ইউরোপে আওয়ামী লীগের হালচাল (১), গ্রীস ও পর্তুগাল

(Last Updated On: January 26, 2017)

দেওয়ান শফিঃ ইউরোপের আওয়ামী লীগের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন — ইউরোপ আওয়ামী লীগ এর সার্বিক অবস্থা যে আমরা ইউরোপের প্রতিটি দেশ ভিত্তিক ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছি – আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি সত্যিকার আওয়ামী লীগ এর অবস্থা তুলে ধরতে —

  গ্রীস আওয়ামী লীগ —

গ্রীস আওয়ামী লীগ এর অবস্থা বেসামাল। একসময়ের আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ও ইউরোপ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি এর উপস্থিতিতে ২০০২ সালে জাহাঙ্গীর আলম সভাপতি ও কামরুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক করে গ্রিস আওয়ামী লীগ কমিটি গঠিত হয়েছিল।

একসময় কামরুল ইসলাম বাংলাদেশে চলে গেলে কার্যক্রম এর গতি থমকে যায়। অবশ্য ইউরোপ জুড়ে অর্থনীতিক মন্দার কারণে গ্রীস অবস্থানরত বাঙালিদের অবস্থা খারাপ হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি গ্রীস আওয়ামী লীগকে সংগঠিত ও গতিশীল করার জন্য গ্রীস আওয়ামী লীগের কর্মী সভার আয়োজন করে। গ্রীস আওয়ামী লীগ এর সম্মেলন করার লক্ষে সম্ভাব্য সবার বায়োডাটা নিয়ে এস রহমান খান কে আহবায়ক ও বাবুল হাওলাদার কে সদস্য সচিব করে তিন মাসের জন্য আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছিল।

গ্রীসে ফরিদপুর অঞ্চলের লোক বেশি। মাদারীপুর , ফরিদপুর , শরীয়তপুর এর আওয়ামী লীগ এর কর্মীর আধিক্য বেশি। ইউরোপ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম হক গ্রীস সফর করলে ফরিদপুর অঞ্চলের সবাইকে নিয়ে সমঝোতা চেষ্টা করে। কিনতু ব্যর্থ হয়। মান্নান মাতবর ও বাউল হাওলাদার নিজেদের মধ্যে পদ ভাগাভাগি করে গ্রীস আওয়ামী লীগ এর কমিটি অনুমোদনের চেষ্টা করে। কিনতু ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি যে বা যারা ফোন করে সবাইকে নিয়ে কমিটি করতে অনুরোধ করে। আবার ২০১৬ সালে ১৫ অগাস্ট জাতির জনকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইউরোপ আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক গ্রীস সফর করেন আবার সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে রাকিব মৃধা কে আহবায়ক ও মিজানুর রহমানকে সদস্য সচিব করে সম্মেলন করার নির্দেশ প্রদান করে। মান্নান মাতবর ও বাবুল হাওলাদার যুগ্ম সম্পাদক শামীম হক এর মদদ পুস্ট বলে স্বীকৃত। গ্রূপিং এর কারণে গ্রীস আওয়ামী লীগ সম্মেলনের মুখ দেখছে না।

এই বিষয়ে গ্রিস আওয়ামী লীগ  আহবায়ক রাকিব মৃধা বলেন , কাউন্সিলের সব কাজ সম্পন্ন। ইউরোপ আওয়ামী লীগ যখন নির্দেশ প্রদান করবেন তখন সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হবে। ইউরোপ আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল দাশ গুপ্ত নাম ব্যবহার করছে অন্য পক্ষ। কিনতু কোন লিখিত নির্দেশ যেকোন পর্যন্ত দেখতে পারে নি।

                                                               পর্তুগাল আওয়ামী লীগ

পর্তুগাল আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রক হচ্ছেন পর্তুগাল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রফিক উল্যাহ। পর্তুগাল আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার পিছনে যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তিনি লন্ডন চলে গেলে ও ব্যবসা বাণিজ্য পর্তুগালে থাকার কারণে এখনো পর্তুগাল আওয়ামী লীগ এর নিয়ন্ত্রক। তিনি আবার সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ  সাধারণ সম্পাদক এম এ গণি এর অন্যতম পছন্দের লোক বলে স্বীকৃত।

২০১৪সালে জহিরুল ইসলাম জসিম ও শওকত ওসমানকে সাধারণ সম্পাদক করে পর্তুগাল আওয়ামী লীগ এর কমিটি গঠিত হয়। ইউরোপ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি অনুমোদিত এই কমিটি। পর্তুগালে একসময় নিজাম ও গ্রিন নাম আরেকটি কমিটি ছিল পাল্টা। এখন বিলীন হয়ে মূল কমিটির সাথে মিশে গেছে। ২০১৭সালের জুন মাসে পর্তুগাল আওয়ামী লীগ এর মেয়াদ সম্পন্ন হৰে।

…চলবে …

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.