বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

স্ত্রীকে নিয়ে বিলাসবহুল ভবনে ছেলে,বাবার ঠাই মুরগির খামারে

কুমিল্লার কাগজ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৭৬ বার

কুমিল্লার কাগজ, কুমিল্লার লাকসাম পৌর এলাকার ব্যবসায়ী সামছুল হক তার স্ত্রী শাহিদা আক্তারকে নিয়ে থাকেন পাঁচতলা ভবনে। ‘হক মঞ্জিল’ নামের ওই ভবনের তিনতলায় বসবাস তাদের। অথচ অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে ফেলে রেখেছেন ভবনের ছাদে মুরগী খামারে সঙ্গে ছোট্ট টিনের ঘরে। সে ঘরে  চটের বিছানায় শুয়ে-বসে সময় কাটে তার। ময়লা, দুর্গন্ধ, মশার কামড় জুটে কপালে, খাবারও খেতে হয় এই নোংরা পরিবেশে। ছেঁড়া কাপড় জড়িয়ে কোনো রকম বেঁচে আছেন জেলার লাকসাম পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে কলেজে রোড ও পশ্চিমগাও পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা ইয়াকুব আলী (৮০)। একসময় যে পিতা তাঁর ছেলেকে কোলে-পিঠে নিয়ে বড় করেছিলেন, আজ তিনি নিজেই উপেক্ষিত। সন্তানরা বড় হয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পাকা দালান ঘরে সাজানো বিছানায় ঘুমালেও বৃদ্ধ পিতাকে থাকতে হয় ভবনের ছাদে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বুকভরা কষ্টগুলোও বলতে পারছেন না। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত শামসুল হক ছাড়াও ইয়াকুব আলীর আরও এক ছেলে এবং পাঁচ মেয়ে রয়েছেন। বাবার সম্পত্তির ভাগ বুঝে নিয়ে যে যার মতো সংসার করছেন। অসহায় বাবার খবর রাখেন না কেউ। ছোট ছেলে প্রবাসে তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন। মেয়েদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়েই বড় ছেলের বাড়ির ছাদে চরম অবহেলায় দিন কাটাচ্ছেন ইয়াকুব আলী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা কান্দিরপাড় ইউনিয়ন ছঁনগাও গ্রামের নিজ বাড়ীতে স্ত্রী ও ২ ছেলে- ৫ মেয়ে নিয়ে থাকতেন বৃদ্ধ ইয়াকুব আলী (৮০)। ২০০৬ সালে তার স্ত্রী মৃত্যুর পর অসুস্থ হয়ে পড়েন ইয়াকুব আলী। বড় ছেলে সামছুল হক ২০০৭ সালে লাকসাম পৌরসভার পশ্চিমগাঁও পুরান বাজার এলাকায় ৭ শতক সম্পত্তির মধ্যে ‘হক মঞ্জিল’ নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। ছেলে সামছুল হক ভবনের তিনতলায় স্ত্রী ও সন্তানদেরকে নিয়ে থাকেন। পাঁচ তলা ভবনের ছাদের ওপর একটি টিনের ঘরে রাখছেন তার বৃদ্ধ বাবাকে। ঘরের একপাশে মুরগী খামার অপর পাশে বস্ত্রহীন অবস্থায় পড়ে আছেন বৃদ্ধ ইয়াকুব আলী। চটের বিছানার আশপাশ দুর্গন্ধ ও ব্রয়লার মুরগীর ময়লা।
বৃদ্ধকে অবহেলার খবর পেয়ে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা খাতুন রোবার (২০ নভেম্বর) ঘটনাস্থলে যান। তিনি শামসুল হককে এক দিনের মধ্যে তার বাবাকে বাড়িতে নিয়ে যত্নে রাখার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা মতিন বলেন, বৃদ্ধ বাবাকে এখান থেকে তাদের বাসায় নিয়ে আসার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। যদি তারা দায়িত্ব পালন না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শামছুল হক বলেন, আমার বাবার মাথায় সমস্যা; ঠিকমতো কাপড় পরেন না। কোনোভাবেই ডাক্তারের কাছে নেওয়া যায় না। তাই তাকে সেখানে রাখা হয়েছে। তবে এখন থেকে পিতার প্রতি যত্নবান হবেন বলে জানান তিনি।
শাসছুল হকের স্ত্রী শাহিদা আক্তার বলেন, আমার শ্বশুর দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ। তাঁর মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর থেকে সার্বক্ষণিক ওষুধ ও দেখভাল করে আসছি। গত ১/২ মাস ধরে বাবাকে এখানে রাখা হয়েছে। এর আগে আমাদের সাথে রুমে থাকতেন তিনি। তা ছাড়া তাঁকে ঘরের মধ্যে রাখা যায় না, মাথায় সমস্যার কারণে সব কিছু ওলট-পালট করেন।
লাকসাম পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আবু সায়েদ বাচ্চু বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ওই বৃদ্ধকে প্রায়ই এলাকায় দেখতাম। গত কয়েক মাস ধরে দেখি না। তার ছেলে সন্তানরা থাকার পরও নিজ বাড়ির ছাদে বসবাস খুবই দুঃখজনক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2022 DeshPriyo News
Designed By SSD Networks Limited
error: Content is protected !!