বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

আজ করোনাকালীন দ্বিতীয় ঈদুল আজহা

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ জুলাই, ২০২১
  • ১৭৯ বার

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পালিত হয় এ উৎসব। ঈদুল আজহা কোরবানির ঈদ হিসেবেও পরিচিত। কোরবানি শব্দটির অর্থ ত্যাগ ও নৈকট্য। মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি ও মানবকল্যাণে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করাই মূলত ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের তাৎপর্য। প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার অনন্য ত্যাগের নজির স্থাপন করে গেছেন। আল্লাহর নির্দেশেই তিনি ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন মক্কার মরু প্রান্তরে।

মহান আল্লাহ হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর সংকল্পের দৃঢ়তা দেখে তাঁর কোরবানি কবুল করেন এবং হযরত ইসমাইল (আ.)-এর স্থলে একটি দুম্বা কোরবানি মঞ্জুর করেন। এরই সূত্র ধরে গোটা মুসলিম জাহানে আজও চলে আসছে কোরবানির এই ধারা। এর ভেতর দিয়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের দিকে অগ্রসর হয় মুসলিম জাতি। কোরবানি মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যাঁদের ওপর জাকাত ওয়াজিব, তাঁদের ওপর কোরবানিও ওয়াজিব। পশু কোরবানির মাধ্যমে গরিব-দুঃখী ও পাড়া-প্রতিবেশীর আপ্যায়নের ব্যবস্থা হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্বার্থত্যাগ, আত্মত্যাগ ও সম্পদত্যাগই হলো কোরবানি। কোরবানি শুধু একটি আনন্দ-উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, আদর্শ, শিক্ষা ও দর্শন। ঈদুল আজহা আত্মত্যাগের প্রেরণায় উজ্জীবিত এক অনন্য আনন্দ উৎসব। যে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণ মূর্ত হয় মানুষের জীবনে, তার জন্য চরম ত্যাগ স্বীকারের এক প্রতীকী আচার এই কোরবানি। ঈদুল আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিজের অহমিকা ও উচ্চাভিলাষ উৎসর্গ করা।

পশু কোরবানির ভেতর দিয়ে মানুষের ভেতরে থাকা পশুশক্তি, কাম-ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি রিপুকেই ত্যাগ করতে হয়। তাই শুধু পশু নয়, প্রয়োজন পশুত্বের কোরবানি। কোরবানিদাতা শুধু পশুর গলায় ছুরি চালান না, তিনি তাঁর সব কুপ্রবৃত্তির ওপরও ছুরি চালিয়ে তাকে নির্মূল করেন। এটাই হলো কোরবানির মূল শিক্ষা। পশু কোরবানির ক্ষেত্রে এ অনুভূতি অবশ্যই প্রয়োজন। আজ এমন একসময়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে, যখন সারা বিশ্ব করোনাভাইরাস মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত করোনার লক্ষ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরন করেছে এবং আক্রান্ত হচ্ছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। অনেকের আত্মীয়-স্বজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। তাদের বাড়িত ঈদের আনন্দ নেই। এ সব মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা স্মরণ করে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া ও ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরির করতে হবে। বিত্ত বৈভবের প্রতিযোগিতা ও মহড়া না দেখিয়ে দুস্থ, দুর্গত ও অসহায় মানবতার পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের বড় দাবি। পরিশেষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সকলকে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপনের আহবান জানাই এবং ঈদের শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির

লেখক, সাংবাদিক ও ধর্মীয় টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপক এবং চেয়ারম্যান-গাউছিয়া ইসলামিক মিশন, কুমিল্লা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 DeshPriyo News
Designed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!