বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন

মহাসমাবেশ ঘিরে কুমিল্লা বিএনপির সবাই মাঠে, বেশ চাঙা

মাসুক আলতাফ চৌধুরী।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৪৪ বার

।। মাসুক আলতাফ চৌধুরী, কুমিল্লা, মহাসমাবেশ ঘিরে কুমিল্লা বিএনপির সবাই মাঠে, বেশ চাঙা

কুমিল্লা বিএনপিতেও জোয়ার বইছে, সারা দেশের মতোই। তৃণমূল বেশ চাঙা। তারা সাধারণ জনতা। সবসময়ই দল- দেশের খোঁজ-খবর রাখেন। তাদের সাথে উপজেলা-জেলা নেতাদের যোগাযোগ কম কম ছিল। দলও ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে চলছিল। সাম্প্রতিক আন্দোলনে দল ফুরফুরা মেজাজ পেয়েছে। একটা নির্বাচন- যেখানে ভোট দেয়া যাবে, এমন আশায় আন্দোলন চলছে। এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ হচ্ছে। তারপরও বেশ কয়েকজন দলীয় নেতা- কর্মী পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। নির্বাচন সময়ের নির্দলীয় সরকারকে প্রধান রেখে নানা ইস্যুতে আন্দোলন চলমান।

কুমিল্লা বিএনপি মূলত সাক্কু এবং ইয়াছিন দুই ধারায় বিভক্ত। মনিরুল হক সাক্কু এতোদিন মেয়র থাকায় তিনি দল করেছেন- করতে হয় বলে। গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করায় বহিস্কৃত হন। এখন আসন্ন সংসদ নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এই দলেই বেড়ে উঠেছেন। অন্য কোন দল করেন নি। দলের বিভিন্ন পদবিতে দায়িত্বে ছিলেন। বাবা রাজনীতিক ছিলেন। ছিলেন প্রয়াত মন্ত্রী কর্নেল(অবঃ) হোসেনের মামাতো ভাই ঘনিষ্ট সহচর । এখন প্রয়াত আকবর পক্ষেরই নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আমিন উর রশিদ ইয়াছিন দলের এখনকার মূলক কান্ডারী। দীর্ঘদিন দল করছেন। সদর দক্ষিণের এমপিও হয়েছিলেন। দুঃসময়ে দলকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। যেমন রাবেয়া চৌধুরী এরশাদের শাসনামলে দল বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। এখন বয়সের ভারে চলাফেরা করতে পারেন না। শুরু থেকেই দলে আছেন, সবার শ্রদ্ধেয়- রাবেয়া আপা।

সাম্প্রতিক আন্দোলনে কুমিল্লা বিএনপি ওই মূলধারায় এখন বেশ চাঙা। প্রতিষ্ঠাকালীন নেতারাসহ পুরনোরা আবার চলে ফিরেছেন। মহানগর, জেলা,উপজেলায়ও একই সুবাতাস। তৃণমূলেও সবাই ভিড়ছেন। আগে উদ্যোগ ছিলো না। আবার অধিকাংশই দ্বিধাদ্বন্দ্বেও ছিলেন। সব কাটিয়ে এখন এক হচ্ছেন। রাজনীতির পরিবেশ এসেছে- এমনটা মনে করছেন। পুলিশী ঝামেলা তেমন নেই। সহাবস্থানের রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরছে। ক্ষমতাসীনদের সহনশীলতা বেড়েছে। আবার নির্বাচনী আমেজ নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করছে- ক্ষমতার আশা,পরিবর্তন।

আর তাই কুমিল্লার ২৬ নভেম্বর টাউন হলের মহাসমাবেশকে ঘিরে পুরনো নেতা-কর্মীদের ভীড় চোখে পড়ছে। তাদের মধ্যে শাহ মোঃ সেলিমকে মিছিলে দেখে দারুণ খুশি নেতা-কর্মীরা। রাবেয়া আপার সেকেন্ডম্যান ছিলেন শাহ সেলিম। ভিক্টোরিয়া কলেজের বেশ ক’জন নেতাও এখন সক্রিয়। দলে ফিরেছেন। বাকীদের কাছে টানার উদ্যোগও অব্যাহত আছে।

পেশাজীবিদের মধ্যে-আইনজীবীরা -জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানার এতেদিন সক্রিয় ছিলেন। সাক্কুর ছোট ভাই এডভোকেট কাইমুল হক রিংকু এর কাণ্ডারী। আরেক পক্ষও এখন সক্রিয়। এডভোকেট তাইফুর আলম ও আলী আক্কাসের নেতৃত্বে তারা মাঠে রয়েছেন। পুরানোদের ভীড় সেখানেও চোখে পড়ছে।

ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ড্যাব আলাদা ব্যানারে বেশ তৎপর না হলেও পেশাজীবীদের ব্যানারে ডাঃ হেদায়েত উল্লাহ, ইকবাল আনোয়ারদের দেখে শক্তি পাচ্ছেন দলীয়রা।

শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা এখনও চোখে পড়ার মতো হয়ে ওঠেনি। কমিটি আছে, তারপরও সংস্কৃতি কর্মীদের আনাগোনা এখনও কম। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা জামিল আহমেদ খন্দকার এখনও নিশ্চুপ। মহিলা দলেরও পৃথক স্বতন্ত্র অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। তবে তারা সক্রিয়, তৃণমূলে কাজ করছেন এমন দাবী করা হয়েছে।

ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল মূলশক্তি। তারা প্রতিদিনই কোন না কোন কর্মসূচিতে ব্যস্ত। মূল দলীয় ধারার নেতৃত্ব এখন ইয়াছিনের কাছেই। তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীও। তিনি শিল্পপতি, স্বতন্ত্র ধাঁচের রপ্তানিকারক। তাঁর ব্যবসায়িক সুনাম রয়েছে। ব্যবসার আয় রাজনীতিতে খরচ করেন- তাই একটা ক্লিন ইমেজের অধিকারী।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দুই নেতা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করায় বহিষ্কৃত মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার এখন দলে ফেরার অপেক্ষায়। কায়সার ইয়াছিন পক্ষের সেকেন্ডম্যান। ইয়াছিনের শ্যালক। তাঁরাই কুমিল্লা বিএনপির প্রাণভোমরা। তাদের সাথে একই কারনে বহিষ্কৃত ইয়াছিন পক্ষের অপর নয় নেতাও দলে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তবে তারা কেউই থেমে নেই। দলীয় আন্দোলনে সবসময়ই সক্রিয়।

অপর পক্ষ মোস্তাক মিয়া দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে আছেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। দলে সবসময়ই সক্রিয়। তিনি এখন স্বতন্ত্র ধারায় চলছেন।

আমিরুজ্জামান আমিরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারেও আবেদন হয়েছে। তিনি সবসময়ই দলে সক্রিয়, বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। এখন আবার মাঠে- মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বহিষ্কৃতরা সবাই আশাবাদী। তাদের বহিষ্কার প্রত্যাহার হবে। অপেক্ষা শুধু সময়ের। না হলেও তারা রাজনীতি করছেন,করবেন। দল করলে বিএনপিই করবেন। দলীয় আনুগত্যে ‘ভুল হয়েছে’ প্রকাশ্যে এমন কথাও জানিয়েছেন। দল আগে,সব পরে। এমন নীতি হওয়ায় একটা ঢল নেমেছে। যে শক্তি থেকে তারা বলছেন, কুমিল্লার সমাবেশেও জনতার ঢল নামবে। জনসমুদ্র হবে টাউন হল।

লেখকঃ সাংবাদিক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2022 DeshPriyo News
Designed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!