বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

দাখিলঃ পরীক্ষার্থীরা বেশ বেপরোয়া, শিক্ষককে মারধর, কেন্দ্র সরিয়ে আনা হলো

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৮৭ বার

-মাসুক আলতাফ চৌধুরী: করোনার পর এবারের পাবলিক এসএসসি ও সমমান- দাখিল পরীক্ষা নানা ঘটন- অঘটনের মধ্য দিয়ে শেষের পথে। কুমিল্লা চকবাজার আলিয়া মাদ্রাসা দাখিল কেন্দ্রে প্রবেশে দেহ তল্লাশি করায় শিক্ষককে মারধর করে আহত করেছে পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষক কামরুল ইসলাম শিকদার মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

নকল প্রতিরোধে দেহ তল্লাশি কার্যকর সবসময়ই। পরীক্ষা শুরুর এক ঘন্টা থেকে ৪৫ মিনিট আগেই প্রধান ফটকে তল্লাশি চালান শিক্ষকরা। প্রবণতার ওপর এ কড়ারোপ কম- বেশি চলে। এবারে তল্লাশির উদ্দেশ্য ছিল পরীক্ষার্থীরা যেন বই ও মোবাইল ফোন সাথে নিতে না পারে। এসএসসি – দাখিল- সমমান সবকেন্দ্রে একই নিয়ম। এমনিতেই মাদ্রাসা পরীক্ষার্থীদের লম্বা পাঞ্জাবি সাধারণ পোশাক। তাই দেহ তল্লাশিতে কড়াকড়ি আরোপ আব্যশিক হয়ে পরে। এটি স্বাভাবিক- শৃঙ্খলা বিষয়ক শাসন, মেনে নিয়েই পরীক্ষা চলার কথা। কিন্তু কি ঘটলো – গণমাধ্যমের খবরে কি এসেছে-
সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। প্রবেশে দেহ তল্লাশির সময় বাগবিতণ্ডা শুরু করে হামলা ও বিশৃঙ্খলা চালায় পরীক্ষার্থীরা। ঘটনা এবার আরেক দিকে মোড় নেয়।আলীয়া মাদ্রাসার শিক্ষককে মারধরের খবরে ওই কেন্দ্রে আসা অন্যান্য মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের ওপর এবার চড়াও হয় আলিয়া মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ইউএনও ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছুটে গিয়ে বুঝিয়ে শান্ত রাখে পরিবেশ। এভাবে পরীক্ষা নেয়া শেষ হয়। পরীক্ষার পর শাসনের পালা। মারামারির অভিযোগে ছয় পরীক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসকের অফিসে এনে মুচলেকা রেখে অভিভাবক ডেকে বাড়িতে পাঠানো হয়।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত চিন্তা করে কোন বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেয়া হয় নি।
তবে কেন্দ্র সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। কেন্দ্র সরিয়ে কুমিল্লা ইউসুফ স্কুলে আনা হয়েছে। এতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা এড়াতে ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা শেষ করতে নেয়া এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। বদলি কেন্দ্রে ইউসুফ স্কুলের শিক্ষক ছাড়াও জিলা স্কুল ও ফয়জুন্নেছা স্কুলের শিক্ষকরা বাকি পরীক্ষা নিচ্ছেন।

করোনায় বয়সে বড় হয়ে পরেছে শিক্ষার্থীরা। কলেজের বেপরোয়া আচরণ তাদের পেয়ে বসেছে। করোনাকালে শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশের নিবিড় পরিচর্যা বঞ্চিত থাকায় হয়তো তারা এতোটা বেপরোয়া হয়ে পরেছে। না মানার প্রবণতা এমনিতেও বেড়েছে। আদি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিবার স্বমহিমায় সোহাগ- শাসনে নিজ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকুক আগের মতো এটাই প্রত্যাশা সবার। আসুন পরিবারকে পরিচর্যা করি প্রত্যেকে।

লেখকঃসাংবাদিক । কুমিল্লা ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ বৃহস্পতিবার।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2022 DeshPriyo News
Designed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!