বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনার স্নেহের একজন এম এ কাশেম

 খালেদ গোলাম কিবরিয়া
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩৪০ বার
প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছেলে-মেয়ে নিয়ে এম এ কাশেম

প্রিয় নেত্রী যখন দেশে ফিরেন হাজারো কর্মী বোনের জন্য রক্ষা কবজ হিবেসে রাজপথে দাডিয়ে শ্লোগানে শ্লোগানে রাজপথ মূখরিত করে রাখে । শেখ হাসিনা ভয় নাই , আমরা আছি লক্ষ ভাই ।সেই থেকে অদ্যবদি কিছু কর্মী প্রিয় বোনের জন্য নিজের জীবন কে তুচ্ছ করে আদর্শিক মোহে দলের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন , ফ্রান্স আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি এম এ কাশেম একজন ।

৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শিবিরের ক্যান্টমেন্ট খ্যাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দলের সবচেয়ে কঠিন মূহুর্তে ছাত্রলীগের পতাকাকে সুমুন্নত রাখতে যৌবনের সোনালী স্বপ্ন গুলোকে বিকিয়ে দিয়ে চরম প্রত্যয়ে কাজ করেন । তখন থেকে পদ পদবীকে তুচ্ছ করে সাধারন কর্মীদের মন জয় করে ছাত্রলীগের কাশেম নামে চট্রগ্রাম থেকে কেন্দ্র সব জায়গায় পরিচিত লাভ করেন । নেত্রী তখন থেকেই তাঁর স্নেহের ভাইটিকে নিজের গুডবুকে রাখেন ।

জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে ১৯৮৭ সালের ১২ই নভেম্বর ফ্রান্সে আসেন । প্রবাদ আছে ‘ ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান কাঁড়ে ‘ তিনি ফ্রান্সে এসে এখানে দলের শূন্যতা অনুভব করেন এবং খুঁজে খুঁজে কিছু মুজিবাদর্শের পাগল বের করলেন যারা দলটাকে ভালবাসে কিন্তু সঠিক সংগঠকের অভাবে দলটাকে সংগঠিত করতে পারেন নি । যদিও ৭০ দশকে শেষে ও আশির দশকের প্রথমে অনেক দলমনা লোক ফ্রান্সে থিতু গেড়েছিলেন । পরে তাদের অনেকেই দলের জন্য নিবেদিত ভূমিকা পালন করেছিলেন ।

তিনি ১৯৮৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর ফ্রান্স আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটিতে সদস্য সচিবের দ্বায়িত্বে ১ নং যুগ্ম আহবায়ক এবং ১৯৮৮ সালের জানুয়ারীতে ফ্রান্স আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটিতে সাধারন সম্পাদক নির্বাচত হন । ফ্রান্স আওয়ামী লীগ গঠনে যে কয়জন তরুন গুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন তাদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম ( কাক্কু শহিদ ) , চট্রগ্রামের কিংবদন্তী মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ছোট ভাই সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী প্রমূখ । তৎকালীন দাতাদের বৈঠক প্যারিস কনসোটিয়াম নামে পরিচিত ছিল । তখন বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো দাতাদের এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে থাকতো ।

১৯৮৮ সালের ১৪ ই এপ্রিল প্যারিসে কনসোটিয়াম বৈঠকে সামরিক জান্তা এরশাদ সরকারকে সাহায্যের প্রতিবাদে ইউরোপ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সংগঠন মেট্রো ইনা’র চত্বরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করে । তখন জার্মান আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও পরবর্তীতে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি অনীল দাশ গুপ্ত , জার্মান আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল কবির ও ফরিদ আহমেদ , যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পরবর্তী সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক আবুল হাসেম , যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এম এ গনি ও তৎকালীন যুক্ত রাজ্য আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মোস্তাক কৌরেশীরবিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন তখন তাঁর প্রথম পরিচয় হয় । রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী হিসেবে চলমান থাকা অনেকই ঐ সমাবেশে যেতে ভয় পেলেও লড়াই সংগ্রামে বেড়ে উঠা এম এ কাশেম ঐ বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ফ্রান্স আওয়ামী লীগ নেতা থেকে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন । তখন থেকেই নেত্রী বিভিন্ন মারফতে তাঁকে দলকে বেগবান করতে বার্তা পাঠাতেন । তাঁর প্রতি নেত্রীর স্নেহ ভালবাসার নজির ইউরোপিয়ান আওয়ামী রাজনীতির একমাত্র ভাগ্যবান এম এ কাশেম যার বিবাহ অনুষ্ঠানে ১৯৯২ সালের ২৩ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা উপস্হিত থেকে আশির্বাদ করেন । ২০০২ তিনি পুনরায় ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করেন ফ্রান্স আওয়াম লীগের অন্যতম নেতা সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহমেদের সাথে । জোট সরকার ক্ষমতায় এসেই সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগের অগনিত নেতাকর্মীকে হত্যা , অগ্নিসংযোগ , ধর্ষন ও লুটপাট শুরু করে যা সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে । তখন এম এ কাশেমের দৃঢ নেত্বতে ফ্রান্স আওয়ামী লীগ অনেক বার দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ পালন করে । তখন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও দলীয় কর্মীদের নির্যাতনের সঠিক চিত্র তুলে ধরে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের পক্ষে ফ্রান্সের প্রথম সারির অভিবাসন আইনজীবীদের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করেন ।

১/১১ সময় নেত্রীর মুক্তির দাবীতে ফ্রান্সে কয়েকবার বিক্ষোভ সমাবেশ ও ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইউরোপিয়ান কমিশনের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে ফ্রান্স থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে অংশগ্রহন করেন । যখন কোন দ্বায়িত্বে থাকেন না তখনও সাধারন কর্মীর মত দলের প্রতিটি কর্মসূচীতে সর্বাগ্রে উপস্হিত থাকেন । তাই নেত্রীও তার প্রিয় কর্মী , স্নেহের ভাইটিকে সুসময়েও ভূলে যান নি । তাঁর প্রতি নেত্রীর স্নেহ ভালবাসার আরেকটি উদাহরণ হলো ২০১৬ সালের ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সম্মেলনের জটিলতা দুর করতে নেত্রী পরম বিজ্ঞতার পরিচয় দেন । বাড়ীর বড় বোন যখন পরিবারের কোন সমস্যায় পরিবারের সকল ভাইদের মাঝে সমাঝোতার চেষ্টা করেন ।  স্পট বাদী নেতা হিসেবে আগের ইউরোপিয়ান আওয়ামী নেতৃত্ব এম এ কাশেম কে কিছুটা দমিয়ে রাখতে চাইতেন । তারা চাইতো না এম এ কাশেম ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি হউক । নেত্রীর এখন উভয় সংকট এক দিকে শ্রদ্ধাভাজন শ্রী অনিশ দাশ গুপ্ত অন্যদিকে স্নেহভাজন এম এ কাশেম । তিনি কৌশলে বেনজির আহমেদ সেলিম কে সভাপতি ও মহসিন উদ্দিন খান লিটনকে সাধারন সম্পাদক করে একটি কমিটি এবং এম এ কাশেম কে সিনিয়ার সভাপতি ও দিলওয়ার হোসেন কয়েস কে সিনিয়ার যুগ্ম সাধারন সম্পাদক করে আরেক টি ছায়া কমিটি করে দেন । এবং সাথে সাথেই নির্দেশ দেন বেনজির আহমেদ সেলিম ও মহসিন উদ্দিন খান লিটনের অবর্তমানে এম এ কাশেম ও দিলওয়ার হোসেনের কয়েস দ্বায়িত্ব পালন করবেন । আল্লাহর কি হুকুম ফ্রান্স আওয়ামী লীগের অতন্ত্য জনপ্রিয় দুই নেতা বেনজির আহমেদ সেলিম ও মহসিন উদ্দিন খান লিটনের অকাল প্রয়ানে দলের কর্মীরা ভেঙ্গে পড়লেও প্রথম ভারপ্রাপ্ত ও পরবর্তীতে নেত্রী ভারমুক্ত করে দেওয়ার পর কর্মীরা আবারও এম এ কাশেম ও দিলওয়ার হোসেন কয়েসের নেতৃত্বে নব উদ্যোমে কাজ করছেন । প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে তারা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে উজ্জীবিত । করোনা কালীন সময়ে ফ্রান্স আওয়ামী লীগে বিভিন্ন কর্মসূচী প্রশংসার দাবীদার । এম এ কাশেম শুধু দলীয় কর্মীসূচী ও সামাজিক দ্বায়িত্বে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন নি । এখন এই বয়সেও রাত জেগে দল ও দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোড়ালো ভূমিকা পালন করেন ।

গত ১৩ অক্টোবরের কুরআন অবমাননা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের হামলার সময় হাতে গোনা যে কয়েক জন ইউরোপ থেকে সোচ্চার ছিলেন এম এ কাশেম তাদের মধ্যে অন্যতম । তিনি তার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান যুক্তি দিয়ে লিখনীর মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের উদ্দীপিত রাখেন । শুধু লিখনীর মাধ্যমেই নয় তাঁর নিজ এলাকা বেগমগঞ্জে স্মরনকালে ভয়াবহ সংখ্যালঘু নির্যাতনের সময় স্হানীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরনের নির্লপ্ত ভূমিকা স্হানীয়দের মনের ক্ষোভের সঞ্চার হলে এম এ কাশেম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাদের সাহস যোগান । চৌহমুনী পৌরসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের ভাইকে মেয়র বানানো ছাডাও বিভিন্ন কর্মকান্ডে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমান সাংসদের বিরুদ্ধে নাখোশ । তাই কর্মীদের প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার স্নেহের এম এ কাশেম কে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন পরিক্ষীত কর্মী ও প্রবাসীদের যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে মূল্যায়ন করবেন ।

লেখকঃ  খালেদ গোলাম কিবরিয়া, উপদেষ্টা সম্পাদক, দেশপ্রিয় নিউজ

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 DeshPriyo News
Designed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!