বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন

খাদ্য ও জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে: বিশ্বব্যাংক

আমাদের সময়
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৮৮ বার

উন্নয়নশীল বিশ্বের সংকোচনশীল মুদ্রার মান উচ্চহারে বাড়াবে খাদ্য ও জ্বালানির দাম। পণ্যবাজারের এমন পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও জ্বালানি সংকটকে তীব্রতর করতে পারে। ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দেশই এ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। গত বুধবার বিশ্বব্যাংকের প্রকাশ করা সর্বশেষ ‘কমিউডিটি মার্কেট আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, বিশ্ব মন্দার উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ববাজারে বেশিরভাগ পণ্যের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পর থেকে গত মাসের শেষ পর্যন্ত মার্কিন ডলারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। তবে মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে ৬০ শতাংশ তেল আমদানিকারী বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই সময়ে দেশীয় মুদ্রায় তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, স্থানীয় বাজারে জ্বালানি পণ্যের উচ্চমূল্য কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে খাদ্যের দাম বাড়িয়েছে। ২০২২ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যপণ্যের মুল্যস্ফীতি গড়ে ২০ শতাংশের বেশি ছিল। লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা, সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়াসহ অন্যান্য অঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি গড়ে ১২ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে ছিল। তবে চালের দাম স্থিতিশীল থাকার কারণে পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরই একমাত্র অঞ্চল, যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কম ছিল।

বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট পাবলো সাভেদ্রার মতে, বেশির ভাগ দেশেই পণ্যের দাম বাড়লেও বর্তমানে কমেছে। তবে এই কমার হার গত পাঁচ বছরে গড় স্তরের তুলনায় অনেক বেশি। এই বিষয়টি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার চ্যালেঞ্জকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। এ অবস্থায় খাদ্য সরবরাহকে উৎসাহিত করতে ও বিতরণের সুবিধার্থে এবং প্রকৃত আয়কে সমর্থন করার জন্য নীতিগুলোর একটি বিন্যাস প্রয়োজন।

পাবলো সাভেদ্রা জানান, ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিদ্যুতের দাম বেশ অস্থির ছিল। তবে ধীরে ধীরে বিদ্যুতের দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি বছরে বিদ্যুতের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও ২০২৩ সালে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১১ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে অনুমান করা হয়েছে। এই ১১ শতাংশ কমার পরও ২০২৩ সালে বিদ্যুতের দাম গত পাঁচ বছরের তুলনায় গড়ে ৭৫ শতাংশ বেশি হবে।

বিশ্বব্যাংকের এ ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ২০২৩ সালে অপরিশোধিত তেলের দাম গড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ ডলার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যা পাঁচ বছরের গড় থেকেও বেশি। প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার দাম ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে হ্রাসের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে ২০২৪ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান কয়লা এবং মার্কিন প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বিগত পাঁচ বছরে তাদের গড় দামের দ্বিগুণ হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় চার গুণ বেশি হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্ট গ্রুপের পরিচালক এবং ইএফআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোস জানান, পণ্যের উচ্চমূল্য এবং ক্রমাগত মুদ্রার অবমূল্যায়নের সমন্বয় অনেক দেশ উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির সম্মুখীন হচ্ছে। উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির নীতিনির্ধারকদের কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি চক্র পরিচালনা করার জন্য সীমিত জায়গা রয়েছে। তাদের আর্থিক এবং রাজস্ব নীতিগুলো সাবধানতার সঙ্গে অবলম্বন করতে হবে। তিনি জানান, আগামী বছর কৃষিপণ্যের দাম ৫ শতাংশ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে গমের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। তবে এক বছর আগের তুলনায় তা ২৪ শতাংশ বেশি রয়েছে। ২০২৩ সালে কৃষিপণ্যের দামের হ্রাস একটি ভালো বার্তা দেয়। ২০২৩ সালে ধাতুর দাম ১৫ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে অনুমান করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্ট গ্রুপের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জন ব্যাফেস জানান, কৃষিপণ্যের মূল্যহ্রাসের পূর্বাভাস ঝুঁঁকির বিষয়। প্রথমত, ইউক্রেন বা রাশিয়ার রপ্তানিতে ব্যাঘাত আবার বিশ্বব্যাপী শস্য সরবরাহে বাধা দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, জ্বালানির দামের অতিরিক্ত বৃদ্ধি শস্য এবং ভোজ্যতেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তৃতীয়ত, প্রতিকূল আবহাওয়ার ধরন ফলন কমাতে পারে। ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2022 DeshPriyo News
Designed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!