বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

ডাক্তারদের ঝামেলা। মানুষতো ঝামেলা বাঁধবেই। বাঁধা স্বাভাবিক

মাসুক আলতাফ চৌধুরী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৪৬ বার

।। মাসুক আলতাফ চৌধুরী।।অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মিমাংসাই ভালো, ডাক্তারদের সেবা পেতে চাই

ডাক্তারদের ঝামেলা। মানুষতো ঝামেলা বাঁধবেই। বাঁধা স্বাভাবিক। আমরা সেবা চাই। তারাও মানুষ। রাগ-ক্ষোভ, অভিমান-যন্ত্রনা সবারই হয়। কেটেও যায়। ডাক্তারদের কাজটা আমাদের নয়, আমরা পারিও না। লনেজ যদি ক্ষমতা হয় তবে মানতে সমস্যা কি। যে জানে,পারে -তাকে মানতেই হবে। তবে ঘটনার পাত্র-পাত্রী তারাই। তাই সময় নিচ্ছে। সেয়ানে সেয়ানে লড়াই বাঁধলে একটু বেগতিক হয়, হয়েছেও। নিছক বারাবাড়ি মনে হয়েছে,কোন এক পক্ষের, বা দু’ পক্ষেরই। এখন মেনে নেয়ার পালা। মিমাংসা হয়েছে- মানাই শ্রেয়। তারপরও কষ্ট থেকে গেলে আলোচনা চলুক। আলোচনাতেই সমাধান খোঁজা সব পক্ষের জন্যে মঙ্গল। অগ্রগামী নাগরিকদের দায়িত্বশীল হতে হয়। অন্যরা জেনে,দেখে,শিখে। সহনশীলতাই কাম্য। পরামর্শকদের পরামর্শ দেয়া সবসময় শোভন নয়।

তুফান সিত্রাং বয়ে গেছে সোমবার ২৪ অক্টোবর রাতে। আর দিনের বেলা কুমিল্লা মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা পালন করে কর্মবিরতি। অভিযোগ মেডিসিন বিভাগের এক সহকারী অধ্যাপক ইন্টার্ন নারী চিকিৎসককে ভুলের মাসুলে পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছেন। ঘটনা আরও ১৫ দিন আগের। জানাজানি হতে সময় লেগেছে। সাথে সাথে প্রতিবাদ হলো না কেন। দিন গড়িয়েছে। ডাল- পালা ছড়িয়েছে। কমিউনিটির গাঁয়ে লেগেছে। তারা এক হয়েছে। রবিবার ২৩ অক্টোবর। হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত দাবি জানিয়ে ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়ে পরদিন সোমবার কর্মবিরতিতে যায় ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। কি দাবি – ওই সহকারী অধ্যাপকের অপসারণ। আগামী মাসেই ওই চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ শেষ হওয়ার কথা।

কর্মবিরতি হওয়ায় পরদিন সংবাদ হয়েছে। রাতে সাইক্লোন হানা দেয়ায় সাংবাদিকরা ব্যস্ত হয়ে পরেন দুপুর থেকেই।তাই ব্যাপক খবর ছড়ায় নি। মূখ্য হয়ে ওঠে সাইক্লোনের খবর।

অভিযোগ কি। ওই সহকারী অধ্যাপক একজন রোগীকে রেফার করেন। ইমারজেন্সী মেডিকেল অফিসার ভর্তি লিখে দিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠান। ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি না করিয়ে চিকিৎসা লিখে দেন। ওই অধ্যাপক পরদিন মেডিসিন বিভাগের প্রধানকে বিষয়টি জানান। ওই ওয়ার্ডের ইউনিট প্রধান জানান, ওই নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক এই কাজটি করেছেন। এরপর শিক্ষক সুলভ আচরণে ক্ষমা চাইতে বলেন বিভাগীয় প্রধান।

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, ওই সহকারী অধ্যাপকের চেম্বার থেকে পাঠানো রোগী ডায়াবেটিক ফুটে আক্রান্ত ছিলেন। তাই নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক তাকে সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তির জন্যে পাঠান। এতেই ক্ষেপে যান মেডিসিন বিভাগের ওই সহকারী অধ্যাপক। রোগীকে নিজের কাছেই রাখতে চেয়েছিলেন। দু’পক্ষের পরস্পর বিরোধী অভিযোগ।

ওই সহকারী অধ্যাপকের দাবী তিনি ওই ইন্টার্ন চিকিৎসককে পা ধরতে দেন নি। আর তিনিতো পা ধরে ক্ষমা চাইতে বলেন নি। এটা তার দাবীও ছিল না। তিনি বিভাগীয় প্রধানকে বিচার দিয়েছেন। ঘটনা জানিয়েছেন।

অভিযোগের সত্য- মিথ্যা যাচাই করা যায় নি। তবে পরে লেখা মামলার বর্ণনা সবসময় তদন্তের দাবী রাখে। সত্য হলেও।

এদিকে লিখিত পেয়ে কর্মবিরতীর দিনই মিমাংসায় বসেন চিকিৎসক কর্তৃপক্ষ ও নেতারা। মিমাংসাও হয়। বিষয়টির সুন্দর পরিসমাপ্তি ঘটেছে গণমাধ্যমকে জানতে চাওয়ায় তাই জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, মিমাংসার পরদিন মঙ্গলবার থেকে তারা কাজে যোগ দিলেও, সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবী ওই সহকারী অধ্যাপককে পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ করতে হবে। না হলে তারা নতুন কর্মসূচি দেবে। তবে মিমাংসার পর থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতির সাথে আর যোগাযোগ মিলছে না সাংবাদিকদের। তাই ওই কয়েকজনের দাবীর সত্যতাও পাওয়া যাচ্ছে না।

তাঁদের ক্ষোভ- কষ্ট না গেলে তারওতো একটা সমাধান হওয়া চাই। দোষ বিবেচনায় মিমাংসা, না হলে ব্যবস্থা। এটাইতো সাধারণত হয়। এরপরও কর্তৃপক্ষের কথাতেই আশ্বস্থ থাকতে চাই- ‘মিমাংসাতো হয়েই গেছে।’ তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুন্দর সমাপ্তিই সবমহলের কাম্য। পক্ষতা অহেতুক রেষারেষি বাড়ায়। সত্য- মিথ্যার গল্প ছড়ায়।

লেখকঃ সাংবাদিক। সাবেক সভাপতি – কুমিল্লা প্রেসক্লাব।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2022 DeshPriyo News
Designed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!