শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

ছাত্রকে বলাৎকারের পর কোরআন ছুঁইয়ে শপথ করান হেফাজত নেতা

পূর্বপশ্চিমবিডি
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১
  • ৭১০ বার
হেফাজত নেতা হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলী

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পৌর এলাকার বড়খারচর আদর্শ নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার মোহতারিম ও স্থানীয় হেফাজত নেতা হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলীর (৩৫) বিরুদ্ধে এক শিশুছাত্রকে বলাৎকার করার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। বলাৎকারের বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য ওই ছাত্রকে কোরআন শরীফ ধরিয়ে শপথনামা পাঠ করান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) রাতে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলী কুলিয়ারচর পৌর সদর এলাকার বড়খারচর আদর্শ নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার চার বছর ধরে মোহতামিমের (প্রধান শিক্ষক) দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

কুলিয়ারচর থানার ওসি (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান জানান, অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলী উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের সাবেক সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল কাদিরের ছেলে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় বুধবার (৭ এপ্রিল) রাতে নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা রুজু করেন।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল মাদ্রাসা থেকে বাড়ি আসার পর শিশুটি রহস্যজনক কারণে বেশ কিছুদিন ধরে মাদ্রাসায় যেতে চাচ্ছিলো না। এজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে মারধর ও শাসন করেও কাজ হচ্ছিল না। একপর্যায়ে শিশুটি মাদ্রাসার নাম করে তার মাকে নিয়ে থানার সামনে আসে। তার মা মনে করেন, মাদ্রাসা যাওয়া নিয়ে তাকে শাসন করায় যে হয়তো পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে চায়। এমন ভয়ে মা ছেলেকে থানার সামনে থেকে বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। বাসায় ফিরে শিশুটি তার মাকে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি আবদুস সাত্তার মাস্টারের কাছে নিয়ে যেতে বলে। তখন তার মা মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি সাত্তার মাস্টারের কাছে শিশুটিকে নিয়ে যান। এসময় কমিটির সভাপতির কাছে ছেলেটি তার সঙ্গে ওই শিক্ষকের বর্বরোচিত ঘটনার বর্ণনা দেয়। সে জানায়, ওই শিক্ষক তাকে বলাৎকার করেছে। এমনকি এ ঘটনা কাউকে না বলতে পবিত্র কোরআন ছুঁইয়ে শপথও করিয়েছে। পরে শিশুটি সভাপতিকেও তাকে থানায় নিয়ে যেতে অনুরোধ করে।

এ ব্যাপারে পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই শিশুটি জানায়, মোহতামিম ইয়াকুব আলী হুজুর গত ১ এপ্রিল গভীর রাতে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে তার কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে বলাৎকার করা হয়। পরদিন কোরআন ছুঁইয়ে বিষয়টি কাউকে না বলার শপথ পড়ানো হয় শিশুটিকে। এরপর মাদ্রাসা থেকে কাউকে না বলে সে বাড়িতে চলে আসে।

ওই মাদ্রাসায় প্রায় ৩০০ জন ছাত্র পড়াশুনা করে। আর আসামি ইয়াকুব আলী বিবাহিত। তার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, ‘ওই ছাত্র তার মাকে নিয়ে এসে আমার কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেছে। আমি আমাদের কমিটির সকল সদস্যদের নিয়ে মিটিং করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ হাসান সারওয়ার মহসিন জানান, হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলী স্থানীয় হেফাজতের একজন সক্রিয় নেতা। এমন কলঙ্কজনক ঘটনায় পৌরবাসীর পক্ষ থেকে তিনি তার কঠোর শাস্তির দাবি করেন।

এদিকে অভিযুক্ত হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ফোন বন্ধ থাকায় আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পূর্বপশ্চিমবিডি

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2022 DeshPriyo News
Designed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!