বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

প্যারিসে শেখ হাসিনাকে নাগরিক সংবর্ধনা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩৩৬ বার

সেলিম উদ্দিন, প্যারিস থেকে: ফ্রান্স সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্যারিসে নাগরিক সংবর্ধনা জানান ফ্রান্স ও ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশীরা। ফ্রান্স আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানের ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভাটি পরিচালনা করেন ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন কয়েছ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ,বাংলাদেশ বিশ্বে যে মর্যাদার আসনে পৌঁছেছে তা ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আদালতের রায়ে দণ্ডিত পলাতক আসামি তারেক রহমান বিদেশে বসেও ‘চক্রান্ত করছে’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার ‘সব চক্রান্ত মোকাবেলা করে’ দেশকে বিশ্বের একটি ‘সম্মানজনক অবস্থানে’ নিয়ে গেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে হত্যাচেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার সাথে তারা যে সরাসরি জড়িত, এটা প্রমাণিত সত্য। আর সেই মামলায় তারেক জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এখন সে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে পলাতক। পলাতক হিসেবে বাইরে বসে দেশের ভেতরে এখনও তার চক্রান্ত শেষ হচ্ছে না। চক্রান্ত সে চালিয়ে যাচ্ছে। “আমরা এই সব চক্রান্ত মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।” দেশে যে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে, সেখানে তাদের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবাসীরা এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করলে তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।

দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে গণতান্ত্রিক সব সংগ্রাম ও আন্দোলনেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা সব সময় জনগণের পাশে ছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদচিহ্ন অনুসরণ করে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে সক্ষম হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তাই, এখন থেকে কেউ আমাদের অবহেলা করতে পারবে না। বিশ্ব অবশ্যই আমাদের সম্মান করবে কেননা আমরা দেশকে এমন উচ্চতায় নিয়ে এসেছি।“ তিনি বলেন, দেশকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে আসার পথে তার সরকারকে বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসংযোগ, তাকে হত্যার জন্য হামলার মত অনেক ‘বাধাবিপত্তি ও ষড়যন্ত্রের’ মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে দেশ ও জনগণের অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অথচ অতীতে বিএনপি-জামায়াত চক্র ‘দুর্নীতি ও ঋণ খেলাপির সংস্কৃতি’ চালু করে শুধু নিজেদের ভাগ্য বদলের জন্য অর্থ ‘হাতিয়ে নিয়েছে’। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এবং তার পরের সরকারগুলো ক্ষমতা ধরে রাখতে সমাজে একটি ‘অভিজাত শ্রেণি’ সৃষ্টি করে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিচারের নামে জিয়াউর রহমান শত শত সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে। নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা তাদের লাশও পায়নি। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এতিমদের অর্থ আত্মসাতের দায়ে আদালতে দণ্ডিত। তাদের পুত্র তারেক রহমান ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডিত।” দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন প্রকল্প পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুললেও পরে তা কানাডার আদালতে ‘ভিত্তিহীন’ প্রমাণিত হয়েছে। নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে তার সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বিশ্বে আরও ‘উজ্জ্বল করেছে’ বলে তিনি মন্তব্য করেন। কোভিড মহামারী সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে জীবন ও জীবিকার সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির চাকা চালু রাখতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও বক্তৃতায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা অনেক উন্নত দেশও করতে পারেনি।” মহামারীকালে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় সবাইকে নিয়ম মত মাস্ক পরারও আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর লন্ডন ও ফ্রান্স সফরে যান প্রধানমন্ত্রী। শনিবার ফ্রান্সের স্থানীয় সময় বিকালে তিনি দেশের পথে রওনা দিয়েছেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও নাগরিক সংবর্ধনায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দিয়ে প্রবাসীদের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ কাশেম। রাতদিন পরিশ্রম করে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও সভাটি সফল করার জন্য ইউরোপ ও ফ্রান্সের সকল আওয়ামী সমর্থিতদের তিনি ধন্যবাদ জানান। আগামীতে হাতে হাত রেখে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমাদের অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।প্রত্যেক নেতা-কর্মী জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাবেন। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করব। অনুষ্ঠানে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 DeshPriyo News
Designed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!