নেতারাও রাজপথে থাকে নাই: খালেদা জিয়া

(Last Updated On: January 2, 2017)

১ জানুয়ারি ছাত্রদলের ৩৮ বছরপূর্তি উপলক্ষে রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উড়িয়ে এবং পায়রা অবমুক্ত করে এ অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন  বেগম খালেদা জিয়া আরো বলেছেন, ‘বিগত দিনে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বিএনপি তিনবার ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। দলে কোনো লবিং-গ্রুপিং থাকবে না। নতুন নেতৃত্বে দলকে গুছিয়ে ক্ষমতায় যেতে নিজেদের তৈরি করতে হবে। বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসবে।

বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আছে, থাকবে। কিন্তু যারা দেশের সঙ্গে বেইমানী করছে, দেশকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে, তাদের মানুষ ক্ষমা করবে না, আল্লাহও ক্ষমা করবেন না।’

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই-এ স্লোগান আমি মানতে রাজি না। কারণ, রাজপথে থাকার কথা, কিন্তু রাজপথে থাকেনি। রাজপথ ছাড়ি নাই বললে ভুল হবে, দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও রাজপথে থাকে নাই।’

বেগম খালেদা জিয়া আরো বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে দেশকে ধ্বংস করতে চায়। তারা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে নতুন নতুন আইন করছে।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘গোয়েন্দা, গোয়েন্দা, গোয়েন্দা; এখানে বাংলাদেশের না অন্য দেশের গোয়েন্দা আছে এটাও জানা দরকার। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, একটি স্বাধীন দেশে অন্য দেশের গোয়েন্দা থাকতে পারে না। নিজেদের দেশের স্বার্থ নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে।’

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়ে বলেছেন, ‘আইন ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং ইউনিফর্মের মর্যাদা রক্ষায় কথায় কথায় গুলি করা বন্ধ করুন। এর জন্য দেশ স্বাধীন করা হয়নি। আপনারাও এ দেশের মানুষ, যাদের গুলি করে হত্যা করছেন তারাও এ দেশের মানুষ। কাজেই দেশবাসী জানতে চায়, এরা (পুলিশ) কি বাঙালি নয়, বাংলাদেশি মানুষ নয়।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘বছরের নতুন দিন খবরের কাগজ খুলে দেখতে পেলাম হত্যা, খুন, গুমের চিত্র। বিএনপি- আওয়ামী লীগ বুঝি না। এ হত্যা, খুন, গুম বন্ধ করতে হবে।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, ‘এরা পরিকল্পিত ও চিন্তাভাবনা করে দেশটা ধ্বংস করে দিতে চায়। দেশটাকে অন্য দিকে ঠেলে দিতে চায়। এই জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। শহীদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। বর্তমান সরকার স্বৈরাচার এরশাদের চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি স্বৈরাচার।’

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ‘আমি একটা কথা বললেই শিয়ালগুলো হুক্কা হুয়া করে উঠে। যখন সীমান্তে বিএসএফ (ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী) যখন গুলি করে মারে তখন শেয়ালগুলো মুখ বন্ধ করে থাকে।’ এ সময় তিনি বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশের ফেলানীর নাম উল্লেখ করেন।

বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ও আমার বিরুদ্ধে ৫ টি মামলা ছিল। যদিও এক নোটিশে আওয়ামী লীগের প্রায় সাড়ে সাত হাজার নেতাকর্মীর মামলা প্রত্যাহার করা হলেও আমার ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি।’ এ সময় বিএসএফ-এর হত্যাকাণ্ড, ফেলানী প্রসঙ্গ, ব্যাংক থেকে টাকা লুট, বিগত ২০১৪ সালের ৯০ দিনের আন্দোলনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘পুলিশই ২০১৪ সালে বিএনপি-জোটের ৩ মাসের আন্দোলনে গাড়িতে আগুন দিয়েছে ও পেট্রোল বোমা দিয়েছে।’ গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশের আগুন দেওয়ার বিষয়টি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের সময় পুলিশই গাড়িতে আগুন দিয়েছে। এরপর বিএনপির নামে চালিয়ে দিয়েছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগকে নিয়ে পুলিশই ওই সময় নাশকতা চালিয়েছে।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাংলাপ প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, ‘ নতুন ইসি আমি বিএনপির মতো করে চায়নি। নিরপেক্ষ নিবার্চন কমিশনের কথা বলেছি। শুধু নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হলেই হবে না, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষাতে সহায়ক সরকার চেয়েছি। যারা নিরপেক্ষ সরকার হবে। যারা ইসিকে সহায়তা দিবে। কারণ, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।’

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘১৪ দলে কারা আছে, মহাজোট আছে, থাক, তারা কোনো দিনও নির্বাচিত হতে পারেনি। জামানতটাও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগেকে ছাড়তে চায় না। তারা চায় না আওয়ামী লীগের প্রসার ঘটুক।’

ছাত্রদলের উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘দলকে গুছিয়ে আমরা আবার ক্ষমতায় আসবো। এটা হউক আজকের দিনে, প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে, তোমাদের শপথ।’

রবিবার বিকাল সোয়া চারটায় সমাবেশ স্থলে আসেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এরপর জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে ছাত্রদলের সমাবেশ উদ্বোধন করেন তিনি। ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ। সমাবেশের শুরুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মামুনুর রশীদ। সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেন সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.