা তাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছেন বলে দাবি করেছেন এই ডাক্তার। ’

সূত্র-বাংলা ট্রিবিউন

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.