শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

আমলারা বেপরোয়া আচরণ করছেন:সংসদে রুমিন ফারহানা

মানবজমিন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ জুন, ২০২১
  • ২৯৮ বার

আমলারা বেপরোয়া আচরণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। রোববার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ সালের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করার কারণে আমলা ও আমলানির্ভর সরকারের হাতে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। আমলাদের বাড়াবাড়ি ও বেপরোয়া আচরণের শিকার হয়েছেন অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক এবং খাবার চেয়ে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা ফরিদ আহমেদ। আমলা ও আমলানির্ভর এই সরকার চরম বেপরোয়া ও বাড়াবাড়ি আচরণ করছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ক্রমাগত পেছাতে পেছাতে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম। মিয়ানমার, আফগানিস্তান এমনকি উগান্ডাও বাংলাদেশের ওপরে। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে বারবারই সংখ্যার ওপর জোর দেয়। কোনো গণমাধ্যমের ওপর যদি সত্য রিপোর্ট প্রকাশের জন্য নানা ধরনের নিবর্তন নেমে আসে, তখন কোনো গণমাধ্যমই আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, তা সে সংখ্যা যা–ই হোক না কেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুমিন ফারহানা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ছয় ঘণ্টা সাংবাদিক রোজিনাকে যারা আটকে রেখে অপদস্ত করেছেন তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম যখন ‘এখন এক কোটি দেব, পরে আরও পাবেন’, ‘৩৫০ কোটি টাকার জরুরি কেনাকাটায় অনিয়ম’, ‘পড়ে আছে জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী’, ‘কিটের ঘাটতি নিয়ে দুই রকমের তথ্য’, ‘উৎপাদনের নয়, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিটি গোপনীয়তার’ শিরোনামে নানা রিপোর্ট করে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরেছেন।

এসব কারণেই আমলানির্ভর সরকারের হাতে রোজিনা ইসলাম চরম হেনস্তার শিকার হন জানিয়ে তার মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে মহাবিপদে পড়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের ফরিদ আহমেদ। তিনি চারতলা বাড়ি এবং একটি হোসিয়ারি কারখানার মালিক, এমন তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও ৩৩৩ নম্বরে কল করে অযথা হয়রানি ও সময় নষ্ট করার দায়ে ফরিদ আহমেদকে শাস্তি হিসেবে ১০০ গরিব লোকের মধ্যে খাদ্যসহায়তা বিতরণের নির্দেশ দেন। তিনি স্ত্রীর অলংকার বন্ধক রেখে এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে ঋণ করে ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় করে খাদ্যসহায়তা করতে বাধ্য হন। ইউএনও সুনির্দিষ্ট আইন ছাড়াই তাকে শাস্তি দেন।
অথচ পৈতৃক চারতলা বাড়িটি ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে ভাগ হওয়ার পর ফরিদের ভাগে পড়েছে মাত্র তিনটি কক্ষ। করোনার সময় তিনি একটি হোসিয়ারি কারখানায় কর্মচারীর কাজ করছিলেন। স্ত্রী, কন্যা আর এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী পুত্র নিয়ে তার দিন আর চলছিল না। করোনা তাকে খাদ্যের কষ্টের মুখোমুখি করেছে। এরমধ্যেই হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে মহাবিপদে পড়েন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 DeshPriyo News
Designed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!