জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান

(Last Updated On: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৬)

ঈদের শুভেচ্ছায় দেশবাসীকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যারা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত তারা শান্তির ধর্ম ইসলামকে হেয় করতে চায়। আজ মঙ্গলবার সকালে সরকারি বাসভবন গণভবনে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সমগ্র দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলমানদেরও মোবারকবাদ জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের না, বিশ্বব্যাপী এই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ একটা বিরাট সমস্যা। এই সমস্যা যার যার নিজ নিজ অবস্থান থেকে মোকাবেলা করতে হবে।” 4

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের নবী করিমও (সা.) বলে গেছেন, নিরীহ মানুষকে যেন হত্যা না করা হয়। তারপরও ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করা, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা। আমি মনে করি, এতে আমাদের ইসলামেরই ক্ষতি হচ্ছে। ইসলাম ধর্মের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। ইসলাম ধর্ম পবিত্র ধর্ম। এই শান্তির ধর্মকে যারা হেয়প্রতিপন্ন করছে, তারা শান্তিপ্রিয় মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে।’

এবার ঈদে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনার খবর আমরা পাইনি। সবাই ভালোভাবে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরেছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, “প্রত্যেকে চমৎকার ভূমিকা নিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থাও যথাসময়ে তথ্য দিয়ে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেতে সহায়তা করছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা, সেটা যেন অব্যাহত থাকে। মাঝে মাঝে দু-একটি ঘটনা আমাদের থমকে দেয়। কিন্তু আমরা যেকোনো ঘটনা মোকাবিলা করতে পারি।’ বক্তব্যের শুরুতে গাজীপুরের টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে ৩৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় যে ৩৩ জন নিহত হয়েছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। যারা আহত, তাদের চিকিৎসা চলছে। যারা নিহত হয়েছে, তাদের পরিবারবর্গকে সচরাচর যেভাবে সাহায্য করে থাকি, আমরা সেভাবেই করব।’ তিনি আরও​ বলেন, ‘যারা কারখানা বা ফ্যাক্টরি করবেন, এর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করবেন। এ বিষয়গুলো আমি ইতিমধ্যে শিল্পমন্ত্রীকে বলেছি। সারা বাংলাদেশে যেখানে এ ধরনের কারখানা রয়েছে, সেখানে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে। যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।’

জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ১২ দিনের সফরে ঈদের পরদিন বুধবার ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন তিনি। এজন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। আমি আগামীকালই বিদেশে যাচ্ছি। কানাডায় আমার একটা কর্মসূচি আছে। এরপর নিউ ইয়র্কে যাব। আমি সকলের দোয়া চাই। এর আগে সকাল ৯টা থেকে গণভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। – www.dainikamadershomoy.com

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.