রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক এবং আমার এলাকার এমপি পরাজিত হউক!!

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৬০৭ বার
অ্যাড. আনিসুর রহমান মিঠু
অ্যাড. আনিসুর রহমান মিঠুঃ নেত্রীর আগমন উপলক্ষে সারা দেশের বহু নেতা কর্মীর আগমন ঘটেছে নিউ ইয়র্কে। আমিও এসেছি গতকাল।নেত্রীর সাথে দেখা না হলেও নিজেরা নিজেরা চলছে কফির আড্ডা।
সবাই ঘুরেফিরে প্রায় একই কথা বলছেন।গত চৌদ্দবছর ধরে উনার এলাকার এমপি এবং এমপির আত্মীয় স্বজনদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কর্মীদের নানা ভাবে অপমান, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক ভাবে প্রতিভাবানদের কোনঠাসা রাখা ইত্যাদি।
তাদের কথা শুনার পর কৌশলে যখন বলি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলেই ভালো, তখনই দেখি ভিন্ন সুর! ”আরে ভাই বলেনকি ? নেত্রী অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী হতে হবে, নাহয় দেশ আফগাস্তান হয়ে যাবে”
কিন্তু তাঁর এলাকার এমপি বা এমপির কোন আত্মীয় প্রভাব দেখাবে এটা তিনি কোন ভাবেই মানবেন না। প্রয়োজনে সেখানে অন্য দলের কেউ এমপি হউক তাও ভালো!!
এ অবস্থা যে শুধুমাত্র বঞ্চিত কর্মীদেরই তাও নয়। পদ পদবী পাওয়া নেতাদেরও একই চিন্তা। তবে তারা সহযে তা প্রকাশ করেননা।
এক উপজেলা চেয়ারম্যানের দেখলাম একই অবস্থা।বললাম আপনাকেতো আপনার এমপি দুবার চেয়ারম্যান বানিয়েছেন, আপনি তাঁর পতন কেন চাচ্ছেন?
বললেন, আরে ভাই আমি নামের চেয়ারম্যান, আমার কথা দারোগা ওসি এমনকি চৌকিদারও শুনেনা।নিজের আত্মীয় ছোটাতেও এমপির ছেলে বা শালাকে দিয়ে থানায় ফোন করাতে হয়।
এক উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সভাপতিও দেখলাম অনেক দু:খ মনে। বললেন আমার মেয়ে মেয়ের জামাই বিসিএস ক্যাডার।
আমার মেয়ের বয়সী হচ্ছে স্থানীয় এমপির ছেলে, সেই ছেলে আমার মিটিংয়ে আমার পরে বক্তব্য দেয়, আমিও তার প্রসংশা করে বক্তব্য দিতে হয়।ঘরে গেলে ছেলে মেয়েরা লজ্জা দেয়।দল ছাড়তেও পারিনা, করতেও মন চায়না।
যে দুএকজকে পেলাম স্থানীয় এমপির পক্ষে কথা বলছেন, তারা হচ্ছেন সেই এমপি’র আত্মীয়। তারা আবার স্থানীয় নেতাদের খুবই অপছন্দ করেন।তাদের কথা হচ্ছে, ওগুলো দলের বদনাম ছড়ায়,কুৎসা রটনা করে, কারো ভালো দেখতে পারেনা !
তাছাড়া এমপি মন্ত্রী মানেই কালো টাকার অজানা উৎস।তাই টাকশালের উপর নিজ এলাকার কাউকে বেশী দিন দেখতে চায়না কেউ।তবে অন্য এলাকার দলীয় এমপি’র প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা।
এমপি সাহেবরা আওয়ামী লীগের মতো ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের সংগঠনকে স্থানীয় পর্যায়ে ধংস করছেন, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করার জন্য।
তারা মঞ্চে স্ত্রী, পুত্র,কন্যাকে নিজের পাশে বসিয়ে রাখেন এবং দলীয় নেতাদের দিয়ে তাদের প্রশংসা করান। যে নেতা এমপির ভাই,শালা,পুত্র, কন্যা বা ভাতিজার প্রশংসা করেননা, তাদের অবসরে পাঠিয়ে দেন।
কেন্দ্রীয় নেতারাও মনে হয় এসব দেখেও দেখেননা। তারা নিশ্চয়ই নেত্রীকে এসব অবগত করেননা।তারাও মাঝে মাঝে জেলা বা উপজেলায় গিয়ে এমপি পুত্র,কন্যা বা স্ত্রীর প্রশংসা করে আসেন।
নিউ ইয়র্কে আসা বিভিন্ন জেলার ও উপজেলার প্রভাশালী এবং গুরুত্বপূর্ন নেতাদের সাথে কথা বলে আমার মনে হলো, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪০ নয় বরং ২৪০ এমপি বদলে দিলেই ভালো হবে।
এ অবস্থার অবসানের উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিলো আরো আগে।তবে এখনো সময় পুরুপুরি শেষ হয়ে যায়নি।দলে নেত্রী ছাড়া কেউ অনিবার্য নয়।
যার পেছনে দেখা যাচ্ছে কর্মীর বিশাল বহর, দলীয় পদ থেকে তাকে বাদ দিয়ে দেখুন, এক মাসের মাথায় বাসায় চা খাওয়ানোর লোক তাদের থাকবেনা।
অ্যাড. আনিসুর রহমান মিঠু, সদস্য -তথ্য ও গবেষনা, উপকমিটি , বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2022 DeshPriyo News
Designed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!