বিএনপিতে পদত্যাগের হিড়িক!

(Last Updated On: মে ৫, ২০১৭)

 

বাংলাদেশের অন্যতম দল বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বড় আকারের কমিটি ঘোষণা করে ৬ আগস্ট।তবে দলের নেতাকর্মীরা এ কমিটি নিয়ে বেশ সমালোচনা করছে।বলা হচ্ছে অনেক ত্যাগী নেতাদেরকে মূল্যায়ণ করা হয়নি। অন্যদিকে অনেককে মূল্যায়ণ করা হয়েছে যাদের পার্টিতে কোন অবদান নেই।
এরপর কমিটি নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

এ কারণেই পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র দুই নেতা। দু-এক দিনের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার ঘোষণা দিতে পারেন আবদুল্লাহ আল নোমান। শুধু পদ ছাড়া নয়, বিএনপির রাজনীতি থেকেও তিনি সরে দাঁড়াতে পারেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এছাড়া আরো কয়েকজন পদ ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যে কোন সময় তারা পদত্যাগ করতে পারেন।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের ভাষ্য, আবদুল্লাহ আল নোমান এবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি এই পদ পেতে পারেন বলে দলে জোরালো আলোচনাও ছিল। কিন্তু তাঁকে ফের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এতে তিনি মনক্ষুণ্ম হয়েছেন।

কমিটি ঘোষণার ৪ ঘন্টার মাথায় বিএনপির সদ্য ঘোষিত নতুন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোসাদ্দেক আলী ফালু ও সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম। ৬ আগস্ট তারা পৃথকভাবে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠান।

কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, পদত্যাগপত্রে মোসাদ্দেক আলী ফালু তাকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত করায় খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ব্যক্তিগত ও শারীরিক কারণে তার পক্ষে ওই পদে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তাই নতুন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য পদত্যাগপত্রে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান তিনি।

কমিটি ঘোষণার পর বিকেলে ফালুর মালিকানাধীন বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির একটি গাড়িতে করে টেলিভিশনের এক কর্মকর্তা গিয়ে ফালুর পদত্যাগপত্র কার্যালয়ে পৌঁছে দেন। বর্তমানে ফালু চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। অন্যদিকে কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক পদ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার চেয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে চিঠি দিয়েছেন কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম।

ক্ষোভ প্রকাশ করে শামীম জানান, তিনি ছিলেন সহ-দফতর সম্পাদক। তাকে সহ-দফতর সম্পাদকের চেয়ে নিচের পদ সহ-প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে। তাও আবার তিন নম্বর সহ-প্রচার সম্পাদক। আর এক নম্বর সহ-প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীমকে। আলীম শামীমের কনিষ্ঠ।
বিএনপির সহযোগী সংগঠন জিয়া পরিষদ থেকে পদ পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির সহকারি মহাসচিব অধ্যক্ষ বাহারউদ্দিন বাহার। জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য কবির মুরাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ৭ আগস্ট গণমাধ্যমে পাঠানো এক চিঠি তিনি বলেন, আমি একান্তই ব্যক্তিগত কারণে জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পদত্যাগ করলাম।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়ার ক্ষোভে পদত্যাগ করেছেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দ্বীন মোহাম্মদ দীপু। গত রোববার বিএনপির মহাসচিব বরারব লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। পদত্যাগপত্রে দ্বীন মোহাম্মদ দীপু উল্লেখ করেছেন, বিগত সময়ে সরকারবিরোধী হরতাল-অবরোধসহ প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে নবগঠিত কমিটিতে স্থান না হওয়ায় এবং আন্দোলন সংগ্রামে যারা মাঠে ছিলেন না, তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়ার কারণে স্বেচ্ছায় তিনি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

তিরস্কার স্বরূপ পদ দেয়া হয়েছে আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক একই অবস্থা তারেক রহমানের বিশ্বস্ত বিএনপির গত কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মাজহারুল ইসলাম দোলনের ক্ষেত্রেও। তাকে পদাবনতি দিয়ে নেয়া হয়েছে নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে।

সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহানকেও মূল্যায়ন করা হয়নি। দলের দুর্দিনে তিনি সারা দেশে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করতে নিষ্ঠার সঙ্গে ভূমিকা পালন করছেন। তাকে স্থায়ী কমিটিতে না রাখায় হতাশ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তার অনুসারী নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গণমাধ্যমকে বলেন, দলে একইপদের বিপরীতে একাধিক যোগ্য নেতা রয়েছেন। সবাই পদ প্রত্যাশা করবেন এটাইতো স্বাভাবিক। কিন্তু সবাইকেতো খুশি করা যাবে না। এ নিয়ে অনাকাক্সিক্ষত কিছু না করে দলীয় ফোরামে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী রাজনীতি থেকে ‘অবসর’ নিয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে লেখা চিঠিতে এই অবসর নেওয়ার পাশাপাশি বিএনপির সব পদ থেকেও পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এম শাহরিয়ার রুমী পদত্যাগ করেছেন। রুমী বলেছেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক চড়াই উৎ​রাই পার করার পর আমি বর্তমানে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, অনেকেই পদত্যাগের চিন্তাভাবনা করছেন। এমনটা হলে হঠাৎ করেই কেন্দ্র থেকে শুরু করে সারা দেশে পদত্যাগের হিড়িক পড়ে যেতে পারে বিএনপিতে- যা দলটিকে আরো একবার বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আরেক দফা ভাঙনের মুখে পড়তে পারে দলটি। আবার কেউ কেউ পদত্যাগ না করে কৌশল হিসেবে নিষ্ক্রিয় থাকার নীতি অনুসরণ করতে পারেন। রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রভাবশালী আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, সংস্কারবাদীদের নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা কোঠায় সেলিমা রহমান প্রত্যাশা অনুযায়ী পদ না পাওয়ায় দারুণ হতাশ হয়ে পড়েছেন। সিনিয়রিটি লঙ্ঘন করা হয়েছে প্রতিটি পদের ক্ষেত্রে। তালিকায় প্রবীণ নেতা ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে রাখা হয়েছে এম মোরশেদ খান ও হারুল রশীদের পরে। অথচ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের প্রত্যাশা ছিল স্থায়ী কমিটির সদস্য

– বিডিমর্নিং।।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.