রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন

সব সরকারের সময়েই কিছু মন্ত্রী বা নেতা থাকেন, যারা হচ্ছেন ‘অটো এলার্জি’

অ্যাড. আনিসুর রহমান মিঠু
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২২
  • ২৪২ বার
অ্যাড. আনিসুর রহমান মিঠু
অ্যাড. আনিসুর রহমান মিঠুঃ অপ্রয়োজনীয় কথা, না বললেই কি নয় ?? ক্ষমতাসীন দলে থাকলে এবং নিজে মন্ত্রী থাকলে বেহেস্ত বেহেস্ত মনে হতেই পারে। কিন্তু তা প্রকাশ না করে আনন্দ গোপন রাখাই ভালো।
তাছাড়া অন্য দেশের সাথে ভালো সম্পর্ক আছে বুঝাতে গিয়ে, স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক আছে,এ ধরনের কথা হাসি-তামাশা করেও বলা উচিত না।
একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী যখন বলেন, দেশে প্রত্যেকটি মানুষ খেতে পারছে, গায়ে জামা কাপড় আছে! এ কথা সত্য হলেও নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অপমানজনক। সচেতন ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এসব কথায় কষ্ট পায়।আর এরাই কিন্তু অতি মূল্যবান ভোটার।
মন্ত্রীদের ভাবা উচিৎ তাদের কথা নিয়ে বিপক্ষদলতো বটেই, নিজ দলের লোকেরাও হাসি ঠাট্টা করতে পারেন, যা দিনশেষে দলের জন্য ক্ষতিকর হবে।
কথা বলতে না জানলে এদের উচিত জাতীয় নেতাদের কাছ থেকে গোপনে ট্রেনিং নিয়ে ক্যামেরার সামনে আসা।শিখার কোন বয়স নেই, শিখার মধ্যে লজ্জারও কিছু নেই।
সব সরকারের সময়েই কিছু মন্ত্রী বা নেতা থাকেন, যারা হচ্ছেন ‘অটো এলার্জি’। যাদের ভালো কথাতেও মানুষ বিরক্ত হয়। এদের চিন্নিত করে,বিদেশের দুতাবাসে পূনর্বাসন করলেই ভালো।
আওয়ামীলীগের এক সময় কোন্ঠাসা হয়ে পরেছিলো,সমর্থন শক্তি সবই কমে গিয়েছিলো।অবশ্যই জননেত্রী শেখ হাসিনার সাহস,ধৈর্য্য এবং দুরদর্শিতা দলকে পুনর্গঠন করেছে।
নেত্রী এবং জাতীয় নেতাদের পাশাপাশি দেশের বহু মানুষ কষ্ট করে, নিজের ছাত্র জীবন নষ্ট করে,রক্তদিয়ে,জীবন দিয়ে,জেল খেটে,নির্যাতন- অপমান সয়ে, আত্মীয় হারিয়ে,বন্ধু হারিয়ে,পিতা হারিয়ে,পুত্র হারিয়ে,পঙ্গুত্ব বরণ করে, কন্যার সম্ভ্রম হারিয়েও এ দলকে শক্ত অবস্থানে এনেছেন।
আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনতে ভূমিকা রেখেছেন বহু নির্লোভ সাংবাদিক, বহু মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী,পেশাজীবী। বারবার বিনা দোষে নির্যাতনে শিকার হয়েছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরুষও মহিলারা।আজ তাদের অপ্রয়োজনীয় মনে করা অনেক বড় নির্মমতা।
পচাত্তরের পরবর্তীতে ছাত্রলীগ করতে আসা মানুষেরা কিছু হওয়ার আশায় নয়, রাষ্ট্রীয় সুশাসন, উন্নয়ন এবং সর্বোপরি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চত করতে রাজপথে এসেছিলো।
যারা ৯০ এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করেছে, ৯৬ এর অসহযোগ আন্দোলন করেছে এবং ১/১১ এর সময়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, তাদের রাজনৈতি সতিত্ব পরিক্ষার কিছু নেই।
অনেক দুরদর্শি ব্যাবসায়ী ৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামীলীগে ঢুকে পরেছেন, কারন তারা ৯১ সালে বিএনপিতে যোগদানকারীদের সফলতা দেখেছেন।সময়ের প্রয়োজনে এদের দলে নিতেও হয়েছিলো। আজ তাদের অনেকে মন্ত্রীও বটে।
অনেকে সোনার চামুচ মুখে নিয়ে জন্ম নিয়েছেন। বিশ্বের বড় বড় দেশে ছিলেন, নগরীকত্ব নিয়েছেন।ভালো ডিগ্রী অর্জন করেছেন।তারা নিঃসন্দেহে যোগ্য লোকও বটে এবং নিজ অবস্থান থেকে দলের পক্ষে নিশ্চয়ই কাজও করেছিলেন,আর সেজন্যই এখন মন্ত্রী।
তবে জ্ঞাণী গুনি ধনী মানুষেরা,যারা কখনো সাধারণ মানুষের সাথে চলাফেরা করেননি, রাস্তার পাশে ভাংগাবেড়ার চা দোকানে চা খাননি, ধুলো উড়া রাস্তার পাশে কর্মীদের সাথে খিচুরি খাননি,কর্মীর লাশ ছুয়ে কাঁদেননি, নিজে প্রতিপক্ষের বা পুলিশের হাতে মার খাননি, কাউকে যার মার দিতেও হয়নি,কখনো মামলায় বাদী বা আসামী হননি,কখনো জেল খাটেননি, এমন নেতাদের এমপি- মন্ত্রী না বানিয়ে সচিব মর্যাদায় কাজে লাগালে দলের জন্য আরো ভালো ফল আসতে পারতো হয়তো।
বর্তমানে আমাদের দেশের বেশীরভাগ নির্বাচনী এলাকায় এক যুগের বেশী সময় ধরে কেউ কেউ এমপি।২০০৮ সালের এমপিদের মতো ভাগ্যবান, আগামী একশ বছরেও এদেশে আর কেউ হবেননা। এদেরকে অনেকেই ‘একে তিন’ বলে থাকেন। তাদের অনেকের উপরই মানুষ বিরক্ত।এদের আত্মীয় স্বজনদের উপর আরো বেশী বিরক্ত।
এ সকল এমপি সাহেবরা নিজেদের আত্নীয় স্বজনদের মধ্য থেকে বাছাই করে – মাদককারবারী,জমি দখলকারী, টেন্ডারবাজ, সালিশ ব্যাবসায়ী,চাদাবাজ-অস্ত্রবাজদের জনপ্রতিনিধি বানিয়েছেন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দায়ীত্বে বসিয়ে রেখেছেন।
এ ধরনের বিতর্কিত ‘একে তিন’ মাননীদের পরাজিত করতে বিরোধী দলের কাউকে দরকার নেই, এদের বিরুদ্ধে হিজরা দাড়ালেও জয়ী হয়ে যেতে পারে।দায়ীত্বে থেকে দীর্ঘদিন খুব কম মানুষই জনপ্রিয় থাকতে পারে।কারন তারা নিজ নিজ এলাকায় জ্ঞাতি -বংশ সহ ধনী হয়ে এখন রাজত্ব কায়েম করেছেন।তারা নিজ দলের কর্মী সমর্থক এবং জনগনের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন।
দলের পরিক্ষিত নেতা কর্মীরা নিজের চাইতে অযোগ্যদের দ্বারা শাসিত হতে দেখে ভীতরে ভীতরে মারাত্মক ক্ষ্যাপে আছেন।যা ক্ষতির কারন হতে পারে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকা নেতারা কিংবা মন্ত্রী এমপিরা কেউ উপলব্ধি করলেও নেত্রীকে এসব পরামর্শ দেননা।
আমি নিজে এমপি বা মন্ত্রী থাকলেও এসব বলার সাহস দেখাতামনা। এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়।তাই নেত্রীর প্রতি অনুরোধ, মন্ত্রী এমপি আমলা নয়, বরং ছোট নেতাদের পরামর্শ আমলে নিন।
অ্যাড. আনিসুর রহমান মিঠু,
সদস্য- তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি , বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2022 DeshPriyo News
Designed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!